ঘরে বসেই বানান দারুণ মজার ঘুঘনি

ঘরে বসেই বানান দারুণ মজার ঘুঘনি

 

ঘুঘনি কিন্তু খুব মজার একটা খাবার। সেই সাথে খুব কাজের একটি খাবারও। এই ঘুঘনি অনেক রকম ভাবে খাওয়া যায়। যেমন সকালে নাস্তায় রুটির সাথে। কিংবা শীতের রাতে গরম গরম ফুলকো লুচির সাথে। আবার সন্ধ্যায় চা কিংবা কফির সাথে এমনি এমনিই নাস্তা হিসে এই ঘুঘনি দারুণ জমে যায়। শুধু কি তাই? যদি ফ্রিজে অল্প পরিমাণে কিছুটা ঘুঘনি থেকেও যায়, সেটাও আপনি পরের দিন সন্ধ্যা বেলায় ঝালমুড়ি বানাবার জন্য কাজে লাগিয়ে ফেলতে পারবেন। আসলে এই ঘুঘুনি এতটাই মজার একটি খাবার যে এটি আপনি যেভাবেই খান না কেন, আপনার মন খুশি হয়ে যাবে।

তবে ঘুঘুনির এত প্রশংসা শুনে এটা ভাবতে যাবেন যে এই খাবারটি রান্না করা বোধ হয় অনেক কষ্টকর। আদতে ব্যাপারটা কিন্তু মোটেই তা নয়। খুব সহজেই আপনি ঘরে বসে ঘুঘনি বানিয়ে নিতে পারবেন। আর এটি বানাতে খুব বেশি উপকরণও কিন্তু দরকার পড়ে না। আমাদের রান্না ঘরে মশলার তাকে পড়ে থাকা সাধারণ কিছু মশলা দিয়েই খুবই সহজে ঘুঘনি রান্না করে ফেলা যায়।

আসলে ঘুঘনি আমাদের দেশে আগে এত বেশি প্রচলিত ছিল না। এই খাবারটি মূলত আমাদের পার্শ্ববর্তি দেশ ভারতের খুব প্রচলিত একটি খাবার। এবং মূলত ভারতের পশ্চিম বঙ্গের বাঙ্গালিদের মধ্যে এই ঘুঘনি খাবারটি খুবই জনপ্রিয়। মূলত বুট দিয়ে এই ঘুঘনি বানানো হয়ে থাকে। আমাদের দেশে বুট দিয়ে শুধু মাত্র চটপটি বানাবারই প্রচল ছিল। কিন্তু এখন সময়ের সাথে সাথে ঘুঘনিও আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আমাদের দেশের অনেক শহরেই এখন বিভিন্ন হোটেলে লুচি আর ঘুঘনি পরিবাশন করার চল শুরু হয়ে গেছে। সেই সাথে আমাদের বাসার রাধুনীরাও নানা ভাবে ঘরে বসেই ঘুঘনি বানাবার চেষ্টা করে চলেছেন। আসুন আজ কিভাবে ঘরে বসেই হোটেল স্টাইলে এই দারুণ মজাদার খাবারটি বানাতে হয় তা জেনে নেয়া যাক।

ঘুঘনি বানাবার জন্য যে যে উপকরণ দরকার হবে

  • বুট ১ কাপ
  • পানি পরিমাণ মত
  • লবণ পরিমাণ মত
  • হলুদ গুড়া পরিমাণ মত
  • সরিষার তেল ২ টেবিল চামচ
  • আস্ত শুকনা মরিচ ২টি
  • আস্ত তেজপাতা অর্ধেকটা
  • আস্ত এলাচ ১টি
  • আস্ত জিরা ১/২ চা চামচ
  • মিহি করে কুচি করে রাখা পেঁয়াজ ২ টেবিল চামচ
  • রসুন বাটা ১ চা চামচ
  • আদা বাটা ১ চা চামচ
  • কাঁচা মরিচ বাটা ১/২ চা চামচ
  • মিহি করে কুচি করে রাখা টমেটো ৪ টেবিল চামচ
  • লাল মরিচ গুড়া ১ চা চামচ
  • ভাজা জিরা গুড়া ১/২ চা চামচ
  • ভাজা ধনে গুড়া ১/২ চা চামচ
  • ভাজা গরম মশলা গুড়া ১/২ চা চামচ
  • মিহি করে কুচি করে রাখা ধনে পাতা ২ চা চামচ
  • আস্ত কাঁচা মরিচ ৩ থেকে ৪টি
  • মিহি করে কুচি করে রাখা পুদিনা পাতা ১ চা চামচ
  • চিনি ১/৪ চা চামচ

ঘুঘনি যে পদ্ধতিতে বানাতে হবে

ঘুঘনি বানাবার মূল প্রক্রিয়াটা যদিও খুব কম সময়েই শেষ করে ফেলা যায়। তবে ঘুঘনি বানাবার পূর্ব প্রস্তুতি কিন্তু এক দিন আগে থেকেই শুরু করতে হয়। এক দিন আগে না হলেও অন্তত বারো ঘন্টা আগে থেকে এর প্রস্তুতি নেয়া লাগে। আর একাধিক ধাপে এই ঘুঘনি রান্না করা হয়ে থাকে। আসুন দেরি না করে কিভাবে এবং কয়টি ধাপে এই খাবারটি রান্না করতে হয় তা দেখে নেই।

১ম ধাপ

যে দিন আপনি ঘুঘনি রান্না করবেন তার আগের রাতে বুট গুলো খুব ভাল মতন ধুয়ে সাফ করে নিতে হবে। এরপর একটা পাত্রে বেশি করে পানি দিয়ে এই বুট গুলো ভিজিয়ে রেখে দিতে হবে। বুট গুলো দশ ঘন্টা থেকে বারো ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে পারলে খুব ভাল হয়। আর তা যদি সম্ভব না হয় তবে অন্তত ছয় ঘন্টা থেকে সাত ঘন্টা এগুলো অবশ্যই পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে।

২য় ধাপ

বুট গুলো বেশ লম্বা সময় ধরে পানিতে ভিজিয়ে রাখার পর এগুলো অনেকটাই ফুলে যাবে। এরপর এই পানিটা ফেলে দিতে হবে। একটা প্রেশার কুকারে আগে থেকে ভিজিয়ে রাখা বুট গুলো নিয়ে নিতে হবে। এর মধ্যে পরিমাণ মত লবণ, হলুদ গুড়া সামান্য আর পরিমাণ মত পানি যোগ করতে হবে। এরপর প্রেশার কুকারের ঢাকনা দিয়ে চুল বন্ধ করে দিতে হবে। মিডিয়াম আঁচে চুলা জ্বালিয়ে রাখতে হবে। একটা থেকে দুটা সিটি উঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। মোটামুটি দশ মিনিট থেকে বারো মিনিটের মধ্যে দুটি সিটি উঠে যাবে। তখন চুলা বন্ধ করে দিতে হবে।

৩য় ধাপ

এই বার একটা কড়াতে সরষের তেল গরম করতে দিতে হবে। সরষের তেল গরম হয়ে গেলে এর মধ্যে আস্ত শুকনা মরিচ, আস্ত তেজপাতা ও একটা আস্ত এলাচ ফোড়ন দিতে হবে। গরম সরষের তেলে এই মশলা গুলো ফুটে উঠে যখন সুন্দর গন্ধ বের হওয়া শুরু করবে তখন এর মধ্যে মিহি করে কুচি করে রাখা পেঁয়াজ যোগ করে দিতে হবে। পেঁইয়াজ কুচি লাল লাল করে ভেজে নিতে হবে। পেঁয়াজ কুচি গুলো যখন গোল্ডেন ব্রাউন কালার হয়ে যাবে তখন এর মধ্যে রসুন বাটা ও আদা বাটা যোগ করতে হবে। অল্প আঁচে এই মশলা গুলো সুন্দর করে ভাজতে হবে। রসুন বাটা ও আদা বাটা যখন বেশ খানিকটা ভাজা হয়ে এর মধ্যে থেকে কাঁচা কাঁচা ভাব চলে যাবে তখন মিহি করে কুচি করে রাখা টমেটো যগ করে দিতে হবে। টমেটো গলে যাবার আগ পর্যন্ত নাড়া চাড়া করে রান্না করতে হবে।

৪র্থ ধাপ

টমেটো ভাজা হয়ে যখন একদম গলে যাবে তখন এর মধ্যে ১/৪ চা চামচ হলুদ গুড়া ও লাল মরিচ গুড়া যোগ করতে হবে। একই সঙ্গে ভাজা জিরা গুড়া ও ভাজা ধনে গুড়াও যোগ করে দিতে হবে। এই সব গুলো মশলাই খুব ভাল ভাবে একে অন্যের সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। সুন্দর করে কষাতে হবে। যদি মনে হয় মশলা গুলো কড়ার তলায় লেগে যাচ্ছে তবে অল্প করে পানি যোগ করা যেতে পারে। এই সময় সামান্য পরিমাণে লবণ যোগ করা যেতে পারে। তবে লবণ যোগ করার সময় একটা ব্যাপার খেয়াল রাখতে হবে। বুট সিদ্ধ করার সময় লবণ যোগ করা হয়েছে। তাই অবশ্যই খুব সামান্য পরিমাণেই লবণ যোগ করতে হবে।

৫ম ধাপ

সমস্ত মশলা ভাল ভাবে কষানো হয়ে গেলে এর মধ্যে আগে থেকে সিদ্ধ করে রাখা বুট ঢেলে দিতে হবে। খুনতি দিয়ে ভাল ভাবে সমস্ত উপকরণ মিশিয়ে দিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যে কষানো মশলার সাথে সিদ্ধ বুট খুব ভাল ভাবে মিশে যায়। এরপর পাঁচ মিনিট থেকে দশ মিনিট মিডিয়াম আঁচে এটি জ্বাল দিতে হবে। এই সময় ঘউঘনি ঢাকা দিয়ে রাখতে হবে। ঘুঘনি একটু ঘন হয়ে আসলে ঢাকনা খুলে উপর থেকে সামান্য চিনি, আস্ত কাঁচা মরিচ ছড়িয়ে দিতে হবে। সেই সাথে মিহি করে কুচি করে রাখা ধনে পাতা ও পুদিনা পাতাও ছড়িয়ে দিতে হবে। নেড়ে চেড়ে এই সব গুলো উপকরণ এক সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। এরপর আবারো ঢাকনা দিয়ে দুই মিনিট থেকে তিন মিনিট রান্না করতে হবে। তারপর চুলা বন্ধ করে দিতে হবে। এরপর পছন্দ মতন পাত্রে ঘুঘ্নি ঢেলে নিয়ে সার্ভ করতে হবে। সাজানোর জন্য ইচ্ছা হলে উপর থেকে একটু ধনে পাতা কুচি ও কাঁচা পেঁয়াজ কুচি ছরিয়ে দেয়া যেতে পারে।

 

 

মন্তব্যসমূহ

আমি সাদিয়া রিফাত ইসলাম। একজন মা , হোমমেকার এবং ব্লগার। ভালভাসি রান্না করতে, বই পড়তে এবং লেখালেখি করতে।

মন্তব্য করুন