চুল রিবল্ডিং করার খুঁটিনাটি

নিত্য নতুন ফ্যাশানের ট্রেন্ড পরিবর্তনের সাথে সাথে অনেক কিছুরই পরিবর্তন হয়। আর এরই সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে অনেকেই নিজের ঢেউ খেলানো কিংবা কোঁকড়া চুলগুলো রিবন্ডিং করে স্ট্রেইট করে ফেলেন।

স্ট্রেইট চুল বর্তমানের ফ্যাশনে অনেক বেশি চলছে। এর সুবিধা হলো খুব সামান্যতেই চুল গুছিয়ে রাখা যায় এবং দেখতেও বেশ ভালো লাগে। চুল রিবন্ডিং আপাত দৃষ্টিতে বেশ ভালো মনে হলেও এটি হতে পারে চুলের মারাত্মক ক্ষতির কারণ। চুল রিবন্ডিং করার পর চুলের বেশ ভালো যত্ন না নিলে চুলের মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই চুল রিবন্ডিংএর ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিষয় রয়েছে যা মাথায় রাখা বেশ জরুরী। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক চুল রিবন্ডিংএর জরুরী বিষয়গুলো।

 

চুল রিবন্ডিং করতে প্রয়োজনীয় উপকরণঃ

১। ক্রিম সফটনার বা রিলাক্সেন্ট(চুলের বন্ধন মুক্ত করার জন্য)

২। নিউট্রালাইজার (চুলের বন্ধন সোজা করার জন্য)

 

চুল রিবন্ডিং করার পদ্ধতিঃ

১। প্রথমে মৃদু শ্যাম্পু দিয়া চুল পরিষ্কার করতে হবে।

২। এরপর চুলের গোড়ার থেকে কিছু মিলিমিটার উপরে সফটনার বা রিলাক্সেন্ট প্রয়োগ করে ত্রিশ মিনিট রাখতে হবে।

৩। এবার স্টিম আয়রন দিয়া চুলে বন্ধনগুলি মুক্ত করুন।

৪। এখন চুল থেকে ক্রিম ধুয়ে ফেলতে হবে।

৫। এরপর চুল কয়েকভাগে বিভক্ত করে সোজা করুন।

৬। নিউট্রালাইজার দিয়ে চুলের বন্ধনগুলো আবার নতুন করে সজ্জিত করতে হবে।

৭। এখন চুল থেকে নিউট্রালাইজার ধুয়ে চুল নিলেই হয়ে যাবে।

এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি করতে পাঁচ থেকে ছয় ঘন্টা সময় লাগে। যদি সঠিক পরিচর্যা নেওয়া হয় তাহলে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নিরাপদ কিন্ত কারো কারো রাসায়নিক এলার্জি থাকে। তাই রিবন্ডিংয়ের আগে পরীক্ষা করে নিলে ভালো হয়।

চুল রিবন্ডিংয়ের পরের ৩ দিনের পরিচর্যাঃ

১। রিবন্ডিং প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাওয়ার পর চুল যেন না ভেজে সেই ব্যাপারে খুব সাবধান থাকতে হবে। অন্তট তিন দিন চুল না ভেজানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। এই তিন দিনে রাসায়নিক পদার্থগুলো চুলের গভীরে প্রবেশ করে বন্ধনকে আরো বেশিদিন দীর্ঘস্থায়ী করে।

২। চুল রিবন্ডিংয়ের পর না ভেজানোর পাশাপাশি আরেকটি গুরত্বপূর্ণ তথ্য হলো চুল না বাঁধা। তিন দিন পর্যন্ত চুল খোলা রাখতে হবে। এমনকি কানের পাশের চুলও আটকানো চলবে না।

৩। এই তিন দিন ঘুমানোর সময় খুব সচেতন থাকতে হবে। সবার সময় চুল বিছানার উপর মেলে মাটির দিকে ঝুলিয়ে দিতে হবে। চুল যাতে বিছানায় ফেঁসে না থাকে সেই দিকে নজর রাখতে হবে।

৪। তিন দিন পর থেকে নামি ব্র্যান্ডের ভালো শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে। শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার যেন একই কোম্পানির হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। পাঁচ মিনিট ধরে চুলের যোগ পর্যন্ত কন্ডিশনার ব্যবহার কররুন। এরপর চুল ভালো ভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে যাতে রাসায়নিক পদার্থগুলোর কোনো অবশিষ্ট অংশ লেগে না থাকে।

 

রিবন্ডিং করা চুলের যত্নঃ

১। চুল রিবন্ডিং করার পরবর্তী কিছু দিন বেশ গুরুত্বপূর্ণ সময়। কারণ এই সময় ঠিক মতো চুল সেট না হলে রিবন্ডিংও বেশিদিন থাকবে না এবং চুলেরও বেশ বড় ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

২। গরম কালে অর্থাৎ এই সময় চুল রিবন্ডিং করালে আলাদা করে বিশেষ যত্ন নেয়া জরুরী। বেশ ভালো ব্যান্ডের শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে। প্রয়োজনে রিবন্ডিং চুলের জন্য যে আলাদা ধরণের শ্যাম্পু পাওয়া যায় তা ব্যবহার করতে হবে।

৩। এই আবহাওয়ায় রিবন্ডেড চুল একেবারেই খোলা রাখা যাবে না। বাইরে বেরুতে হলে অবশ্যই চুল ঢেকে বের হতে হবে। কারন সূর্যের আলোয় রিবন্ডেড চুল খুব দ্রুত ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

৪। চুল রিবন্ডিং করার পর যতো ভাবেই যত্ন নেন না কেন চুল পড়বেই। এবং চুলের মাঝ থেকে ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনাও দেখা যাবে। কারণ যেসকল কেমিক্যাল ব্যবহার করে চুল রিবন্ডিং করা হয় তা চুলের গোঁড়া নরম করে দেয় এবং চুলের ফলিকল দুর্বল করে ফেলে।

৫। চুল রিবন্ডিং এর পরে অবশ্যই পার্লারের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক চুলের প্রোটিন প্যাক এবং হেয়ার সেরাম নিয়মিত লাগাতে হবে। এতে করে চুলের কম ক্ষতি হবে। চুলের ফলিকল খুব বেশি দুর্বল হবে না।

৬। বাসায় প্রোটিন প্যাক বানিয়ে চুলে লাগাতে পারেন। ১ টি কলা, ১ টি ডিম, ৫ টেবিল চামচ টক দই ব্লেন্ডারে দিয়ে ভালো করে ব্লেন্ড করে নিন। এরপর এই প্যাকটি চুলে দিয়ে রাখবেন আধা ঘণ্টা। এতে চুল পুষ্টি পাবে।

 

সূত্রঃ google

মন্তব্যসমূহ

কল্পবিলাসী আমি বাস্তবতা থেকে অজ্ঞাত নই। আমি সেই বিহঙ্গিনী যে ডানা ভর্তি ভালোবাসা নিয়ে পাখা মেলতে চাই চিলের সাথে সুদূর আকাশে.. ডানা ঝাপটিয়ে লিখে যেতে চাই স্বরচিত কল্পকথা ও মুক্তির মন্ত্র I

মন্তব্য করুন