ছোট বাচ্চাদের জন্য মজাদার রাঙা আলুর পায়েস

ছোট বাচ্চাদের জন্য মজাদার রাঙা আলুর পায়েস

বাচ্চাদের জন্য রাঙা আলু খুবই পুষ্টিকর একটি খাবার। সেই সাথীই খাবারটি যথেষ্ঠ পরিমাণে মুখরোচকও বতে। আসলে রাঙা আলুর স্বাদ পুরোটাই নির্ভর করে আপনি এটাকে কিভাবে রান্না করছেন তার উপরে। আপনি যদি সঠিক ভাবে রান্না করতে পারেন তাহলে রাঙা আলু খুবই টেস্টি একটা খাবারে রূপান্তরিত হতে পারে। আর বাচ্চাদের সামনে যদি টেস্ট খাবার উপস্থাপন করা হয় তাহলে কিন্তু তারা কোন রকম এর ঝামেলা ছাড়াই খাবারটি বেশ মজা করেই খেয়ে নেয়। এই কারণেই আমি আজ আপনাদের সাথে মজাদার একটি রাঙা আলুর রেসিপি শেয়ার করতে চলেছি। এই রেসিপিটি কিন্তু খুবই সহজ। অথচ এই সহজ রেসিপিটাই বাচ্চাদের মুখে অনেক স্বাদ এনে দেবে। ফলে বাচ্চারা কোন রকম ঝামেলা ছাড়াই এই খাবারটি নিজের ইচ্ছাতেই খেয়ে নিতে চাইবে। এই মজাদার ও স্বাস্থ্যকর খাবারটি হচ্ছে রাঙা আলুর পায়েস।

রাঙা আলুর পায়েস বেশ প্রচলিত একটা ডেজার্ট বাঙালিদের মধ্যে। তবে আমরা প্রচলিত যেই পদ্ধতিতে রাঙা আলুর পায়েস রান্না করে থাকি এই পদ্ধতি সেই রকম না। আর এই পদ্ধতিতে রাঙা আলুর পায়েস রান্না করার জন্য প্রচলিত পদ্ধতি থেকে অনেক্কম সময় এর দরকার হয়। আর এই রেসিপির মধ্যে মূল রেসিপি থেকে দুধ এর পরিমাণও বেশ কম দরকার হয়। আসলে খুব ছোট বাচ্চাদের বিশেষ করে দুই বছর বয়স থেকে কম বয়সী বাচ্চাদেরকে গরুর দুধ কখনোই দেয়া উচিত না। আর দুই বছর পর থেকেও গরুর দুধ দেয়ার সময় একটু পাতলা করে দুধটা খাওয়ালে তাদের হজম করতে বেশি সুবিধা হয়ে থাকে। কিন্তু প্রচলিত রাঙা আলুর পায়েস রান্নার সময় পুর আলুটাই গরুর ঘন দুধের মধ্যে সিদ্ধ করা হয়ে থাকে। ফলে পায়েস অনেক বেশি ঘন হয়ে যায় যেটা একদম ছোট বাচ্চাদের হজম করতে অনেক অসুবিধা হতে পারে। তাই বাচ্চাদের অপেক্ষাকৃত কম ঘন দুধ দিয়ে তোইরী এই রাঙা আলুর পায়েস খাওয়ালে তাদের দুধের চাহিদাটা মিটে যাবে।

আর এই রাঙা আলুর পায়েস যেহেতু একদম পাতলা দুধ দিয়ে রান্না করা হয় বলে এটি হজম করতে বাচ্চাদের একদমই অসুবিধা হয় না। আর পুষ্টি গুণে ভরা থাকে বলে তাদের স্বাস্থ্যের জন্যও ভাল।

মজাদার রাঙা আলুর পায়েস বানাতে যে যে উপকরণ দরকার হবে

আমরা যখন আমাদ্র জন্য রাঙা আলুর পায়েস তৈরী করি তখন কিন্তু অনেক ধরণের উপকরণ ব্যবহার করে থাকি। এওত রকম উপকরণ ব্যবহার করার কারণে পায়েস বানাবার প্রসেসটাও বেশ একটু দীর্ঘ হয়ে যায়। এই যেমন বিভিন্ন রকম বাদাম ঘি এর মধ্যে ভাজা। কিংবা কেশর কেওড়া জল ও গোলাপ জল এর মধ্যে ভিজিয়ে রাখা ইত্যাদি। কিন্তু আমার এই রেসিপিটা যেহেতু বাচ্চাদের জন্য বানানো হচ্ছে তাই এটির মধ্যে এই ধরণের স্বাদ বর্ধক বাড়তি উপকরণ এর কোন ব্যবহার নেই বললেই চলে। এই কারণে এই বাড়তি রান্নার ধাপ গুলো এখানে করতে হয় না। আর এই কারণে রান্নাটাও খুব তাড়াতাড়িই হয়ে যায়। আসুন যেই অল্প কয়েকটি উপকরণ ব্যবহার করে এইমজাদার রাঙা আলুর পায়েস বানাতে হবে তা জেনে নেয়া যাক। সেই সাথে এই উপকরণ গুলো ঠিক কত টুকু পরিমাণে ব্যহার করতে হবে তাও জেনে নেই চলুন।

রাঙা আলু ১টি

পানি ১ কাপ

দুধ ১/২ কাপ

চিনি ১/৪ কাপ

আস্ত ছোট এলাচ ১টি

মজাদার রাঙা আলুর পায়েস যে পদ্ধতিতে বানাতে হবে

যদিও আমি আগেই বলে নিয়েছি যে বাচ্চাদের জন্য রাঙা আলুর পায়েস বানাতে খুব কম সময় এর দরকার হবে। তবে এই রান্নাটি কিন্তু বেশ কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করে করতে হবে। আসলে এই রান্নাতে ঘন দুধের ব্যবহার কম করার জন্য আমি আগে থেকে রাঙা আলু সিদ্ধ করে নিয়েছি পানির সাথে। তবে রাঙা আলু কেটে সিদ্ধ করতে  দিলে খুব বেশি সময় লাগে না সিদ্ধ হবার জন্য। তাই পুরো রান্নাটা শেষ করার জন্য আপনার খুব বেশি সময় দরকার হবে না। আসুন দেরি না করে বাচ্চাদের জন্য এই মজাদার রাঙা আলুর পায়েস রান্না করার সব গুলো ধাপ সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।

১ম ধাপ

প্রথমে একটা রাঙা আলু নিয়ে এর খোসা ছিলে নিতে হবে। এর পরে রাঙা আলুটি বেশ ছোট ছোট কিউব করে কেটে নিতে হবে।

২য় ধাপ

একতা সস প্যানে পানি নিতে হবে। পানি ফুটে উঠলে এতে রাঙা আলুর টুকরা গুলো দিয়ে দিতে হবে। ঢাকনা দিয়ে ঢেকে মিডিয়াম আঁচে জ্বাল দিতে হবে। খুব বেশি সময় জ্বাল দেবার দরকার নেই। রাঙা আলু খুব ছোট ছোট করে কেটে নেবার ফলে খুব অল্প সময় এর মধ্যেই এগুলো সিদ্ধ হয়ে যাবে। রাঙা আলুর টুকরা গুলো সিদ্ধ হয়ে গেলে একটা ফুড ম্যাশার কিংবা হ্যান্ড ব্লেন্ডার দিয়ে এগুলো একদম মিহি করে ভর্তা মত করে পানির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে।

৩য় ধাপ

সিধ ও ব্লেন্ড করে নেয়া রাঙা আলুর মধ্যে দুধ যোগ করে দিতে হবে। সেই সাথে পরিমাণ মত চিনি যগ করে দিতে হবে। এই দুটো উপকরণ যোগ করে খুব অল্প আঁচে আরো কিছু সময় জ্বাল দিতে হবে। রাঙা আলুর পায়েস একটু একটু পাতলা থাকতে থাকতেই চুলা বন্ধ করে দিতে হবে। কারণ রাঙা আলুর পায়েস ঠান্ডা হতে হতে বেশ কিছুটা ঘন হতে শুরু করে। এই কারণে আপনি যদি আগে থেকে ঘন করে ফেলেন তাহলে বাচ্চাদের খাওয়ার সময় রাঙা আলুর পায়েস বেশি শক্ত হয়ে যাবে। আর আমরা সকল মা মাত্রই জানি যে ছোট বাচ্চারা খুব বেশি শক্ত হয়ে যাওয়া ডেজার্ট খুব বেশি পছন্দ করে খায় না। তাই এই রাঙা আলুর পায়েস বেশ কিছুটা পাতলা থাকতে থাকতেই চুলা বন্ধ করে দিতে হবে। এবং একটা সার্ভিং ডিশে ঢেলে রাখতে হবে। এতে করে রাঙা আলুর পায়েসের কুকিং প্রসেস বন্ধ হয়ে যাবে। এবং এটি আর খুব বেশি ঘন হতে পারবে না।  

মন্তব্যসমূহ

আমি সাদিয়া রিফাত ইসলাম। একজন মা , হোমমেকার এবং ব্লগার। ভালভাসি রান্না করতে, বই পড়তে এবং লেখালেখি করতে।

মন্তব্য করুন