বাচ্চার_প্রথম_নিরাপদ_ফিঙ্গার_ফুড

বাচ্চাদের প্রথম নিরাপদ ফিঙ্গার ফুড

বাচ্চার জন্মের  ৬ মাস পরে মায়ের বুকের দুধের পাশাপাশি বাড়তি কিছু খাবার দিতে হয়। যেমনঃ ফলের পিউরি, নরম খিচুড়ি, চালের সুজি বা নরম ভাত ইত্যাদি। এইসব খাবারের সাথে আস্তে আস্তে মুরগির মাংস, মাছও দিতে হবে। এতে বাচ্চার শারীরিক ও মানসিক বিকাশ হবে দ্রুত। বাচ্চার বয়স যখন ৭-৮ মাস হবে তখন থেকেই শিশুকে নিজের হাতে কিছু খাবার দিতে হবে। এরফলে শিশু নিজের হাতে যেমন খাওয়া শিখবে তেমন তার খাবারের প্রতি রুচিও বাড়বে।

এখনকার সময়ে একটা কথা আমরা প্রায়ই শুনে বা বিভিন্ন লেখায় পড়ে থাকি যে, বাচ্চাকে ফিঙ্গার ফুড দেয়া জরুরী। আমাদের অনেকেই হয়তো জানেন না , ফিঙ্গার ফুড কি?

আসুন আজকে আমরা এই লেখায় জেনে নিই,  শিশুর ফিঙ্গার ফুড কি এবং কোনগুলো ফিঙ্গার ফুড হিসেবে নিরাপদ।

ফিঙ্গার ফুড কি?

৭/৮ মাসের সময় বাচ্চার হাতে এক কামড়ে খাওয়া যায়, এমন যে খাবার দেয়া হয় সেটাই ফিঙ্গার ফুড। ফিঙ্গার ফুড বাচ্চাকে দেয়া এক আনন্দকর এক ব্যাপার মা-বাবার জন্য। সেইসাথে একটু চিন্তারও বিষয়। শিশুকে ফিঙ্গার ফুড দেয়ার সময় খুব সচেতন থাকতে হবে। খাবার বাচ্চার গলায় আটকে যেতে পারে।

কিন্তু একটু খেয়াল রেখে ফিঙ্গার ফুডের সাথে বাচ্চাকে পরিচিত করতে পারলে পরবর্তীতে অনেক সুবিধা হয়। বাচ্চা নিজে থেকেই খাবার আগ্রহ পায়, তার পাশাপাশি নিজের কাজ নিজে করতে শিখে।

ফিঙ্গার ফুড হিসেবে কি কি দেয়া যেতে পারে?

ফিঙ্গার ফুড আসলে আলাদা করে রান্না করে দিতে হবে এমন কোন খাবার না। বাসায় থাকা যেকোন খাবারই হতে পারে বাচ্চার ফিঙ্গার ফুড।

তবে প্রথম ফিঙ্গার ফুড দেয়ার বেলায় একটু বেশি সতর্ক থাকতে হবে। বাচ্চাদের প্রথম নিরাপদ ফিঙ্গার ফুড হিসেবে দেয়া যেতে পারে এমন ১০টি ফিঙ্গার ফুডের না ও দেয়ার পদ্ধতিসহ তালকা করে দেয়া হল আপনাদের সুবিধার্থেঃ

১. পাকা কলাঃ কলাতে প্রচুর পরিমানে আয়রন আছে, যা বাচ্চার শরীরের জন্য খুব জরুরী। এই পাকা কলার পিউরি দিয়েই কিন্তু বাচ্চার প্রথম দিকের বাড়তি খাবার শুরু হয়। আবার এই পাকা কলাকে ছোট ছোট পিস করে ফিঙ্গার ফুড হিসেবে দেয়া যায়।

২. আপেলঃ আপেল ভালোভাবে ধুয়ে নিয়ে, খোসা ছিলে নিতে হবে। এরপর পাতলা করে টুকরা করে বাচ্চার হাতে দিতে হবে।

৩. আলুঃ নরম করে সিদ্ধ করা আলু, ছোট টুকরা করে ফিঙ্গার ফুড হিসেবে দেয়া যায়।

৪.  গাজরঃ গাজরের উপরের খোসাটা ফেলে পাতলা টুকরা করে শিশুদের হাতে দেয়া যায়। এটা দাঁত ওঠার আগে টিথারের কাজও করবে।

৫. চিজ/ টফুঃ দুধের তৈরি চিজ বা টফু লম্বা ও চিকন সাইজে কেটে বাচ্চার প্রথম ফিঙ্গার ফুড দেয়া যেতে পারে। দুধের তৈরি বলে চিজ বা টফু বাচ্চার মেধাবিকাশে অনেক ভালো।  

৬. বরবটিঃ জুলিয়ান বা ১ আঙ্গুল সমান সাইজ করে বরবটি কেটে গরম পানিতে হালকা সিদ্ধ করে দেয়া যাবে। এরফলে বাচ্চার মধ্যে সবজি খাওয়ার প্রবণতা গড়ে উঠবে।

৭.  টমেটোঃ টমেটোর বিচি ফেলে , ছোট টুকরা করে টমেটো শিশুর হাতে দেয়া যেতে পারে।

৮. মটরশুঁটিঃ মটরশুঁটি বাচ্চার ফিঙ্গার ফুড হিসেবে খুব ভালো। কারন এটা একদিকে যেমন পুস্টিকর তেমনই ছোট সাইজের হয় বলে বাচ্চার জন্য সুবিধা হয়।

৯. আম/ পাকা পেঁপেঃ আমের দিনে আম ছোট ছোট পিস করে বাচ্চাকে দিন। স্বাদ ও পুস্টি দুইই মিল্বে বাচ্চার। আর এছাড়া পাকা পেঁপেও এভাবে দেয়া যাবে প্রায় সারাবছর।

১০. মাছ/ মাংসঃ বড় মাছ বা মাংসের ছোট পিস অল্প আদা, রসুন, পেঁয়াজ দিয়ে সেদ্ধ করে দেয়া যেতে পারে। তবে মাছ বা মাংস উপরের ফিঙ্গার ফুডগুলোর সাথে বাচ্চা একটু অভ্যস্ত হওয়ার পর দেয়া ভালো।  

মন্তব্যসমূহ

নিজের পরিচয় দিতে গেলে সবার আগে বলব, আমি একজন মা। তার সাথে একজন হোমমেকার, শিক্ষক ও ব্লগার। লিখতে ভালবাসি। তার চাইতে ভালবাসি পড়তে, জানতে। এইতো! ছোট এক জীবনে অনেক কিছু, আলহামদুলিল্লাহ!!

মন্তব্য করুন