মজাদার ও ভিন্ন স্বাদের গুড়া চিংড়ির পাকোড়া

মজাদার ও ভিন্ন স্বাদের গুড়া চিংড়ির পাকোড়া

চিংড়ি মাছ এমনি একটি খাবার যেটা যে কোন ভাবেই রান্না করা হোক না কেন, সকলেই তা পছন্দ করবে। চিংড়ি মাছ পছন্দ করেন না এমন মানুষ সহজে খুজে পাওয়া যাবে না। এমনকি যে সকল মানুষ মাছ খেতে খুব একটা পছন্দ করেন না তারাও কিন্তু চিংড়ি মাছ খুব পছন্দ করেই খেয়ে থাকেন। আর মাছ প্রিয় মানুষ হলে তো কথাই নেই। চিংড়ি মাছ খেতে তাদেরকে বলতেও হয় না। নিজে থেকেই খেয়ে নেন। আর চিংড়ি মাছের রেসিপিরও কিন্তু কোন অভাব নেই। নানা ভাবে নানা পদ্ধতিতে আর নানা রকম এর উপকরণ ব্যবহার করে কিন্তু চিংড়ি মাছ রান্না করা যায়। তবে এত সকল রেসিপির মধ্যে বেশির ভাগই হয়ে থাকে বড় কিংবা মাঝারি সাইজ এর চিংড়ি মাছ ব্যবহার করে। কিন্তু আর একটি মজাদার চিংড়ি মাছ এর কথা আমরা সকলেই প্রায় ভুলে যাই। সেটি হচ্ছে গুড়া চিংড়ি। আজ সেই গুরা চিংড়ির একটি রেসিপি শেয়ার করব। রেসিপিটি হচ্ছে মজাদার ও ভিন্ন স্বাদের গুড়া চিংড়ির পাকোড়া।

পাকোড়া আসলে আমাদের বাঙ্গালিদের অতি পরিচিত একটি খাবার।সন্ধ্যার নাস্তায় এক কাপ চা কিংবা কফির সাথে এক প্লেট পাকোড়া হলে আমরা বাঙ্গালি জাতি অনেক বেশি খুশি হয়ে যাই। আর আমাদের মধ্যে পাকোড়ার রেসিপিরও যেন অন্ত নেই। হেন জিনিস নেই যা দিয়ে আমরা পাকোড়া বানাই না। পুই শাকের পাকোড়া, আলুর পাকোড়া, ডাল দিয়ে পাকোড়া, ডাল ছাড়া পাকোড়া, নুডলস এর পাকোড়া কি নেই আমাদের রেসিপি বুকে। এমনকি ঢেড়শ দিয়েও কিন্তু কোন কোণ বাসায় সুন্দর পাকোড়া বানানো হয়ে থাকে। তবে শুধু মাত্র চিংড়ি মাছ দিয়ে পাকোড়া বানাবার কথা কিন্তু খুব বেশি শোনা যায় না। কিন্তু এই গুড়া চিংড়ি মাছ দিয়ে যদি পাকোড়া বানানো যায় তবে তার স্বাদ কিন্তু অসাধারণ হয়। আসলে গুরা চিংড়ির মধ্যে অন্যান্য সাইজ এর চিংড়ি থী বেশি স্মেল থাকে। এই কারণে গুরা চিংড়ি দিয়ে যেই খাবারই রান্না করা হোক না কেন তা থেকে চিংড়ি মাছ এর ফ্লেভারতা খুব বেশি ভাল ভাবে পাওয়া যায়। একারণেই খাবারটি অসাধারণ হয়ে ওঠে।

গুড়া চিংড়ির পাকোড়া বানাতে যে যে উপকরণ দরকার হবে

গুড়া চিংড়ির পাকোড়া বানাবার জন্য আমাদের খুব বেশি ধরণ এর উপকরণ কিন্তু দরকার হবে না। আমরা অন্যান্য সবজির পাকোড়া যে সকল উপকরণ ব্যবহার করে আমরা বানিয়ে থাকি সেগুলোই এই রেসিপির জন্যও ব্যবহার করা যাবে। আর এই সব গুলো উপকরণই প্রায় সব সময়ই আমাদের ফ্রিজে কিংবা রান্না ঘরে এমনিতেই পড়ে থাকে। আর এই সকল সাধারণ উপকরণ এর সাথে সঠিক পদ্ধতিতে গুড়া চিংড়ি মাছ ব্যবহার করে খুব সুস্বাদু এবং মচমচে গুড়া চিংড়ির পাকোড়া বানানো যেতে পারে। আসুন দেরি না করে কি কি উপকরণ ব্যবহার করে এই গুড়া চিংড়ির পাকোড়া বানাতে হবে তা জেনে নেয়া যাক। সেই সাথে এই উপকরণ গুলো কত টুকু পরিমাণে ব্যবহার করতে হবে তাও জেনে নেয়া যাক।

গুড়া চিংড়ি ১ কাপ

মিহি করে কুচি করে রাখা পেঁয়াজ ৩ তেবিল চামচ

মিহি করে কুচি করে রাখা রসুন ২ চা চামচ

মিহি করে কুচি করে রাখা আদা ১ চা চামচ’

মিহি করে কুচি করে রাখা টমেটো ৩ টেবিল চামচ

মিহি করে কুচি করে রাখা ধনে পাতা ২ চা চামচ

মিহি করে কুচি করে রাখা পুদিনা পাতা ১ চা চামচ

মিহি করে কুচি করে রাখা কাঁচা মরিচ ৩ চা চামচ

লবণ পরিমাণ মত

চিনি খুব সামান্য

ভাজা জিরা গুড়া ১ চা চমচ

ভাজা ধনে গুড়া ১ চা চামচ

ভাজা জোয়ান গুড়া ১/৪ চা চামচ

ভাজা মৌরি গুড়া ১/৪ চা চামচ

ভাজা কালো গোল মরিচ গুরা ১ চা চামচ

ভাজা গরম মশলা গুড়া ১ চা চামচ

ডিম ১টি

চালের গুড়া ২ টেবিল চামচ

কর্ণফ্লাওয়ার ২ চা চামচ

বেসন পরিমাণ মত

সাদা তেল ডুবো তেলে ভজার জন্য

গুড়া চিংড়ির পাকোড়া যে পদ্ধতিতে বানাতে হবে

গুড়া চিংড়ির পাকোড়া বানানো অত্যাধিক সহজ। এবং এটি বানাতে খুব কম সময় লাগে। এমনিতেই অন্য যে কোন মাছ এর তুলনায় চিংড়ি মাছ রান্না হতে অনেক কম সময় লাগে। তার উপরে যেহেতু এই রেসিপিটি বানাবার জন্য গুড়া চিংড়ি মাচ ব্যবহার করা হয়েছে তাই এই পাকোড়াটা মোটামুটি চোখের নিমিষেই বানানো হয়ে যাবে। আর এর টেস্ট এতটাই ভাল যে এটি বানাতে যতটা সময় লাগবে তার থেকে কম সময়ে এটি খেয়ে শেষ হয়ে যাবে। তবে চলুন আর দেরি না করে কোন কোন ধাপে কিভাবে এই গুড়া চিংড়ির পাকোড়া বানাতে হয় তা দেখে নেয়া যাক।

১ম ধাপ

প্রথমেই গুড়া চিংড়ি মাছু গুলা খুব ভাল করে পরিস্কার করে নিতে হবে। এবং এই চিংড়ি মাছ গুলোর মাথা ফেলে দিতে হবে। যদিও গুড়া চিংড়ি মাছ থেকে একটা একটা করে খোসা ছাড়ানো প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। তাই অন্তত চিংড়ি মাছের মাথাটা ফেলেদেয়া উচিত। এর পরে চিংড়ি মাছ গুলো খুব ভাল ভাবে ধুয়ে নিতে হবে। এবং একটা ঝাঝরিতে রেখে পানি হরাতে দিতে হবে। খুব এবশি সময় লাগবে না। মোটামুটী দশ মিনিট থেকে পনেরো মিনিট ঝাঝরিতে রেখে দিলেই গুড়া চিংড়ি মাছ গুলো থেকে বাড়তি পানি একদম ঝরে যাবে।

২য় ধাপ

এই সময়ের মধ্যে একটা পাত্রে মিহি করে কুচি করে রাখা পেঁয়াজ, রসুন আর আদা নিতে হবে। আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা খাওয়ার সময় মুখে আদার টুকরা পড়লে খুবই বিরক্ত বোধ করেন। অনেকে আবার আস আদার স্বাদটা পছন্দ করে থাকেন। এখন আপনি যদি আস্ত আদা পছন্দ না করেন তাহলে এই ক্ষেত্রে আদা বাটাও ব্যবহার করতে পারেন। তবে সেক্ষেত্রে আপনাকে ১/২ চাচামচ আদা বাটা ব্যবহার করতে হবে। এই উপকরণ তিনটির সাথে মিহি করে কুচি করে রাখা টমেটো, কাঁচা মরিচ মেখে নিতে হবে। সেই সাথে মিহি করে কুচি করে রাখা ধনে পাতা ও পুদিনা পাতাও যোগ করতে হবে। এই দুটি উপকরণ যোগ করার ফলে এই পাকোড়া থেকে খুব ফ্রেশ একতা ফ্লেভার আসবে।

এই বার এই কুচি করে রাখা মশলার মধ্যে লবণ ও চিনি যোগ করতে হবে। অবশ্য আপনি চাইলে চিনি যোগ নাও করতে পারেন। তার পরে ভাজা জিরা গুড়া, ভাজা ধনে গুড়া, ভাজা জোয়ান গুড়া, ভাজা কালো গোল মরিচ গুড়া ও ভাজা মৌরি গুড়া যোগ করতে হবে। হাত দিয়ে খুব ভাল করে মেখে নিতে হবে। মশলা গুলো মাখতে মাখতে যখন একটু নরম হয়ে আসবে তখন এর মধ্যে পরিস্কার গুড়া চিংড়ি মাছ গুলো দিয়ে দিতে হবে। ভাল করে মসলা গুলোর মিশ্রণ এর সাথে মেখে নিতে হবে।

৩য় ধাপ

এই বার এই গুড়া চিংড়ির মিশরণ এর সাথে একটা ডিম ফেটে মেখে নিতে হবে। সেই সাথে চালের গুড়া ও কর্নফ্লাওয়ারও মেখে নিতে হবে। সব কিছু এক সাথে মাখা হয়ে গেলে অল্প অল্প করে বেসন যোগ করতে হবে। এক বারে অনেক বেসন দিতে যাবেন না। অল্প অল্প করে বেসন দিবেন আর দেখবেন পাকোড়ার বাইন্ডিং আপনার মন মত হয়েছে কিনা। এই ব্যাপারটা পুরোটাই চোখের আন্দাজের উপর নির্ভর করে। এই ভাবে যখন দেখবেন বাইন্ডিং ঠিকঠাক মত হয়েছে তখন বেসন দেয়া বন্দ করে দিতে হবে।

৪র্থ ধাপ

কড়াতে সাদা তেল গরম করতে দিতে হবে। সাদা তে গরম হয়ে গেলে পাকোড়ার মিশ্রণ থেকে ছোট ছট বল এর আকারে গড়ে নিয়ে তেলে ছেড়ে দিতে হবে। দুই মিনিট থেকে তিন মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। এর পরে উলতে দিতে হবে। অপ্র পিঠও দুই মিনিট থেকে তিন মিনিট ভেজে নিতে হবে। এই চার থেকে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই গুড়া চিংড়ির পাকোড়া একদম পারফেক্ট গোল্ডেন ব্রাউন কালারে ভাজা হয়ে যাবে। পাকোড়া ভাজার সময় চুলা র আঁচ মিডিয়াম রাখতে হবে। এই বার টমেটো সস আর সালাদ দিয়ে পরিবেশন করতে হবে।

মন্তব্যসমূহ

আমি সাদিয়া রিফাত ইসলাম। একজন মা , হোমমেকার এবং ব্লগার। ভালভাসি রান্না করতে, বই পড়তে এবং লেখালেখি করতে।

মন্তব্য করুন