একদমই ভিন্ন স্বাদ এর কাঁচা আমের সস

একদমই ভিন্ন স্বাদ এর কাঁচা আমের সস

কাঁচা আম আমরা অনেক ভাবেই খেয়ে থাকি। আমাদের সকলেও অনেক প্রিয় একটি খাবার হচ্ছে এই কাঁচা আম। আমরা অনেক ভাবেই কিন্তু এই কাঁচা আম খেয়ে থাকি। কখনো কাঁচা আম ভর্তা করে খাওয়া হয়, আবার কখনো বা শরবত বানিয়ে আমরা খেয়ে থাকি। আর মসুর ডালের সাথে মিশিয়ে টক ডাল তো গরমের দিনের আমাদের রোজ কার খাবার। অনেকে আবার বিভিন্ন সবজির সাথেও এই কাঁচা আম এক সাথে রান্না করে থাকেন। কিন্তু এত রকম খাবারের সাথে আর একটি খাবারও কিন্তু কাঁচা আম দিয়ে রান্না করা যায়। আপনি হয়ত জেনে অবাক হবেন যে কাঁচা আম দিয়ে খুব সুন্দর সস বানানো যায়। আর স্বাদে গন্ধে অতুলনীয় এই কাঁচা আমের সস আপনার যে কোন খাবারকে পূর্ণতা দিতে অসাধারণ কাজ করতে পারে।

কাঁচা আমের সস আপনাদের কাছে একেবারে নতুন কিছু মনে হতে পারে। আসলেই এটি একেবারেই নতুন ধরণ এর একটি সস। কাঁচা আমের সস মূলত টক টক স্বাদের একটি সস। তবে সেই সাথে এতে বেশ খানিকটা মিষ্টি স্বাদও পাওয়া যাবে। এই অসাধারণ স্বাদের সসটি মূলত ডিপ ফ্রাইড খাআরের সাথে সার্ভ করলে বেশি ভাল লাগবে। আবার দই বড়া কিংবা দই ফুচকার সাথেও অল্পকরে আপনি এই টক মিষ্টি স্বাদ এর কাঁচা আমের সস সার্ভ করতে পারেন। আবার ঘরে বসে মজাদার পাপড়ি চাট বানাবার সময়ও কিন্তু অল্প পরিমাণে এই কাঁচা আমের সস যোগ করে দেয়া যেতে পারে। এই কাঁচা আমের সস খুব বেশি পরিমাণে কিন্তু ব্যবহার করার দরকার হয় না। সামান্য একটু ব্যবহার করলেই এই অসাধারণ সসটি আপনার নাস্তার মধ্যে অতুলনীয় স্বাদ যোগ করতে পারে।

কাঁচা আমের সস বানিয়ে আপনি অনেক দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে পারবেন। আপনি যদি এই সস ডিপ ফ্রিজে রাখেন তাহলে এটি আপনি ছয় মাসেরও অধিক সময় পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে পারবেন। আর যদি আপনি এই কাঁচা আমের সস নরমাল ফ্রিজে রাখতে চান তাহলেও কিন্তু মোটামুটি এক মাসে থেকে দেড় মাস অবধি এই সস একদম ঠিক ঠাক থাকবে। একদমই নষ্ট হবে না।

কাঁচা আমের সস বানাবার জন্য যে যে উপকরণ দরকার হবে

কাঁচা আমের সস নামটি শুনতে অনেক বেশি অদ্ভুত মনে হতে পারে। আর আপনার মনে হতেই পারে যে এই অদ্ভুত খাবারটি বানাবার জন্য না জানি কত রকম এর অদ্ভুত উপকরণ আমাদের দরকার হবে। কিন্তু আসলে বিষয়টা মোটেও তা নয়। এই অসাধারণ কাঁচা আমের সস বানাবার জন্য আমাদের কিন্ত খুবই সাধারণ কিছু উপকরণ এর দরকার হবে। আর এই সব গুলো উপকরণই প্রায় সব সময়ই আমাদের বাসায় থাকে। আর যদি এই উপকরণ গুলির মধ্যে কোণটি আপনার বাসায় নাও থাকে তবুও কোন সমস্যা নেই। কারণ এই সব গুলো উপকরণই খুব সহজ লভ্য। তাই আপনি যে কোন সময় যে কোন ভাল কোন মুদি দোকান থেকে সহজেই এই কাঁচা আমের সস বানাবার উপকরণ গুলি কিনে নিতে পারবেন।

আসুন এই সহজ লভ্য উপকরণ গুলো নাম এক এক করে জেনে নেই। সেই সাথে এই অসাধারণ কাঁচা আমের সস বানাবার জন্য এই সাধারণ উপকরণ গুলো ঠিক কত টুকু পরিমাণে দরকার হবে তাও জেনে নেয়া যাক। একটা ব্যাপার অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে এই সসটি বানাবার সময়। এখানে কাঁচা আমের সস বানাবার জন্য যে সকল উপকরণ গুলি যেই অনুপাতে ব্যবহার করা হয়েছে সেই অনুপাতটা ঠিক ঠাক রাখতে হবে। আপনি যদি এই মাপের থেকে কম বা বেশি মাপে কাঁচা আমের সস বানাতে চান তবে সেই অনুপাতে উপকরণ গুলির পরিমাণ কম বা বেশি করে দিতে হবে। তবে অবশ্যই এই গুলির অনুপাত ঠিক রাখতে হবে। আসুন উপকরণ গুলির অনুপাত জেনে নেয়া যাক।

কাঁচা আম ১ কেজি

লবণ পরিমাণ মত

সাদা ভিনেগার ১/২ কাপ

চিনি ৪ টেবিল চামচ

আস্ত শুকনা মরিচ ৩ থেকে ৪টি

আস্ত রসুন কোয়া ৪ থেকে ৫টি

সবুজ ফুড কালার ২ ফোটা থেকে ৩ ফোটা

পানি আড়াই কাপ

কাঁচা আমের সস যে পদ্ধতিতে বানাতে হবে

কাঁচা আমের সস বানাবার পদ্ধতি খুব কঠিন কিছু নয়। তবে এই বানাবার জন্য বেশ কয়েকটি ধাপে ধাপে পুরো প্রসেসটা শেষ করতে হয়। আর এই পুরো প্রসেসটা শেষ করতে কিছুটা বাড়তি সময় তো লাগবেই। আসলে কাঁচা আম এর মধ্যে যথেষ্ঠ পরিমাণ কষ বা আঠালো পদার্থ থাকে। যে কোন সংরক্ষণ করার মত রেসিপি কাঁচা আম দিয়ে তৈরী করতে গেলে তাই আগে কাঁচা আম থেকে কষ বা আঠা ছাড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে। আর তাছাড়া কাঁচা আমের সস সহ অন্য যে কোন সস বানাতে গেলেই কিন্তু দুই ধাপে সেই রান্নাটা কমপ্লিট করতে হয়। তাই সব মিলিয়ে এই রান্না করতে গেলে বেশ কিছুটা সময় আর শ্রম তো দিতেই হবে। তবে আমি এটা কথা দিতে পারি যে আপনি যদি একদম ঠিক ঠাক মত এই সময় ও শ্রম ব্যয় করেন তবে এর ফল কিন্তু খুবই ভাল হবে। কাঁচা আমের সস এর স্বাদ কিন্তু আপনাকে একেবারেই আশা হত করবে না। আসুন দেরি না করে কাঁচা আমের সস বানাবার ধাপ গুলো বিস্তারিত ভাবে জেনে নেয়া যাক।

১ম ধাপ

প্রথমে কাঁচা আম গুলো খুব ভাল ভাবে ধুয়ে পরিস্কার করে নিতে হবে। এর পরে কাঁচা আম গুলো থেকে খোসা ছাড়িয়ে এগুলো ছোট ছোট টুকরা করে কেটে নিতে হবে। এখন একটা পাত্রে বেশি করে পানি নিতে হবে। এই পানির মধ্যে ছোট ছোট করে কেটে নেয়া আমের টুকরা গুলো ভিজিয়ে দিতে হবে। মোটামুটি এক ঘন্টা থেকে দেড় ঘন্টা এই কাঁচা আমের টুকরা গুলো পানির মধ্যে ভিজিয়ে রাখতে হবে। এর পরে এই গুলো খুব ভাল করে হাত দিয়ে কচলে ধুয়ে নিতে হবে। এতে করে কাঁচা আমের মধ্যে থাকা সব ধরণের কষ বের হয়ে যাবে।

২য় ধাপ

একটা সস প্যানে কাঁচা আমের টুকরা গুলো নিয়ে নিতে হবে। এর সাথে পরিমান মত লবণ, আস্ত শুকনা মরিচ ও আস্ত রসুন কোয়া দিয়ে ভাল করে মেখে নিতে হবে। এর পরে এর সাথে পানি ও সাদা ভিনেগার যোগ করে দিতে হবে। মিডিয়াম আঁচে চুলা জ্বালিয়ে দিতে হবে। কাঁচা আমের টুকরা গুলো সিধ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কাঁচা আম সিদ্ধ হতে খুব একটা বেশি সময় এর দরকার হয় না। মোটামুটি দশ মিনিট থেকে বারো মিনিটের মধ্যেই সব কিছু সিদ্ধ হয়ে যাবে।

৩য় ধাপ

সিদ্ধ আম ঠান্ডা না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। সিদ্ধ আম ঠান্ডা হয়ে রুম টেম্পারেচারে চলে আসলে তা একটি ব্লেন্ডারে ভাল করে ব্লেন্ড করে নিতে হবে।

৪র্থ ধাপ

এই বার আবারো একটি সস প্যানে ব্লেন্ড করে নেয়া সিদ্ধ আমের মিশ্রণ ঢেলে দিতে হবে। সেই সাথে এর মধ্যে পরিমাণ মত চিনি যোগ করতে হবে। আমের মিশ্রণ ফুটে ঘন হয়ে আসা শুরু করলে এর মধ্যে দুই ফোটা থেকে তিন ফোটা সবুজ ফুড কালার মিশিয়ে দিতে হবে। এর পরে চুলা বন্ধ করে দিতে হবে। কাঁচা আমের সস ঠান্ডা হয়ে রুম টেম্পারেচারে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এটি রুম টেম্পারেচারে এসে গেলে সংরক্ষণের পাত্রে ঢেলে রেখে দিতে হবে।

৫ম ধাপ

কাঁচা আমের সস সংরক্ষণ করার জন্য অবস্যই কাঁচের বোতল কিংবা বয়াম ব্যবহার করতে হবে। সংরক্ষণের পাত্রটি খুব ভাল করে পরিস্কার করে শুকিয়ে নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন পাত্রের গায়ে এক ফোটাও পানি লেগে না থাকে। আর খুব ভাল হয় যদি শুকনা কাঁচের পাত্রটি চুয়ার উপর মৃদু তাপে হালকা গরম করে নেয়া যায়। এতে করে সংরক্ষণের পাত্রে কোন রকম জীবাণু থাকার সম্ভাবনা থাকবে না। এবং কাঁচা আমের সস অনেক দিন যাবত ভাল থাকবে।

কাঁচের পাত্র রেডি করা হয়ে গেলে এর মধ্যে কাঁচা আমের সস ঢেলে দতে হবে। প্রয়োজন মত যখন ইচ্ছা হবে এটি ব্যবহার করতে হবে।

মন্তব্যসমূহ

আমি সাদিয়া রিফাত ইসলাম। একজন মা , হোমমেকার এবং ব্লগার। ভালভাসি রান্না করতে, বই পড়তে এবং লেখালেখি করতে।

মন্তব্য করুন