বাসায় হোক ব্যায়ামাগার

আপনি যদি জিম বা ব্যায়ামাগারে যেতে অপছন্দ করেন তাহলে বাসাতেই তৈরি করে নিন একটি ছোট্ট হোম জিম। ভয় পেলেন? ভয় পাওয়ার কোন কারণই নেই কারণ হোম জিম করতে আপনার খুব বেশি খরচ হবে না মোটেও। হোম জিম তৈরি করলে আপনি জিমে সময় ও টাকা দুটোই সেভ করতে পারবেন। কীভাবে? জিমে যেতে আপনার সময় নষ্ট হত, সেই সময়টা বাঁচবে। জিমের ফি-টাও সেভ হবে। ওহ, আমি তো ভুলেই গেছি, জিমের কোন একটা সরঞ্জাম ব্যবহারের জন্য যে আপনাকে অগাধ ধৈর্য নিয়ে অপেক্ষা করতে হয়, সেই ধৈর্যের পরিক্ষাটাও আর দিতে হবে না। আর যদি ব্যায়ামের সরঞ্জাম বাসাতেই থাকে তাহলে ব্যায়াম করতে অনিয়মও হবে না। তাহলে আসুন জেনে নেই, বাস্য কীভাবে ব্যায়ামগার বানাবেন-

স্থান নির্বাচন করতে হবেঃ

ব্যায়ামের জন্য বাসার কোন অংশটি নির্ধারণ করতে চান, তা আগে সিদ্ধান্ত নিন। বাসার বেজমেন্ট, গ্যারেজ অথবা কোনো একটি অতিরিক্ত রুমকে হোম জিম হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। রুমটি খোলামেলা ও আরামদায়ক হলে ভালো হয়। আপনার বাসার গ্যারেজটি যদি তেলের গন্ধযুক্ত থাকে তাহলে সেখানে বেশিক্ষণ থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে না কেউই। তাই এমন পরিস্থিতি হলে গ্যারাজে হোম জিম না করে ভিন্ন জায়গা নির্বাচন করুন।

যদি এমন হয়, গ্যারাজে জিম তৈরি করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন না এবং বাসাতেও কোন অতিরিক্ত রুম নেই। তাহলে কোন একটি রুমের সাথে এটাচড জিম করতে পারেন। অর্থাৎ শোবার ঘর বা বসার ঘর কিংবা অন্য রুমের এক কোণায় জিমের সরঞ্জাম রেখে সেখানে ব্যায়াম করতে পারেন। তবে শোবার ঘরটিকে ব্যায়ামকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করাই ভালো। কারণ যদি কোন দিন ব্যায়াম কনা করা হয় তাহলে শোবার সময় মনে সেটা মনে পড়বে। এবং আপনি তখনই একটু ব্যায়াম করে নিতে পারবেন।

লক্ষ্য স্থির করতে হবেঃ

আপনি ওজন কমানোর জন্য ব্যায়াম করছেন, নাকি শারীরিক গঠন ঠিক রাখা জন্য ব্যায়াম করছেন, না পেশীবহুল শরীরকে সঠিক গঠন দিতে চাচ্ছেন এই বিষয়ে আগে লক্ষ্য স্থির করুন। নিজেকে এটাও জিজ্ঞেস করুন, আপনার হোম জিমটি কি ব্যায়ামগারের পাশাপাশি শিথিলায়ন ও ধ্যানকক্ষ হবে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর অনুযায়ী আপনাকে জিমের মানানসই সরঞ্জামাদি স্থাপন করতে হবে।

ওজন কমানো সরঞ্জামঃ

আপনি যদি ওজন কমাতে চান তাহলে আপনাকে হৃদপিন্ডের ব্যায়াম (cardio exercises) করতে হবে যেন আপনার হৃদপিন্ডের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়। এই ব্যায়ামের জন্য নড়াচড়ার প্রয়োজন হয়। হৃদপিন্ডের ব্যায়ামের পাশাপাশি আপনাকে পেশী গঠনের ব্যায়ামও করতে হবে। এই ধরনের ব্যায়ামের জন্য ওয়েট (weights) এবং রেজিস্ট্যান্স ব্যান্ডের (resistance bands) প্রয়োজন হয়।

পেশী গঠনের সরঞ্জামঃ

আপনি যদি পেশী গঠন করতে চান তবে আপনার ওয়েট (weights) এবং ক্রীড়া সামগ্রীর (sports equipment) প্রয়োজন হবে। এমন কিছু যন্ত্রপাতি রয়েছে যা দ্বারা আপনি ব্যায়ামের মাধ্যমে শরীরের নির্দিষ্ট কিছু পেশীর (muscle zones) উন্নতি ঘটাতে পারেন। তাই ক্রীড়া সামগ্রী হতে হবে আপনার শরীরের মাপ অনুযায়ী যা আপনি সুগঠিত করতে চান।

শিথিলায়নঃ

অনেকেই শিথিলায়নের জন্য ব্যায়াম করে। যারা শিথিলায়নের জন্য ব্যায়াম করে তারা একটি প্রশান্ত পরিবেশ চান যেখানে ব্যায়ামের ঠিক পরেই তারা একটু ধ্যান অথবা যোগাসন করতে পারবে। তাই আপনি যখন ব্যায়ামাগারের জন্য সরঞ্জাম পছন্দ করবেন তখন খেয়াল রাখবেন, সরঞ্জামগুলো যেন যেন আপনার এ সকল প্রয়োজন মেটাতে পারে।

ব্যায়ামের সরঞ্জামঃ

ট্রেডমিল (treadmill)

হৃদপিণ্ডের ব্যায়ামের সরঞ্জামগুলো ওজন কমানো, পেশীগঠন এবং শিথিলায়নের কাজেও ব্যবহার করা যায়। আপনি বাসায় হৃদপিণ্ডের ব্যায়াম করতে চাইলে ট্রেডমিল (treadmill) উত্তম। এটির জন্য খুব বেশি জায়গাও প্রয়োজন হয় না। আপনার ব্যায়ামাগারের জায়গা যদি সীমিত হয় তবে একটি ট্রেডমিল ক্রয়ের পরিকল্পনা একটি ভালো বিনিয়োগ হতে পারে।

রেজিস্ট্যান্স ও ওয়েট (Resistance and Weights)

পেশী গঠনের জন্য রেজিস্ট্যান্স ও ওয়েট হলো খুবই কার্যকরী সরঞ্জাম। আপনার ব্যায়ামকক্ষে বিল্টইন ওয়েটসহ একটি রেজিস্ট্যান্স মেশিন থাকলে সুন্দরভাবে ব্যায়ামের কাজ চালাতে পারবেন।

আমার মতে, একটি স্ট্যাবিলিটি বলের (stability ball) পিছনে অর্থ ব্যয় করাটা উত্তম বিনিয়োগ কারণ এটি কেন্দ্রীয় পেশীগুলোর (core muscles) গঠনে সহায়তা করে যার। ফলে দেশের সঠিক ভারসাম্য রক্ষা হয়। কিন্তু আপনি যদি স্ট্যাবিলিটি বল ক্রয় না করতে চান তাহলে একটি অ্যাডজাস্টেবল বেঞ্চ (adjustable bench) ও কয়েকটি হ্যান্ড হেল্ড ওয়েট (hand-held weights) কিনে ফেলতে পারেন।

প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রঃ
  • আপনি কোন ধরনের ব্যায়ামকক্ষ তৈরি করতে চাচ্ছেন এমন সিদ্ধান্ত নেয়ার পর আপনাকে ম্যাট (mat) এবং স্টোরেজের (storage) এর কথা অবশ্যই ভাবতে হবে। যারা যোগব্যায়াম পছন্দ করেন তাদের অনুশীলনের জন্য ম্যাট অবিচ্ছেদ্য প্রয়োজনীয় উপকরণ।
  • ব্যায়ামকক্ষে গান বা মিউজিক বা টিভি বা ভিডিও দেখার সুব্যবস্থা রাখা উচিত তাই এটা নিয়ে ভাবুন। এছাড়াও ভিডিও, মিউজিক সিডি এবং রেজিস্ট্যান্স ব্যান্ডগুলো (resistance bands) রাখার জন্য আপনার একটি গোপন জায়গার (hidden storage) প্রয়োজন হয়। সেইটাও মাথায় রাখতে হবে।
  • ওয়েট (weight) রাখার জন্য একটি স্ট্যান্ডও (stand) দরকার হয় ব্যায়ামাগারে।
  • ব্যায়ামাগারটা আকর্ষণীয় করে তুলতে সেখানে কিছু চারাগাছ লাগানো যেতে পারে। সৌন্দর্য্য ছাড়াও এরা আপনাকে বিশুদ্ধ অক্সিজেন যোগান দিবে।
  • ব্যায়ামকক্ষটিকে বিশৃংখলা এবং মনোযোগ বিচ্ছিন্নকারক উপাদান থেকে মুক্ত রাখুন।

যে কোনো ব্যায়ামকক্ষের জন্য ট্রেডমিল এবং ইলেপ্টিক্যাল যন্ত্রপাতি (elliptical machine) বেশ ভালো কম্বিনেশন। কিন্তু এই সরঞ্জামগুলো খুব দামী তাই তো? আপনার বাসার জিমের জন্য দামী সরঞ্জাম না কিনলেও হবে। কারণ অধিকাংশ মানুষই ব্যায়াম করা এবং সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার কঠিন প্রতিজ্ঞা করে ঠিকই কিন্তু প্রতিজ্ঞা ধরে রাখতে পারে না। এবং একসময় তারা ঘরের জায়গা ফাঁকা করার জন্য ব্যায়ামের সরঞ্জামগুলো বিক্রয় করে দেয়। আপনি এই সরঞ্জামগুলো স্বাভাবিক দামের চেয়ে অনেক কম দামে কিনে ফেলতে পারবেন। ব্যবহৃত স্টেশনারি বাইক (stationary bikes), স্টেয়ার ক্লাইম্বার্স (stair climbers) এবং মাল্টিস্টেশন ওয়েট মেশিনও (multi-station weight machine) সচরাচর কিনতে পাওয়া যায়।

যদি আপনার বাজেট চেয়ে ব্যায়ামকক্ষ তৈরির খরচ বেশি হয়েই যায় তাহলে প্রয়োজন অনুযায়ী জিনিস কিনুন। যেইটা আগে প্রয়োজন, সেইটা আগে কিনবেন। এনাবে আসতে আসতে সকল প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনে ফেলুন।

মন্তব্যসমূহ

কল্পবিলাসী আমি বাস্তবতা থেকে অজ্ঞাত নই। আমি সেই বিহঙ্গিনী যে ডানা ভর্তি ভালোবাসা নিয়ে পাখা মেলতে চাই চিলের সাথে সুদূর আকাশে.. ডানা ঝাপটিয়ে লিখে যেতে চাই স্বরচিত কল্পকথা ও মুক্তির মন্ত্র I

মন্তব্য করুন