চুলে তেল ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা

চুলে তেল ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা

নারীর সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে প্রাচীনকাল থেকেই একটা ধারনা বর্তমান তা হলো চুলের যেকোনো সমস্যারই সমাধান যেন চুলে তেল ব্যবহারেই পাওয়া যায়। বিষয়টি কিন্তু আসলে একবারে সঠিক। সুস্থ সুন্দর চুলের জন্য তেল ব্যবহারের কোন বিকল্প নেই। বিশেষজ্ঞরা বলেন, চুলের জন্য সবচেয়ে ভালো খাবার হলো তেল। বহুকাল ধরেই চুলে গরম তেলের ব্যবহার হয়ে আসছে। আগের দিনে ছোটবেলায় মা-দাদীরা চুলে বিলি কেটে তেল দিয়ে দিতেন। কিন্তু টিনএজে যাওয়ার পর থেকেই মাথায় তেল দেওয়া বন্ধ। আর আজকাল তো চুলে তেল দেয়ার প্রচলন অনেকটাই কমে আসছে।

আমরা জানি আমাদের চুল একধরনের মৃত কোষ বা ডেড সেল। স্কাল্পে/চুলের গোড়ায় থাকে সিবাম গ্ল্যান্ড/গ্রন্থি। যেখান থেকে নিয়মিত প্রাকৃতিক তেল নিঃসরণ হয়ে চুলকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে এবং চুলকে রুক্ষ, শুষ্ক ও ভঙ্গুরতার হাত থেকে রক্ষা করে। আমাদের ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য যেমন প্রাকৃতিক তেল নিঃসরণ জরুরি, তেমনি চুলের জন্যেও জরুরি। কারো মাথার ত্বক/স্কাল্প শুষ্ক, কারো তৈলাক্ত বা কারো আবার স্বাভাবিক। এই পার্থক্যের জন্যই কারো কারো চুল বেশি তেলতেলে আর কারোই বা শুষ্ক-রুক্ষ।
প্রাকৃতিক দূষণ, কেমিক্যালজাত পণ্যের ব্যবহার, অযত্ন ও অপুষ্টিজনিত হাজারো কারণে চুলের নানাবিধ সমস্যা দেখা দেয়। চুল পড়া, চুল রুক্ষ হয়ে যাওয়া, খুশকির সমস্যা, চুলের আগা ফাটার মতো চুলের প্রধান সমস্যাগুলোর অধিকাংশই দূর করা সম্ভব হয় নিয়মিত তেলের ব্যবহারে।

নিয়মিত চুলে তেল ব্যবহারে যে উপকার পেতে পারেনঃ চুলে নিয়মিত তেল ব্যবহারে এটি

•    কম বয়সে চুল পাকা রোধ করে
•    খুশকি দূর করে
•    চুলের গোড়ায় পুষ্টি যোগায়
•    মনকে শান্ত করে
•    চুলের বৃদ্ধি দ্রুত করে 
•    চুল মজবুত রাখে 
•    আগা ফাটা রোধ করে 
•    চুল মসৃণ ও ঝলমলে হয়
•    চুলের গোড়া শক্ত হয়। 

চুলে কতবার তেল ব্যবহার করা প্রয়োজনঃ চুলে সপ্তাহে কতবার তেল দিলে চুলের জন্য ভাল হবে তা নির্ভর করে চুলের ধরণের উপর। যাদের শুষ্ক চুল তাদের চুল পড়ে যাওয়া এবং ভেঙে যাওয়ার বেশি সম্ভাবনা থাকে। তাদের সপ্তাহে একবারের বেশি তেল লাগানো প্রয়োজন। এরকম চুলের অধিকারীরা সপ্তাহে ২-৩ বার তেল ব্যবহারে ভাল ফলাফল প্রত্যাশা করতে পারেন।

আর যাদের তৈলাক্ত মাথার ত্বক তাদের সপ্তাহে একবার তেল ব্যবহারই যথেষ্ট। তৈলাক্ত চুলে আবার বেশি তেল লাগানো একদম উচিত না। এতে চুল পরার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এবং যাদের মাথার ত্বক/স্কাল্প স্বাভাবিক তাদের খুব বেশি তেল লাগানোর প্রয়োজন হয় না। তারা চুলের যত্নে জন্য সপ্তাহে এবার বা সর্বোচ্চ দুবার তেল ব্যবহার করতে পারেন। কারন এটা মনে রাখা জরুরী, যে ধরনেরই ত্বকই হোক না কেন সপ্তাহে অন্তত একবার তেল ব্যবহার করা চুলে স্বাস্থের জন্য খুবই গুরত্বপূর্ন।

চুলের যত্নে গরম তেল/হট অয়েল ম্যাসাজঃ তেল গরম করে ব্যবহার করলে তেলের গুনাগুন অনেকটাই বেরে যায় এবং তা চুলে কাজও করে বেশ ভালভাবে। সপ্তাহে অন্তত একদিন স্কাল্পে হট অয়েল ম্যাসাজ করা প্রয়োজন। এটি চুলের স্বাস্থ্যের জন্য যেমন ভালো। তেমন গরম তেল চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। নিয়মিত গরম তেল মাখলে মাথার খুশকি এবং চুলকানি কমে যায়

একটি পাত্রে ৪ টেবিল চামচ তেল নিন। একে চুলায় খুবই অল্প আঁচে গরম করতে থাকুন। চুলা নিভিয়ে ফেলার আগে তেলের মধ্যে এক টেবিল চামচ পানি যোগ করে নাড়তে থাকুন। তেল গরম হয়ে গেলে নামিয়ে ফেলুন। একটু ঠান্ডা হতে দিন। এরপর তেল হাতে নিয়ে আঙুলের ডগা দিয়ে মাথায় আলতোভাবে ম্যাসাজ করে করে লাগিয়ে নিন। বারতি তেল থেকে থাকলে সেটা চুলে লাগিয়ে নিতে পারেন। বিশেষকরে চুলের ডগায়। এটা চুলের আগাফাটা প্রতিরোধে সহায়ক। এরপর গরম পানিতে ভেজানো তোয়ালে দিয়ে মাথা ঢাকুন। ১৫ থেকে ২০ মিনিট এভাবে রাখুন। এরপর তোয়ালে খুলে চুল শ্যাম্পু করে নিন।

এবার জানা যাক, কোন ধরণের চুলের জন্য কোন তেল বেশি উপকারীঃ

শুষ্ক চুলে আমন্ড অয়েল/বাদাম তেল, নারকেল তেল, সরিষার তেল ইত্যাদি উপকারী ভূমিকা পালন করে

তৈলাক্ত চুল অলিভ অয়েল/জলপাইয়ের তেল, তিলের তেল ইত্যাদি উপকারী ভূমিকা পালন করে এবং

স্বাভাবিক চুলে আমলা তেল, বাদাম তেল ইত্যাদি উপকারী ভূমিকা পালন করে

মন্তব্যসমূহ

হ্যান্ডিক্রাফটের কাজের প্রতি অগাধ ভালবাসা।প্রচুর ক্রাফটিং করি। আর বিউটি নিয়েও একটু ঘাটাঘাটি করি তাই ক্রাফট এন্ড বিউটি নিয়েই টুকটাক লিখার চেষ্টা করি।

মন্তব্য করুন