গলানো জলপাই এর মিষ্টি আচার

গলানো জলপাই এর মিষ্টি আচার

আমাদের দেশের জনপ্রিয় খাবার গুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে এই জলপাই আচার। গরম গরম সাদা ভাত কংবা খিচুড়ির সঙ্গে তো বটেই, অনেকে শুধু শুধু জলপাই আচার খেতেও খুবই পছন্দ করেন। বিশেষ করে বাচ্চাদের তো জলপাই আচার খুবই পছন্দ। একারণেই বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের জলপাই আচার কিনতে পাওয়া যায়। তবে সব সময় কিন্তু এই সব দোকানের জলপাই আচার স্বাস্থ্য সম্মত হয় না। সেক্ষেত্রে আপনি যদি বাসাতেই জলপাই আচার বানিয়ে নিতে পারেন তাহলে খুবই ভাল হয়।

আমাদের মধ্যে অনেকেই ভেবে থাকি যে বাসায় জলপাই এর আচার বানানো বোধ হয় অনেক কঠিন একটা কাজ। কিন্তু আসলে ব্যাপারটা মোটেও তা নয়। আপনি চাইলে বাসায় বসে খুব কম সময়ের মধ্যেই জলপাই এর আচার বানাতে পারবেন। আর এই জলপাই এর আচার বানাতে খুব বেশি পরিশ্রম করারও দরকার হবে না। কারণ কিছু কিছু জলপাই এর আচারের রেসিপি অনেক সহজে বানানো সম্ভব। আজ আমি সেরকমই একটি জলপাই আচারের রেসিপি আপনাদের সাথে শেয়ার করব। এই রেসিপিটি হচ্ছে গলানো জলপাই এর মিষ্টি আচার। এটি বানাতে সময় লাগবে একদম্মই কম। আর সেই সাথে খুব কম উপকরণ দিয়েই এটি বানানো সম্ভব। কিন্তু এত সহজ ও সময় সাশ্রয়ী এই আচার খেতে কিন্তু খুবই টেস্টি। আপনি একবার কষ্ট করে বাসায় এই জলপাই এর আচার বানিয়েই দেখুন না। ছোট বড় সকলেই আঙ্গুল চেটে এই গলানো জলপাই এর মিষ্টী আচার খেতে শুরু করবে।

গলানো জলপাই এর মিষ্টি আচার বানাতে খুব কম উপকরণের দরকার হবে। আর এই সকল উপকরণ সব সময় প্রায় আমাদের হাতের নাগালেই থাকে। তবে এই আচারটি একাধিক ধাপে বানাতে হয়। এই যেমন জলপাই সিদ্ধ করা, সিদ্ধ জলপাই বেটে নেয়া, তারপর আবার এই বেটে নেয়া জলপাইকে বিভিন্ন মশলা দিয়ে কষিয়ে নেয়া ইত্যাদি। তবে আপনি যদি সব কিছু গুছিয়ে কাজ শুরু করতে পারেন এত রকম ধাপ সত্ত্বেও এই জলপাই আচার খুব জলদিই রান্না করে ফেলতে পারবেন। আসুন গলানো জলপাই আচার বানাবার ধাপ সমূহ ও উপকরণ সমূহের নাম ও পরিমাণ জেনে নেয়া যাক।

গলানো জলপাই এর মিষ্টি আচার বানাতে যা যা লাগবে

  • জলপাই ১ কেজি
  • পানি পরিমাণ মত
  • লবন পরিমাণ মত
  • হলুদ গুড়া ১ চা চামচ
  • সরিষার তেল ১ কাপ
  • সরিষা বাটা ২ টেবিল চামচ
  • আদা বাটা ১ টেবিল চামচ
  • রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ
  • চিনি ১ কাপ
  • আস্ত তেজপাতা ১ থেকে ২টি
  • আস্ত পাঁচফোড়ন ১ চা চামচ
  • আস্ত মৌরি ১ চা চামচ
  • আস্ত ধনে ১ চা চামচ
  • ভিনেগার ১/২ কাপ
  • লাল মরিচ গুড়া ১ চা চামচ

গলানো জলপাই এর মিষ্টি আচার বানাবার ধাপ সমূহ

১ম ধাপ

যে কোন আচার বানাবার আগে যে বয়ামে আচারটি রাখতে হবে সেটি স্টেরিলাইজড করে নিতে হবে। আর আচার অবশ্যই কাঁচের বয়ামে রাখতে হবে। প্রথমে কাঁচের বয়াম ধুয়ে শুকনা করে মুছে নিতে হবে। এরপর এটি আগুনের উপর কিছুটা দূর থেকে ধরে রাখতে হবে। খুব কাছ থেকে বয়াম আগুনের সামনে ধরতে যাবেন না। এতে করে কাঁচের বয়াম ফেটে গিয়ে দূর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থেকে যাবে। খুব বেশি সময় ধরার দরকার নেই। কাঁচের বয়াম হালকা গরম হয়ে গেলেই হবে।

২য় ধাপ

এই বার জলপাই রেডি করে নিতে হবে। প্রথমে একটা সস প্যানে বেশি করে পানি নিতে হবে। পানিতে হলুদ গুড়া ও পরিমাণ মত লবণ যোগ করতে হবে। খুব বেশি লবণ যোগ করার দরকার নেই। যেহেতু এটা মিষ্টি আচার তাই লবণের পরিমাণ একটু কমই দেয়া উচিত। পানি টগবগ করে ফুতে উঠলে এতে জলপাই গুলো ছেড়ে দিতে হবে। বেশ কিছুক্ষণ সিদ্ধ করতে হবে। জলপাই সম্পূর্ণ সিদ্ধ হয়ে গেলে এগুলো থেকে পানি ঝরয়ে ফেলতে হবে।

এরপর সিদ্ধ জলপাই হালকা হালকা গরম থাকা অবস্থাতেই হাত দিয়ে চটকে এগুলো থেকে বিচি আলাদা করে ফেলতে হবে। এরপর এগুলো একটা শিল পাটায় খুব মিহি করে বেটে নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যে কোন দলা দলা ভাব না থাকে। এরপর জলপাই বানাবার পরবর্তি প্রসেস শুরু করতে হবে।

৩য় ধাপ

একটা শুকনা ফ্রাইং প্যানে আস্ত পাঁচফোড়ন, আস্ত মৌরি আর আস্ত ধনে নিতে হবে। খুব কম আঁচে এই শুকনো ও আস্ত মশলা গুলো ভেজে নিতে হবে। এই সময় মশলা গুলো খুনতি দিয়ে অনবরত নাড়া চাড়া করতে হবে। তা না হলে এই মশলা গুলো খুব দ্রুত পুড়ে যেতে পারে। আস্ত মশলা গুলো থেকে হালকা সুগন্ধ আসা শুরু করলে চুলা বন্ধকরে দিতে হবে। এরপর কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। খুব বেশি সময় অপেক্ষা করার দরকার নেই। মোটামুটি ১০ মিনিট থেকে বারো মিনিট অপেক্ষা করলেই চলবে। এই সময়ের মধ্যে এই ভাজা মশলা গুলো ঠান্ডা হয়ে রুম টেম্পারেচারে চলে আসবে। তখন ব্লেন্ডারে কিংবা শীল পাটায় এই ভাজা মশলা গুলো সুন্দর করে বেটে নিতে হবে। একদম মিহি করে গুড়া করে নেয়া লাগবে।

৪র্থ ধাপ

এই বার একটা বড় কড়াতে সরষের তেল নিতে হবে। সরষের তেল একটু গরম হয়ে গেলে এর মধ্যে আদা বাটা, রসুন বাটা ও সরষে বাটা যোগ করে দিতে হবে। এই তিনটি উপকরণ বেশ সুন্দর করে ভেজে নিতে হবে। এই মশলা গুলো হালকা ভাজা ভাজা হয়ে গেলে এর মধ্যে লাল মরিচ গুড়া যোগ করে দিতে হবে। খানিক্ষণ নাড়া চাড়া করে এই মশলা গুলো ভেজে নিতে হবে যাতে করে এর মধ্যেথেকে কাঁচা কাঁচা ভাবটা একদম দূর হয়ে যায়।

মসলা থেকে কাঁচা ভাব চলে গেলে এর মধ্যে আগে থেকে সিধ করে বেটে রাখা জলপাই দিয়ে দিতে হবে। একই সঙ্গে চিনিও যোগ করে দিতে হবে। খুব ভাল ভাবে নেড়ে চেড়ে মিশিয়ে নিতে হবে। এই বার ভাল মত নেরে চেড়ে আচার কষাতে হবে। এই সময়ে চুলার আঁচ কম থেকে মিডিয়ামের মধ্যে রাখতে হবে।

বেশ কিছুক্ষণ এই ভাবে রান্না করার পর দেখতে পাবেন জলপাই ভাজা ভাজা হয়ে আসছে এবং আচারের রঙও বদলে যাওয়া শুরু করেছে। সেই সাথে আচার থেকে তেল আলাদা হয়ে গেছে। এই সময় বুঝতে হবে আচার রান্না প্রায় শেষের দিকে চলে এসেছে। এই অবস্থায় আগে থেকে ভেজে গুড়া করে রাখা আচারের মশলা গুলো যোগ করে দিতে হবে। এবং ভিনেগারও যোগ করে দেয়া লাগবে।

এরপর আর অল্প কিছু সময় আচারটা নাড়া চাড়া করে চুলা বন্ধ করে দিতে হবে। চুলা বন্ধ করে একটা ঝাপি দিয়ে ঢেকে জলপাই এর আচার এক ঘন্টা থেকে দুই ঘন্টা রেখে দিতে হবে। এই সময়ের মধ্যে জলপাই এর মিষ্টি আচার একদম রুম টেম্পারেচারে চলে আসবে। তখন আগে থেকে পরিস্কার করে জীবাণু মুক্ত করে রাখা কাঁচের বয়ামে এই জলপাই এর আচার ভরে নিতে হবে। আচার দীর্ঘ দিন যাবত ভাল রাখতে হলে অবশ্যই কিছু দিন পর পর এটি রোদে দিতে হবে।

 

মন্তব্যসমূহ

আমি সাদিয়া রিফাত ইসলাম। একজন মা , হোমমেকার এবং ব্লগার। ভালভাসি রান্না করতে, বই পড়তে এবং লেখালেখি করতে।

মন্তব্য করুন