ইফতারে পরিবেশন করুন মজাদার টক মিষ্টি কাঁচা আমের শরবত

ইফতারে পরিবেশন করুন মজাদার টক মিষ্টি কাঁচা আমের শরবত

কি ভীষণ গরম এর মধ্যে এই বার রোজা এসে পড়েছে। এই সময়ে ইফতারের টেবিলে যতটা সম্ভব প্রাকৃতিক ভাবে বানানো খাবার থাকা উচিত। তাই ইফতারের টেবিলে বাজারের কেনা রেডিমেড শরবত পাউডার কিংবা প্যাকেটজাত জুস খাওয়ার বদলে আমাদের উচিত ঘরেই শরবত বানিয়ে নেয়া। এই গরমের সময়ে বাজারে কিন্তু নানান রকম এর মৌসুমি ফল মুল পাওয়া যায়। এই সব ফল ব্যবহার করে কিন্তু আপনি খুব সহজেই ঘরে বসেই নান রকম এর ঠান্ডা ঠান্ডা শরবত বানিয়ে নিতে পারবেন। এই যেমন কাঁচা আম। বাজারে ঘুরলে এখনো মাঝে মাঝে কাঁচা আমের দেখা পাওয়া যায়। এই কাঁচা দিয়ে ইফতারের জন্য খুব শজেই কিন্তু টক মিষ্টি কাঁচা আমের শরবত বানিয়ে নেয়া যায়। সারা দিনের রোজা রাখার পর যে কোন বাজার জাত কেমিকেল ও প্রিজারভেটিভ যক্ত জুস থেকে এই টক মিষ্টি কাঁচা আমের শরবত সব দিক থেকেই ইফতারের জন্য আদর্শ একটি খাবার হতে পারে।

আর তীব্র গরম এর মধ্যে রোজা রাখার কারণে ইফতারের সময় আমাদের সকলেরই পিপাসায় গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায়। এই সময়ে অন্য যে কোন খাবার থেকে শরবতটাই যে সব থেকে বেশি শান্তি আর তৃপ্তি এনে দেয় সে কথা তো বলাই বাহুল্য। আর এই কারণেই আজ আমি আপনাদের সাথে একটি মজাদার ও তেস্টি শরবতের রেসিপি শেয়ার করতে চলেচি। এই টক মিষ্টি কাঁচা আমের শরবত আমাদের বাসার ইফতার টেবিলে সব থেকে হিট আইতেম। আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি যে আপনি যদি এটি আপনার বাসায় বানানো শুরু করেন তবে এটি আপনার বাসার ইফতার টেবিলেরও সব থেকে হিট আইটেম হয়ে দাঁড়াবে। আর সারা দিনের রোজা শেষে তৃষনার্ত অবস্থায় এক গ্লাস বরফ দেয়া ঠান্ডা ঠান্ডা টক মিষ্টি কাঁচা আমের শরবত থেকে ভাল আর কিছুই হতে পারে না। আসুন কি পদ্ধতিতে এবং কি কি উপকরণ ব্যবহার করে ইফতারের জন্য এই টক মিষ্টি কাঁচা আমের শরবত বানাতে হবে তা জেনে নেয়া যাক।

কাঁচা আমের শরবত বানাবার জন্য যে যে উপকরণ দরকার হবে

টক মিষ্টি স্বাদ এর কাঁচা আমের শরবত বানাবার জন্য আমাদের খুব বেশি সংখ্যক উপকরণ এর কিন্তু দরকার হবে না। খুব সাধারণ কিছু উপকরণ ব্যবহার করে এই শরবতটি আনানো হয়ে থাকে। তাছাড়া এই সব গুলো উপকরণই কিন্তু প্রায় সব সময়েই আমাদের হাতের কাছেই থাকে। আর যদি এগুলো আমাদের হাতের কাছে নাও পাওয়া যায় তবুও খুব সহজেই আপনি যে কোন সময়ে যে কোন দোকান থেকে এই উপকরণ গুলি কিনে নিতে পারবেন। আর কাঁচা বাজারে আর ফলের দোকান সব জায়গাতেই তো প্রচুর পরিমাণে টক টক কাঁচা আম এমনিতেই পাওয়া যাচ্ছে। তাই দেরি না করে এই টক মিষ্টি স্বাদ এর কাঁচা আমের শরবত বানাবার উপকরণ গুলি যোগাড় করে নিন। আর বানিয়ে ফেলুন মজাদার, তৃপ্তিদায়ক, ও ভিন্ন স্বাদের টক, মিষ্টি কাঁচা আমের শরবত। তবে আগে আসুন এই শরবত বানাবার জন্য আসলে কি কি উপকরণ দরকার হবে তা জেনে নেই। সেই সাথে এই উপকরণ গুলি ঠিক কত টুকু পরিমাণে ব্যবহার করতে হবে তাও জেনে নেয়া যাক চলুন।

কাঁচা আম ২ থেকে ৩টি

চিনি ১ কাপ

লবণ ১ চিমটি

বিট লবণ ১ চা চামচ

ভাজা জিরা গুড়া ১ চা চামচ

ভাজা কালো গোল মরিচ গুড়া ১ চা চামচ

ভাজা মৌরি গুড়া ১ চা চামচ

ভাজা জোয়ান গুড়া ১ চা চামচ

মিহি করে কুচি করী রাখা ধনে পাতা ২ চা চামচ

মিহি করে কুচি করে রাখা পুদিনা পাতা ৪ চা চামচ

ঠান্ডা পানি ৩ কাপ

বরফ কুচি পরিমাণ মত

টক মিষ্টি কাঁচা আমের শরবত যে পদ্ধতিতে বানাতে হবে

টক মিষ্টি কাঁচা আমের শরবত বানাবার পদ্ধতি খুবই সাধারণ। আর এটি বানাবার জন্য সময়ও খুব কম লাগে। আপনি যদি ভাল মানের কোন ব্লেন্ডার ব্যবহার করে এই শরবত বানাতে চান তবে খুব কম সময় নিয়েই আপনি অতি সহজেই এই অসাধারণ স্বাদ এর শরবতটি বানিয়ে ন্তে পারবেন। এটি চাইলে আপনি আগে থেকে বেশি করে বানিয়ে ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন। এই শরবতটি মোটামুটি দুই দিন থেকে তিন দিন পর্যন্ত ফ্রিজে খুব ভাল ভাবে থাকে। আর যেহেতু এই শরবত বানাতে খুব বেশি সময় দরকার হয় না, তাই আপনি চাইলে ইফাতার এর সময় এর ঠিক আগে আগেও এটি চটপট করে বানিয়ে নিতে পারবেন। আসুন দেরি না করে কিভাবে ও কি কি ধাপ অনুসরণ করে এই টক মিষ্টি কাঁচা আমের শরবত বানাতে হয় তাজেনে নেয়া যাক।

১ম ধাপ

প্রথমে কাঁচা আম গুলোকে শরবত বানাবার জন্য রেডি করে নিতে হবে। এর জন্য প্রথমে কাঁচা আম গুলো থেকে খোসা ছাড়িয়ে নিতে হবে। এর পরে এই কাঁচা আম গুলো থেকে বিচি বের করে নিতে হবে। এবং সেই সাথে খুব ছোট ছোট করে কেটে নিতে হবে। যত ছোট ছোট করে কাঁচা আম গুলো কাটা যায় ততই ভাল। যদি সম্ভব হয় তাহলে একদম মিহি করে কুচি করে নিতে হবে। তাহলে পরবর্তি সময়ে ব্লেন্ডার এর মধ্যে ব্লেন্ড করতে খুব সুবিধা হবে।

কাঁচা আম গুলো আপনার পছন্দ মত করে কুচি করা হয়ে গেলে একটা বড় বোলে রেখে দিতে হবে। এর মধ্যে বেশ খানিকটা পানি যোগ করে কাঁচা আম এর টুকরা গুলো ভিজিয়ে রাখতে হবে। খুব বেশি সময় ধরে ভিজিয়ে রাখার দরকার নেই। মোটামুটি বিশ মিনিট থেকে আধা ঘন্টা এই কাঁচা আমের কুচি গুলো পানির মধ্যে ভিজিয়ে রাখলেই চলবে। এর পরে হাত দিয়ে কাঁচা আম এর কুচি গুলো খুব ভাল করে এক বার কচলে ধুয়ে নিতে হবে। এতে করে কাঁচা আমের মধ্যে থাকা কষ বা আঠালো ভাব চলে যাবে। এবং এই আম এর কুচি গুলো দিয়ে বানানো হরবত এর রঙ ও টেস্ট ভাল আসবে।

২য় ধাপ

এই বার একটা ব্লেন্ডার এর মধ্যে প্রথমে কাঁচা আম এর কুচি গুলো নিয়ে নিতে হবে। এর মধ্যে লবণ, বিট লবণ ও চিনি যোগ করতে হবে। আপনি আপনার স্বাদ ও পছন্দ অনুযায়ী চিনি কম বা বেশি করে যোগ করতে পারেন। আবার কাঁচা আমের টক ও মিশটতার পরিমাপের উপরও এই চিনির পরিমাণ বেশ খানিকটা নির্ভর করে থাকে। এই কারনে চিনির পরিমাণটা পুরোটাই অপশনাল। এই বার একই সাথে ভাজা জিরা গুড়া, ভাজা কালো গোল মরিচ গুড়া, ভাজা মৌরি গুড়া ও ভাজা জোয়ান গুড়া যোগ করতে হবে। সেই সাথে মিহি করে কুচি করে রাখা পুদিনা পাতা ও ধনে পাতাও যোগ করে দিতে হবে। এই সব গুলো উপকরণ এর সাথে যোগ করতে হবে ১/৪ কাপ ঠান্ডা পানি। তার পরে সব উপকরণ এক সাথে খুব ভাল করে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। সেখতে হবে যেন কোন আস্ত কাঁচা আম এর টুকরা না থাকে। সব কিছু যেন ঠিক মত ব্লেন্ড হয়ে যায় তা লক্ষ্য রাখতে হবে।

এর পরে বাকি পানি যোগ করে আরো এক বার ভাল করে সব উপক্রণ এর সাথে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। আসলে শুরুতে সম্পূর্ণ পানি এক সাথে না দিয়ে দুই বারে পানি যোগ করার একটি কারণ আছে। শুরুতেই অল্প করে পানি যোগ করে সব উপকরণ ব্লেন্ড করা হলে বেলন্ডিং প্রসেস খুব ভাল হয় এবং ওন কাঁচা আএর টুকরা আস্ত থাকার সম্ভাবনা থাকে না। কিন্তু শুরুতেই যদি আমরা সব পানি এক সাথে দিয়ে দেই তবে ব্লেন্ডিং প্রসেস কখনোই পুরোপুরি ভাল হবে না। এবং শরবত খাওয়ার সময় দেখা যাবে যে কাঁচা আম এর ছোট ছোট টূকরা গালে বাধছে। তখন আর এই শরবত খেতে অত বেশি তেস্ট লাগে না। তাই আগে অল্প পানি দিয়ে সব কিছু ব্লেন্ড করে নিতে হিবে। তার পরে বাকি ঠান্ডা পানি যোগ করে সুন্দর করে সব কিছু আবারো ভাল মত মেশানোর জন্য বকেন্ড করে নিতে হবে

৩য় ধাপ

এই টক মিষ্টি কাঁচা আমের শরবত অবশ্যই ঠান্দা পানি দিয়ে করতে হবে। এবং ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা ঠন্ডা পরিবেশন করতে হবে। ইচ্ছা হলে পরিবেশনের সময় বেশ কিছুটা বরফ কুচি দিয়ে দেয়া যেতে পারে। এতে করে এই শরবত গরমের দিনের শেষে ইফতারে আরো বেশি স্বস্তি এনে দিতে পারবে।

মন্তব্যসমূহ

আমি সাদিয়া রিফাত ইসলাম। একজন মা , হোমমেকার এবং ব্লগার। ভালভাসি রান্না করতে, বই পড়তে এবং লেখালেখি করতে।

মন্তব্য করুন