মজাদার ও ভিন্ন স্বাদ এর মিষ্টি আলুর হালুয়া

মজাদার ও ভিন্ন স্বাদ এর মিষ্টি আলুর হালুয়া

মিষ্টি আলু আমাদের দেশের সহজলভ্য সবজি গুলোর মধ্যে একটি। বিশেষ করে শীতের সময় এটি ভরপুর পরিমাণে বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। তবে আজকাল শীত কাল ছাড়াও বছর এর অন্যান্য সময়ও আপনি ইচ্ছা হলেই মিষ্টি আলু কিনতে পারবেন। এটি এখন প্রায় সারা বছর জুড়েইয়ামাদের দেশের প্রায় সব কাঁচা বাজারেই কিনতে পাওয়া যায়। আত্র কাঁচা বাজারে পাওয়া না গেলেও কোন সমস্যা নেই। বড় বড় সুপার শপ গুলো তো আছেই। এই সকল সুপার শপে তো প্রায় সব সময়ই সব ধরন এর সবজি কিনতে পাওয়া যায়। তা সে সিজনে থাকুক আর নাই বা থাকুক। অতএব মিষ্টি আলু খুজে পাওয়া আমাদের দেশে কখনোই কোন সমস্যা হতে পারে না। এত সহজলভ্যতা সত্ত্বেও আমাদের দেশের রেসিপি গুলোর মধ্যে মিষ্টি আলু দিয়ে বানানো হয় এমন রেসিপি খুব একটা দেখা যায় না। অথচ এই উপকরণটি দিয়ে কিন্তু অসাধারণ সব ডিশ রান্না করা যায়। তেমনি একটি ডিশ হচ্ছে মজাদার ও একদমই ভিন্ন স্বাদের মিষ্টি আলুর হালুয়া।

আসলে মিষ্টি আলু এমনিতেই অনেক মিষ্টি হয়ে থাকে। তাই এই উপকরণ দিয়ে যদি কোন ধরণ এর ডেজার্ট বানানো হয় তাহলে তা খেতে খুবই সুস্বাদু হয়ে থাকে। আর তাছাড়া এই মিষ্টি আলু খুবই পুষ্টিকর একটি খাবার। বিশেষ করে বাড়ন্ত শিশুদের সঠিক পরিমাণে পুষ্টির যোগান দেবার জন্য অন্যান্য সবজির সাথে সাথে কিছুটা পরিমাণে মিষ্টি আলুও খাওয়ানো উচিত। কিন্তু এই সবজিটা খেতে মিষ্টি হবার কারণে তরকারি হিসেবে রান্না করলে এটি খেতে এখুব একটা ভাল লাগে না। তাই বাচ্চারা একদমই এটা খেতে চায় না। কিন্তু আমরা সবাই জানি বাচ্চা মাত্রই মিষ্টি জাতীয় খাবার খুব পছন্দ করে খায়। তাই আপনি যদি বাচ্চাদেরকে মিষ্টি আলু দিয়ে হালুয়া রান্না করে দিতে পারেন তারা কিন্তু খুব মজা করেই সেটি খেয়ে নেবে। আর হালুয়া বানাবার জন্য অন্যান্য যে সকল উপকরন ব্যবহার করা হয়ে থাকে সেগুলোও বেশ হাই ক্যালরি যুক্ত খাদ্য উপকরণ। তাই যে কোন বাচ্চার জন্য মিষ্টি আলুর হালুয়া একটি আদর্শ খাবার হতে পারে। সেই সাথে মজাদার তো বটেই।

মিষ্টি আলুর হালুয়া বানাবার জন্য যে যে উপকরণ দরকার হবে

মিষ্টি আলু ছোট সাইজের দুটি

চিনি ১/৪ কাপ

দুধ ১ কাপ

পানি পরিমাণ মত

ঘি ৩ টেবিল চামচ

আস্ত ছোট এলাচ ১টি

গোলাপ জল ১ চা চামচ

কেওড়া জল ১/২ চা চামচ

কেশর দানা ৪ থেকে ৫টি

আস্ত কাজু বাদাম ৪ থেকে ৫টি

আস্ত চিনা বাদাম ৪ থেকে ৫টি

আস্ত কাঠ বাদাম ৪ থেকে ৫টি

আস্ত পেস্তা বাদাম ৪ থেকে ৫টি

আস্ত কিশমিশ ৪ থেকে ৫টি

মিষ্টি আলুর হালুয়া যে পদ্ধতিতে বানাতে হবে

১ম ধাপ

প্রথমে একটা ছোট পাত্রে কেওড়া জল ও গোলাপ জল মিশিয়ে নিতে হবে। এর মধ্যে অল্প কিছু কেশর দানা ভিজিয়ে দিতে হবে। কেশর দানা গুলো কেওড়া জল ও গোলাপ জল এর সাথে মিশে এর ফ্লেভার ও রঙ ছাড়তে শুরু করবে। দশ মিনিতের মিধ্যেই দেখা যাবে খুব সুন্দর রঙ ও ফ্লেভার যক্ত একটি মিশ্রণ তৈরী হয়েছে। মিষ্টি আলুর হালুয়া বানাবার একদম শেষ পর্যায়ে এসে এই ফ্লেভারফুল মিশ্রণ আমরা ব্যবহার করব।

২য় ধাপ

এই বার কিশমিশ ও বাদাম গুলো রেডি করে নিতে হবে। এর জন্য প্রথমে একটা ছোট পাত্রে অল্প একটু পানি নিয়ে তার মধ্যে শুকনো কিশমিশ গুলো ভিজিয়ে দিতে হবে। মোটামুটি দশ মিনিট থেকে পনেরো মিনিট ভিজিয়ে রাখতে হবে। এই সময়ের মধ্যেই এগুলো পানি শোষণ করে ফুলে উঠবে। তখন একটা ঝাঝড়িতে ঢেলে এগুলো থেকে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে।

এই বার একটা ফ্রাইং প্যানে এক চা চামচ ঘি নিতে হবে। ঘি গরম হয়ে আসলে এর মধ্যে আস্ত পেস্তা বাদান, কাজু বাদাম, চিনা বাদাম ও কাঠ বাদাম গুলো দিয়ে দিতে হবে। সেই সাথে পানি ঝরিয়ে রাখা কিশমিশ গুলোও এর মধ্যে দিয়ে দিতে হবে। হালকা করে ভেজে নিতে হবে। এই সময়ে একটা ব্যাপার খুব খেয়াল রাখতে হবে। বাদাম ঈ কিশমিশ গুলো খুনতি দিয়ে অনবরত নাড়া চাড়া করতে হবে। এবং অতি অবশ্যই চুলার জ্বাল একদমই কম করে রাখতে হবে। তা না হলে হটাত করেই বাদাম কিংবা কিশমিশ পুরে যেতে পারে। এই বাদাম ও কিশমিশ গুলো খুব বেশি সময় ধরে ভাজার দরকার নেই। দুই মিনিট থেকে তিন মিনিট ভেজে নিলেই হবে। এর পরে চুলা বন্ধ করে এই বাদাম ও কিশমিশের মিশ্রণ একটা প্লেটে ঢেলে রাখতে হবে।

কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। দশ মিনিট থেকে বারো মিনিট এর মধ্যেই এই বাদাম ও কিশমিশের মিশ্রণ গুলো একদমই ঠান্দা হয়ে যাবে। তখন আস্ত ভাজা বাদাম গুলো আপনার পছন্দ মত শেপে কুচি করে কেটে নিতে হবে।

৩য় ধাপ

এই বার পরিমান মত পানি দিয়ে মিষ্টি আলু সিদ্ধ করে নিতে হবে। সিদ্ধ মিষ্টি আলু থেকে খোসা ছাড়িয়ে একটা গ্রেটার দিয়ে সুন্দর করে গ্রেট করে নিতে হবে। একতা বড় করাতে পরিমাণ মত ঘি নিতে হবে। ঘি গরম হতে শুরু করলে এর মধ্যে একটা ছোট এলাচ ফোড়ন দিতে হবে। ঘি থেকে ছোট এলাচের সুন্দর গন্ধ আসা শুরু করলে গ্রেট করে রাখা সিদ্ধ মিষ্টি আলু এর মধ্যে দিয়ে দিতে হবে। বেশ খানিক্ষণ ভাজতে হবে।

৪র্থ ধাপ

মিষ্টি আলু ঘি এর মধ্যে মোটামুটি চার মিনিট থেকে পাঁচ মিনিট ভেজে নিতে হবে। এই সময়ে এর মধ্যে চিনি যোগ করে দিতে হবে। মিষ্টি আলু এমনিতেই বেশ মিষ্টি হয়। তাই অন্যান্য হালুয়ার তুলনায় এই হালুয়া বানাবার জন্য চিনির পরিমাণ একটু কমই দরকার হয়ে থাকে। একই সঙ্গে দুধ যোগ করতে হবে। মিডিয়াম আঁচে নেরে চেড়ে বেশ কিছুক্ষণ রান্না করতে হবে। এই সময় কোন ভাবেই খুনতি নাড়ানো বন্ধ করা যাবে না। তাহলে হালুয়া চুলার তলায় লেগে যেতে পারে।

৫ম ধাপ

মিষ্টি আলুর হালুয়া মোটামুটি হয়ে আসলে এর মধ্যে আগে থেকে ভেজে কুচি করে কেটে রাখা বাদাম, কিশমিশ দিয়ে দিতে হবে। সেই সাথে আগে থেকে রেডি করে রাখা কেশ, গোলাপ জল ও কেওড়া জল এর সুগন্ধি মিশ্রণ এই সময়ে যোগ করে দিতে হবে। এর পরে আরো দুই মিনিট থেকে তিন মিনিট মিষ্টি আলুর হালুয়া নেরে চেড়ে রান্না করতে হবে। মিশটি আলুর হালুয়া একটু পাতলা থাকতে থাকতেই চুলা বন্ধ করে দিতে হবে। কারণ হালুয়াটা ঠান্ডা হতে হতে আরো বেশ খানিকটা শক্ত ও ঘন হয়ে যাবে।

এই মিষ্টি আলুর হালুয়া ঠান্দা কিংবা গরম সব ভাবেই খেতে অনেক বেশি সুস্বাদু লাগে। আপনি যদি রুটি কিংবা পরোটার সাথে সকালের নাস্তায় এটি খেতে চান তবে এটি গরম গরম খেতেই ভাল লাগবে। আবার বিকেলেও নাস্তায় কিংবা কোন ভারী খাবারের শেষে ডেজার্ট হিসেবে খেতে চাইলে এই হালুয়া একটু ঠান্দা করে খাওয়াই ভাল। সেক্ষেত্রে দুই ঘন্টা থেকে তিন ঘন্টা ফ্রিজে রেখে খেলে এটি খেতে খুবই সুস্বাদু লাগবে। সবাই তো চেটে পুটে খাবেই। সেই সাথে রাধুনী হিসেবে আপনিও প্রচুর প্রশংসা পাবেন একদম অন্য ধরণের একটি ডেজার্ট কাহয়ানোর জন্য। এই মিষ্টি আলুর হালুয়া চার দিন থেকে পাঁচ দিন পর্যন্ত ফ্রিজে ভাল থাকবে।

মন্তব্যসমূহ

আমি সাদিয়া রিফাত ইসলাম। একজন মা , হোমমেকার এবং ব্লগার। ভালভাসি রান্না করতে, বই পড়তে এবং লেখালেখি করতে।

মন্তব্য করুন