ত্বকে বয়সের ছাপ এড়াতে প্রয়োজনীয় খাবার

বয়স বাড়ার সাথে সাথে ত্বকের সতেজতা নষ্ট হতে থাকে। ত্বকে ভাঁজ পড়ে, ত্বকের উজ্জ্বলতা কমে যায় অর্থাৎ ত্বকে বয়সের ছাপ পড়ে যায়। ইংরেজিতে যাকে বলে এজিং।

শুধুম যে বয়স বাড়ার সাথে সাথে ত্বকে বয়সে ছাপ দেখা দেয়, তা কিন্তু না। অনেক সময় অল্প বয়সেও মুখের ত্বকে এজিং দেখা যায়। অল্প বয়সে মুখের ত্বকে বয়সের ভাজ পড়ার বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তবে এর মূল কারণ হচ্ছে, মানসিক এক্সাপ। যারা দীর্ঘ অবসাদে ভোগে বে অশান্তিতে থাকে দীর্ঘ সময় তাদের মুখে বয়সের ছাপ দ্রুত দেখা যায়। এছাড়া এজিংইয়ের পেছনে যেসকল কারণ দায়ী সেগুলো হলো- অতিরিক্ত ধূমপান করা, পানি কম খাওয়া। মূলত পানি কম খাওয়ার কারণে ডিহাইড্রেশন হয় সেই থেকে মুখের ত্বকে ভাজ পড়তে শুরু করে। এছাড়াও  ঘুম কম হওয়া, ত্বকে অতিরিক্ত আলট্রা ভায়োলেট রশ্মির প্রভাব ইত্যাদি কারণে অল্প বয়সেই মুখে বয়সের ছাপ দেখা যায়।

এই সমস্যার সমাধান আছে। কিছু খাবার আছে, যা খেলে আপনার ত্বক থাকবে এজিং ফ্রি। আসুন তাহলে জেনে নেই, এই সমস্যার হাত থেকে বাঁচাতে এবং নিজেকে ইয়াং রাখতে কোন কোন খাবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

টমেটোঃ

টমেটোতে আছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। যা আমাদের ত্বকের গুণমান বজায় রাখে এবং ত্বককে করে টানটান। টমেটো আমাদের ত্বককে আলট্রা ভায়োলেট রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাবের হাত থেকেও রক্ষা করে।

লাল ক্যাপ্সিকামঃ

ক্যাপ্সিকামে আছে ভিটামিন সি ও ক্যারোটেনয়েডস নামক এক ধরণের অ্যান্টিঅক্সিজেন্ট। খাবারে এই সবজিটি বেশি পরিমাণে থাকলে ত্বকের অনেক উপকার হয়। ত্বকের ভাঁজ কমে গিয়ে ত্বক টানটান হয়। ফলে এজিং সহজে দেখা দেয় না।

পাকা পেঁপেঃ

পেঁপে আমাদের লিভারের জন্য খুবই উপকারী একটা ফল। এতে আছে ভিটামিন এ, ডি, ই এবং কে। এছাড়াও ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাসের মত লবণও আছে এই ফলের মধ্যে যা এই ফলের পুষ্টিগুণ অনেকাংশে বাড়িয়ে দেয়। পেঁপেতে আরও আছে, বি কমপ্লেক্স ভিটামিন যা আমাদের শরীরের জন্য খুবই কার্যকরী। সুতরাং আমাদের ত্বকের উপরেই বেশ ইফেক্টিভ।

ঠাণ্ডা পানির মাছঃ

ঠাণ্ডা পানির মাছ আমাদের ত্বকের জন্য বেশ উপকারী একটি খাবার। ঠাণ্ডা পানির মাছের মধ্যে স্যামন মাছ বেশি ভালো আমাদের ত্বকের জন্য। কারণ স্যামন মাছে আছে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটোরি। যার ফলে আমাদের ত্বক সতেজ ও ইয়াং থাকতে।

গ্রিন টিঃ

গ্রিন টি ত্বকের জন্য বেশ কার্যকরী। কারণ এতে আছে শক্তিশালী পলিফেনল অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস। যা ত্বককে অতিরিক্ত আস্তরণ দেয় এবং রোদ বা ক্ষতিকারক দূষিত বস্তুর হাত থেকে রক্ষা করে। এছাড়াও আমাদের ত্বকে যে নিয়মিত ক্ষয় হয় তা দ্রুত সারাতে গ্রিন টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বেদানাঃ

চিকিৎসকরা প্রায়ই আমাদের বেদানা খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কারণ এতে আছে দ্রুত হিমোগ্লোবিন তৈরির উপাদান। যারা রক্ত স্বল্পতায় ভোগে তাদের জন্য বেদানার কোন বিকল্প নেই। তবে বেদানা শুধুমাত্র হিমোগ্লোবিন তৈরির উপাদানই নয়, এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও আছে। যা আমাদের ত্বকের জন্যও অত্যধিক কার্যকরী। তাই মুখের ত্বকে বয়সের ছাপ এড়াতে বেশি বেশি বেদানা খান।

গাজরঃ

গাজরে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ। এছাড়াও এতে আছে বিটা ক্যারোটিন। যা আমাদের ত্বক পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।
প্রতি মুহূর্তে, বিশেষত বাহিরে গেলে বাতাসে থাকা দূষিত পদার্থ আমাদের ত্বকে মিশে ত্বকের ভয়ানক ক্ষতি সাধন করে। এই ক্ষতির হাত থেকে আপনাকে রক্ষা করবে গাজরে থাকা বিটা ক্যারোটিন। তাই এজিং থেকে মুক্তি পেতে বেশি বেশি গাজর খান।

অলিভ অয়েলঃ

অলিভ অয়েলও আমাদের ত্বকের জন্য মারাত্মক উপকারী। এতে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স। তাই অলিভ ওয়েল দিয়ে নিয়মিত ত্বকে মাসাজ করা উচিত। এতে ত্বকের দৌন্দর্য্য আরও বৃদ্ধি পায় এবং ত্বক হয় সতেজ। আপনার ত্বক যদি শুষ্ক হয়ে যায় বা ফেটের যায় তবে অলিভ ওয়েলই হবে আপনার রক্ষক। কারণ অলিভ ওয়েল আপনার ত্বককে ডিহাইড্রেশন থেকে রক্ষা করে ফলে ত্বকের রুক্ষ ভাব কমে যায়। যার কারণে সহজে এজিং হয় না। এছাড়াও অলিভ ওয়েল আমাদের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে বেশ সাহায্য করে।

মন্তব্যসমূহ

কল্পবিলাসী আমি বাস্তবতা থেকে অজ্ঞাত নই। আমি সেই বিহঙ্গিনী যে ডানা ভর্তি ভালোবাসা নিয়ে পাখা মেলতে চাই চিলের সাথে সুদূর আকাশে.. ডানা ঝাপটিয়ে লিখে যেতে চাই স্বরচিত কল্পকথা ও মুক্তির মন্ত্র I

মন্তব্য করুন