সুস্থ্য ত্বকের জন্য গ্রিণ টি এর দারুণ একটি ফেস প্যাক

সুস্থ্য ত্বকের জন্য গ্রিণ টি এর দারুণ একটি ফেস প্যাক

শারিরিক সুস্থ্যতার জন্য গ্রিণ টি এর ব্যবহার নতুন কিছু নয়। আমরা সবাই জানি গ্রিণ টি আমাদের শরীরের জন্য খুব উপকারি একটি পানিয়। এটি অত্যন্ত শক্তিশালি একটি ডিটক্স ড্রিঙ্ক যেটি আমাদের শরীর থেকে সমস্ত টক্সিন বের করে দিতে অনেক কার্যকরি ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে আমাদের শরীর অনেক বেশি সুস্থ্য থাকে। সেই সাথে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এবং শরীরের বুড়িয়ে যাবার প্রক্রিয়া ধীর গতির হয়ে যায়। তবে এগুলো তো সব শারিরিক উপকারিতা। কিন্তু আপনি কি জানেন গ্রিণ টি আমাদের ত্বকের জন্যও সমান ভাবে উপকারি প্রমাণিত হতে পারে। একারনেই নামি দামি বিভিন্ন কসমেটিক কোম্পানি তাদের বিভিন্ন ধ্রনের প্রডাক্টে বিভিন্ন ভাবে গ্রিণ টি ব্যবহার করে থাকেন। তবে এই সব প্রডাক্টে গ্রিণ টির সাথে বিভিন্ন কড়া কেমিকেলও ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তবে আপনি চাইলে ঘ্রোয়া ভাবেও রূপ চর্চার জন্য গ্রীন টি ব্যবহার করতে পারেন। আজ সেরকম একটি ফেস প্যাক নিয়ে আলোচনা করব।

আমাদের ত্বককে সুস্থ্য ও সুন্দর করে তোলার জন্য ঘরোয়া উপায়ের কোন বিকল্প হতে পারে না। আর ঘরোয়া ভাবে রূপ চর্চা করার জন্য অনেক ভাবেই গ্রিণ টি ব্যবহার করা যেতে পারে। ইচ্ছা হলে আপনি সরাসরি গ্রিণ টি দিয়ে স্ক্রাব বানিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। আবার ইচ্ছা হলে গ্রিণ টি বানিয়ে নিয়ে সেটিও ব্যবহার করে বিভিন্ন রকম ফেস প্যাক তৈরী করে মুখে ও শরীরে ব্যবহার করা যেতে পারে। আমি আজ যে ফেস প্যাক নিয়ে আলোচনা করব সেটি বানাবার জন্য মূলত গ্রিণ টি গরম পানিতে ভিজিয়ে রেডি করে নিতে হবে। আর সেই সাথে লাগবে আরো দুটি বাড়তি উপকরণ। আসুন দেরি না করে কিভাবে এই গ্রিণ টির ফেস প্যাক বানাতে হবে তা জেনে নেয়া যাক।

গ্রিণ টি ফেস প্যাক বানাতে যা যা উপকরণ দরকার হবে

গ্রিণ টি ১ চা চামচ

চালের গুরা ১/২ চা চামোচ

মধু ১/২ চা চামচ

গ্রিণ টি ফেস প্যাক যে পদ্ধতিতে বানাতে হবে

প্রথমেই গ্রিণ টি তৈরী করে নিতে হবে। গরম পানিতে দুই মিনিট থেকে তিন মিনিট গ্রিণ টি ব্যাগ ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর টি ব্যাগ ফেলে দিয়ে চা ফ্রিজে রাখতে হবে। আমাদের মাত্র ক চা চামচ গ্রিণ টি দরকার হবে। তাই এত টুকু গ্রিণ টি ফ্রিজে রেখে বাকিটা আপনি খেয়ে নিতে পারেন। মোটামুটি এক ঘন্টা থেকে দেড় ঘন্টা মতন গ্রিণ টি ফ্রিজে রেখে দিতে হবে। তারপর এটি ঠান্ডা হিয়ে গেলে তা দিয়ে ফেস প্যাক তৈরী করে নেয়া যাবে।

একটা ছোট পাত্রে প্রথমে চালের গুড়া নিতে হবে। এর মধ্যে মধু ও গ্রিণ টি যোগ করতে হবে। একটা কাটা চামচ দিয়ে ভাল করে গুলে এই তিনটি উপকরণ একে অন্যের সাথে মিশিয়ে নিতে হবে। একতা ঘন পেস্ট তৈরী হবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন এই ঘন ফেস প্যাকের মধ্যে কোন লাম্পস না থাকে। মসৃণ একটি ফেস প্যাক তৈরী করে নিতে হবে।

গ্রীণ টি ফেস প্যাক যেভাবে ব্যবহার করতে হবে

ফেস প্যাকটি ব্যবহার করার আগে আমাদের ত্বক খুব ভাল ভাবে পরিস্কার করে নিতে হবে। এর জন্য শুধু পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিলে কিন্তু হবে না। ফেস ওয়াশ দিয়ে খুব ভাল মতন মুখ ও গলার ত্বক পরিস্কার করে নিতে হবে যাতে করে ত্বক থেকে সব রকম এর ময়লা ও ধুলা বালু সাফ হয়ে যায়। এর পরে একটা শুকনা তোয়ালে দিয়ে ভাল করে মুখ ও গলার ত্বক মুছে শুকনা করে নিতে হবে।

এই বার রেডি করে রাখা ফেস প্যাক মুখ ও গলার ত্বকে লাগিয়ে নিতে হবে। এর পরে এই ফেস প্যাকটি শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হবে না। এই ফেস প্যাকটি পুরোপুরি শুকানোর জন্য মোটামুটি ২০ মিনিট থেকে ২৫ মিনিট পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এই সময় টুকু অপেক্ষা করলেই হবে। এরপর ফেস প্যাকটি সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেলে ঠান্দা পানি দিয়ে মুখ ও গলার ত্বক পরিস্কার করে নিতে হবে। ভাল ফলাফল পাবার জন্য সপ্তাহে অন্তত দুই দিন এই ফেস প্যাকটি মুখ ও গলার ত্বকে লাগাতে পারলে খুব ভাল হয়। আর আপনার ইচ্ছা হলে শরীরের অন্যান্য অংশের ত্বক সুস্থ্য রাখার জন্যও এই ফেস প্যাকটি লাগিয়ে দেখতে পারেন।

ত্বকের যত্নে গ্রিণ টি ফেস প্যাক ব্যবহার করার উপকারিতা

ত্বকের যত্নে গ্রিণ টি এর উপকারিতা

এই গ্রিণ টি ফেস প্যাক বানাবার জন্য যে সকল উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে তার সব গুলোই ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপকারি এক একটি উপাদান। প্রথমেই আসি গ্রিণ টি প্রসঙ্গে। গ্রিণ টি এর মধ্যে আছে প্রচুর পরিমাণ এন্টি অক্সিডেন্ট। এই কারণে গ্রিণ টি আমাদের ত্বকের অকালে বুড়িয়ে যাবার প্রবণতা রোধ করে। ফলে নিয়মিত ত্বকের যত্নে গ্রিণ টি ব্যবহার করা হলে ত্বক থাকে চির তরূণ। আর গ্রিণ টি এর মধ্যে আছে এন্টি ব্যাকটেরিয়াল প্রপার্টিজ। তাই এই অসাধারণ উপাদানটি আমাদের ত্বকের ভিতর থেকে জীবাণু দূর করে দিতে বেশ কার্যকরি ভূমিকা রাখতে পারে।

ত্বকের যত্নে চালের গুরার উপকারিতা

এছাড়া এই ফেস প্যাক বানাতে চালের গুড়া ব্যবহার করা হয়েছে। চালের গুড়া কিন্তু খুব ভাল মানের একটি ন্যাচারাল স্ক্রাবার হিসেবে কাজ করতে পারে। চালের গুড়া খুব মিহি হয়। তাই এটি একটি মাইল্ড স্ক্রাবার হিসেবে ত্বকের উপর কাজ করে। ফলে এটি ত্বক থেকে যে কোন গভীর ময়লা ও জীবাণু দূর করে দেয়। কিন্তু মাইল্ড হবার কারণে যে কোন কেমিকেল স্ক্রাবারের মত এটি ত্বকের কোন ক্ষতি করে না। তাছাড়া চালের গুরার প্রধাণ পুষ্টি উপাদান হচ্ছে কার্বোহাইড্রেট। এই কার্বোহাইড্রেট কিন্তু আমাদের শরীরের জন্য দরকারি তা কিন্তু না। এই কার্বোহাইড্রেট কিন্তু আমাদের ত্বকের জন্যও ভীষণ ভাবে উপকারি। কার্বোহাইড্রেট খুব দ্রুততার সাথে আমাদের ত্বকের রঙ হালকা করে আমাদের ত্বককে ফর্সা ও উজ্জ্বল করে তুলতে পারে। তাই ত্বক ফর্সাকারি উপাদান হিসেবে চালের গুরার তুলনা খুজে পাওয়া কিন্তু যথেষ্ঠ কষ্টের কাজ।

ত্বকের যত্নে মধুর উপকারিতা

ত্বকের যত্ন নেবার জন্য মধুর উপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না। ত্বকের জন্য হেন কোন কাজ নেই যেটা মধু করে না। প্রথমত এটি হচ্ছে সব থেকে উপকারি ও সহজলভ্য প্রাকৃতিক ময়শ্চারাইজার। ত্বকে আর্দ্রতা যোগাতে মধুর বিকল্প আর কিছুই হতে পারে না। তাছাড়া মধুর মধ্যেও গ্রিণ টির মত এন্টি ব্যাকতেরিয়াল উপাদান রয়েছে। তাই এটি ত্বকে ব্রণ ও একনে থাকলে তা দূর করতে সাহায্য করে থাকে। সেই সাথে নতুন করে ব্রণ ও একনে তৈরী হবার প্ররিয়াতেও বাধা প্রদান করে থাকে। আর ত্বক ফর্সা করে তুলতেও মধু খুব কার্যকরি ভূমিকা রাখতে পারে। তাই বলা যেতেই পারে ত্বক সুরক্ষায় মধু একটি অল ইন ওয়ান উপকরণ।

মন্তব্যসমূহ

আমি সাদিয়া রিফাত ইসলাম। একজন মা , হোমমেকার এবং ব্লগার। ভালভাসি রান্না করতে, বই পড়তে এবং লেখালেখি করতে।

মন্তব্য করুন