ছোট বাচ্চাদের ওজন ও পুষ্টি বৃদ্ধিতে দারুণ কার্যকর প্রোটিন শেক

ছোট বাচ্চাদের ওজন ও পুষ্টি বৃদ্ধিতে দারুণ কার্যকর প্রোটিন শেক

ছোট বাচ্চাদের মায়েদের প্রথম এবং প্রধাণ চিন্তা থাকে কিভাবে বাচ্চাকে সঠিক ও প্রয়োজনীয় পুষ্টির যোগান দেয়া যায়। আর সেই সাথে বাচ্চার ওজন কিভাবে বাড়াতে হবে তা নিয়েও মা বাবার চিন্তার অন্ত থাকে না। আসলে ছোট শিশুদের সঠিক ভাবে বেরে ওঠার একটি বড় মাপ কাঠি হচ্ছে তাদের ওজন সঠিক ভাবে বৃধি পাওয়া। তবে বাচ্চাদের এই ওজন বৃদ্ধি করতে গিয়ে অনেক সময়ই আমরা বিভিন্ন রকম এর অপ্রয়োজনীয় ও অপুষ্টিকর খাবার তাদেরকে দিয়ে ফেলি। এতে করে দেখা যায় যে বাচ্চারা ফুলে মোটা হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আসলে তাদের অতি দরকারি পুষ্টি উপাদান গুলো হয়ত তারা ঠিক ভাবে পাচ্ছে না। আবার ওজন সঠিক ভাবে বাড়ার কারণে আমরা ভাবছি ামার বাচ্চার পুষ্টির মান ঠিক আছে। যেমন অনেক ক্ষেত্রেই আমাদের সকলের বাচ্চাদের জন্য প্রিয় নাসাতা হচ্ছে সুজি। বাচ্চারাও খুব সহজে সুজি খেয়ে নেয়। কিন্তু অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেটে ভরা সুজি শুধু বাচ্চার ওজনই বাড়ায়। তার খুব একটা উপকারে আসে না। এর বদলে দেয়া যেতে পারে প্রোটিন শেক।

সুজির সাথে প্রোটিন শেকের সব থেকে বড় মিল হচ্ছে এটিও সুজির মতই নরম ও মিষ্টি হয়ে থাকে। যার ফলে বাচ্চারা সহজেই সুজির মত করেই প্রোটিন শেক গিলে খেয়ে ফেলে। আর সুজির মধ্যে শুধু থাকে সুজি, চিনি আর পানি যা শরীরেওতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট তৈরী করে যা পরবঋতে ফ্যাতে রূপান্ত্র হয়ে বাচ্চার শরীরে জমা হয়। অথচ প্রোটিন শেক বানাবার জন্য ব্যবহ্রা করা হয় কলা, বাদাম, খেজুরের মত অতি প্রয়োজনীয় প্রোটিন ও মিনারেলস এ ভরপুর কিছু খাদ্য উপকরণ। এই সব গুলো উপকরণ বাচ্চার সারিরিক বিকাশে যেমন ভূমিকা রাখে। ঠিক তেমনি বাচ্চার মানসিক ও বুদ্ধির বিকাশেও অনেক উপকারী ভূমিকা পালন করে থাকে। আর সেই সাথে এই খাদ্য উপকরণ গুলি একদম সঠিক উপায়ে বাচ্চার ওজন বৃদ্ধি করতেও সাহায্য করে। ফলে বাচ্চার ওজন একদম সঠিক পুষ্টি উপাদান গুলোর সমন্বয়ে সঠিক পরিমাণে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। তাই বলা যায় যে বাচ্চার বিকেলের নাস্তা হিসেবে এই প্রোটিন শেক একদম সঠিক একটি খাবার।

ছোট বাচ্চাদের জন্য প্রোটিন শেক বানাবার উপকরণ সমূহ

ছোট বাচ্চাদের জন্য বানানোর কারণে এই প্রোটিন শেক বানাবার জন্য খুব কম উপকরণ ব্যবহার করা হয়। কারণ খুব বেশি উপকরণ ব্যবহার করলে তা বাচ্চারা সহজে হজম করতে পারবে না। আমি এখানে যেই পরিমাণ উপকরণ ব্যবহার করেছি তা একটি এক বছরের বাচ্চার সন্ধ্যার নাস্তার জন্য মোটামুটি ঠিক আছে। তবে আপনি আপনার বাচ্চার চাহিদা আর হজম ক্ষমতা এর উপর নির্ভর করে এই খাবারটির উপকরণ গুলোর পরিমাণ বাড়িয়ে বা কমিয়ে দিতে পারেন। আর একটা ব্যাপার। সেটি হচ্ছে দুই বছর বয়সের আগে বাচ্চাদেরকে গরুর দুধ খাওয়ানো একদমই ঠিক না। এই কারণে আমি এখানে ফর্মুলা মিল্ক ব্যবহার করেছি। তবে আপনার বাচ্চার বয়স দুই বছরের বেশি হলে আপনি ফর্মুলা মিল্কের বদলে গরুর দুধও ব্যবহার করতে পারেন। আসুন বাচ্চাদের এই প্রোটিন শেক বানাবার উপকরণ গুলো কি কি তা জেনে নেয়া যাক। সেই সাথে এই উপকরণ গুলো ঠিক কত টুকু পরিমাণ নিতে হবে তাও জেনে নেই চলুন।

পাকা কলা একটি ছোট সাইজের

আমন্ড বাদাম ১টি

কিশমিশ ১টি

খেজুর ২টি

পানি ১/৪ কাপ

ফর্মুলা দুধ ১ চামচ

ছোট বাচ্চাদের জন্য প্রোটিন শেক যে পদ্ধতিতে বানাতে হবে

ছোট বাচ্চাদের জন্য এই প্রোটিন শেকটি খুব সহজেই বানিয়ে ফেলা যায়। এমনকি সুজি বানানো থেকে এই প্রোটিন শেক বানানো হয়ত বেশি সহজ হতে পারে। এই প্রোটিন শেকটি বানাবার জন্য প্রথমে একটি ছোট সাইজের পাকা কলা ছোট ছোট করে কেটে নিতে হবে। আর একটা আমন্ড বাদাম ও একটি কিশমিশ আগে থেকে দুই ঘন্টা থেকে তিন ঘন্টার জন্য ভিজিয়ে রাখতে হবে। এই বার একটি ব্লেন্ডার ছোট পাকা কলার টুকরা গুলো নিয়ে নিতে হবে। সেই সাথে খোসা ছারানো আমন্ড বাদাম, কিশমিশ ও বিচি ফেলে দেয়া খেজুর যোগ করতে হবে। এর সাথে পানি ও ফর্মুলা মিল্ক যোগ করে দিতে হবে। খুব ভাল করে ব্লেন্ড করে নিতে হবে যাতে করে সব কিছু মিশে গিয়ে খুব ভাল একটি স্মুথ প্রোটিন শেক তৈরী হয়। এই বার আপনার এক বছরের বাচ্চাকে খাওয়ানোর চেষ্টা করে দেখুন। দেখবেন সে বেশ মজা করেই খেয়ে নেবে।

বাচ্চাদের প্রোটিন শেক খাওয়ানো ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা

১। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় বাচ্চার বাদামে এলার্জি থাকতে পারে। এই জন্য আপনার উচিত হবে প্রোটিন শেক বানাবার আগে বাচ্চার কোন ধরণের বাদামে এলার্জি আছে কিনা তা জেনে নেয়া। আর বাচ্চার যদি বাদামে এলার্জি থাকে তবে আপনি বাদাম ছাড়াও এই প্রোটিন শেক বাসায় বানিয়ে দেখতে পারেন। খেতে খারাপ লাগবে না।

২। এই প্রোটিন শেক কিন্তু বেশ হেভি একটি খাবার। আর প্রোটিন এমনিতেই হটাত করে হজম হতে চায় না। তাই বাচ্চার খেতে খুব পছন্দ করলেও শুরুতেই বাচ্চাদের অনেক বেশি পরিমাণে এই প্রোটিন শেক খাওয়ানো যাবে না। বরং শুরুতে অল্প অল্প করে খাওয়ানো যেতে পারে। আর তখন যদি দেখেন যে বাচ্চা এই খাবারটি ঠিক হজম করে নিতে পারছে তাহলে পরবর্তি সময়ে এই খাবারটি তাকে বেশি পরিমাণে দেয়া শুরু করা যেতে পারে।

৩। এই প্রোটিন শেক এমনিতেই যথেষ্ঠ মিশটি হয়ে থাকে। এই কারণে আলাদা করে আমি কোন ধরণের চিনি কিংবা মধু ব্যবহার করি নাই। আর এক বছর এর নিচে বয়সী বাচ্চাদের খাবারে এমনিতেই চিনি ও লবণ ব্যবহার করা একেবারেই উচিত না। তবে আপনি যদি এক বছরের বেশি বয়সী বাচ্চার জন্য এই প্রোতিন শেক বানিয়ে থাকেন তাহলে বাচ্চার টেস্ট অনুযায়ী অল পরিমাণে চিনি কিংবা সামান্য একটু মধু যোগ করা যেতে পারে।

মন্তব্যসমূহ

আমি সাদিয়া রিফাত ইসলাম। একজন মা , হোমমেকার এবং ব্লগার। ভালভাসি রান্না করতে, বই পড়তে এবং লেখালেখি করতে।

মন্তব্য করুন