গুড হোম মেকিং এর জন্য দারুণ কার্যকরি কিছু টিপস

গুড হোম মেকিং এর জন্য দারুণ কার্যকরি কিছু টিপস

গুড হোমমেকিং কথাটা শুনতে খুব সহজ মনে হতে পারে। মনে হয় এ আর এমন কি কাজ। এই একটু ঘর দড় গুছিয়ে রাখতে হবে। আর ভাল ভাল কিছু রান্না করতে হবে। ব্যাস তাহলেই হয়ে গেল গুড হোমমেকিং। কিন্তু আদতে ব্যাপারটা কিন্তু মোটেই তা নয়। একজন হোমমেকার এর উপর একটা সংসারের পুরো দায়িত্ব থাকে। তাই তিনি যদি তার কাজ গুলো সঠিক ভাবে করতে না পারেন তাহলে কিন্তু পুরো সংসারের সকলের কাজ করররমের সিস্টেমই গোলমেলে হয়ে যায়। একজন ভাল হোম মেকার এর কর্ম দক্ষতার উপর আসলে পুরো পরিবারের কর্ম দক্ষতা আর সফলতা অনেকাংশেই নির্ভর করে থাকে। তা আমরা স্বীকার করি আর নাই বা করি। তাই হোম মেকিং এর কাজকে কোন ভাবেই সামান্য তম অবহেলা করার কোন সুযোগ নেই। সঠিক ভাবে হোম মেকিং করা যথেষ্ঠ কঠিন একটা কাজ। আসুন এই কঠিন কাজটাকে সহজ করে তোলার জন্য কিছু সহজ টিপস জেনে নেয়া যাক।

১ম টিপস

আপনার দিনের শুরুটা সঠিক ভাবে করুন। দিনের প্রথম কাজটি করুন আপনার বিছানা গোছানো দিয়ে। অনেক পরীক্ষায় দেখা গেছে যে আপনার ঘুম ভাঙ্গার পর প্রথম কাজটি হওয়া উচিত বিছানা গোছানো। এর কয়েকটি কারণ আছে। প্রথমত আপনি যখন এক বার আপনার রাতের অগোছালো বিছানা গুছিয়ে ফেলবেন তখন এটি আপনার মস্তিস্ককে সিগনাল দেবে যে এখন আর ঘুমানোর সময় নেই। তাই ঘুম থেকে উঠে আবারো বিছানায় শুয়ে পড়া থেকে এটি আপনাকে বিরত রাখবে। আর তাছাড়া বিছানা আপনার ঘরের সব থেকে বড় ফার্নিচার। তাই এই ফার্নিচার যখন গোছানো হয়ে যায় তখন অটোমেটিকালি আপনার ঘরটা অনেক বেশি গোছানো মনে হতে শুরু করে। ফলে আগের রাতের ঘুএর ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। আর কাজে মন বসাতেও সুবিধা হয়।

২য় টিপস                     

আমার ২য় টিপস হচ্ছে কাজ ফেলে রাখবেন না। বিশেষ করে ঘর গোছ গাছ করার কাজ। আপনি হাটতে চলতেই আপনার আশে পাশের অগোছালো কাজ গুলো গুছিএ ফেলুন। এই যেমন সোফার একটা কুশন বেকে গেছে। পরের দিন সোফা গুছানর সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে যাবেন না। এখনই কুশনটি ঠিক করে ফেলুন। বারান্দার কিছু কাপড় শুকিয়ে গেছে। তাহলে ঐ কাপর গুলো পরের দিন ভাজ করার জন্য তুলে রাখবেন না। শুকানোর সাথে সাথেই এই কাপড় গুলো ভাজ করে আলমারিতে তুলে রাখুন। খাওয়ার পর পরই প্লেট বাটি গুলো মেজে ফেলুন। কিংবা রাধতে রাধতেই না মাজা বাসন কোসন গুলো মেজে নিন। এই ভাবে এক কাজের ফাকে ফাকে ছোত ছোট অন্য কাজ গুলো করে নিলে দেখবেন ঘর দোর অনেক গোছানো লাগবে। আপনার কাজও অনেক কমে যাবে। তা না হলে এই ছো ছোট কাজ গুলো জমে গিয়ে পরের দিন আপনার জন্য কাজের পাহাড় স্বরূপ আবির্ভুত হবে।

৩য় টিপস

নিজেকে গুছিয়ে রাখতে হবে। শুনতে হয়ত হাস্যকর লাগছে। কিন্তু এই কথার পিছনেও কিন্তু ফ্যাক্ট আছে। মনোবিজ্ঞানিরা বলেছেন, আপনি যখন নিজেকে গুছিয়ে ফিটফাট হয়ে থাকেন তখন আপনার প্রোডাক্টিভিটি এক নিমিষের মধ্যেই কয়েক গুণ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। নিজেকে গুছিয়ে ফিট ফাট করে রাখার মানে এই নয় যে আপনাকে ফুল কভারেজ মেকাপ করে দামি জামা কাপড় পড়ে নাজেহাল হয়ে ঘরের কাজ করতে হবে। নিজেকে গুছিয়ে রাখার মানে হচ্ছে একটু ভাল আয়রন করা জামা কাপড় পরুন। পরিস্কার জামা কাপড় পরুন। ঢোলাঢালা কমফোর্টেবল কাপড় পরুন যেটা আপনাকে স্বস্তির সাথে কাজ করার সুযোগ দেবে। চুল আঁচরে রাখুন। সুন্দর করে চুল বেধে রাখুন। এতে করে আপনার মনটাও ভাল থাকবে। সেই সাথে আপনার কাজে আসবে দ্বিগুণ গতি। আর আপনার যদি হটাত করে বাইরে যাবার দরকার হয় কিংবা হুট করে বাসায় মেহমান আসে তাহলে নিজেকে রেডি করার জন্য আর আলাদা করে তাড়াহুড়ো করে সময় ব্যয় করার দরকার হবে না।

৪র্থ টিপস

আর একতা খুব দরকারি টিপস হচ্ছে ঘরের ক্লিনিং নিয়ে। আপনি একটা জিনিস ভাল মত চিন্তা করে দেখুন। আপনি কিন্তু যতই চেষ্টা করুন না কেন, প্রত্যেক দিন ইচ্ছা করলেও আপনি ঘরের প্রতেয়ক অংশ ডিপ ক্লিন করতে পারবেন না। অথচ আপনার ঘরকে সুন্দর করে রাখার জন্য আপনার ঘরের প্রতিটি অংশ সঠিক ভাবে পরিস্কার থাকাটা খুবই জরুরি। তাই আপনি আপনার ঘরকে সঠিক ভাবে পরিস্কার করে রাখার জন্য একটি প্রাকটিকাল এবং সহজ ক্লিনিং রুটিন রেডি করুন।

এই ক্লিনিং রুটিনকে আপনি তিন ভাবে ভাগ করতে পারেন। ডেইলি ক্লিনিং রুটিন, উইকলি ক্লিনিং রুটিন আর মান্থলি ক্লিনিং রুটিনে আপনাকে আপনার ঘরের বিভিন্ন অংশের পরিস্কার করা ভাগ করতে হবে। এই যেমন ফার্নিচার মোছা, কিংবা ঘর ঝাট দেয়া আর মোছার মত পরিস্কার করার কাজ গুলো আপনি রোজ করতে পারেন। আবার বাথরুম পরিস্কার করা কিংবা ঘরের কোণায় জমে থাকা ঝুল পরিস্কার করার মত কাজ গুলো করার জন্য সপ্তাহের একটি দিন বেছে নিতে পারেন। আর ফ্রিজ কিংবা মাইক্রোওয়েভ ওভেন পরিস্কার করার মত কাজ গুলো মাসে যে কোন এক দিন আপনি করে নিতে পারেন। এইভাবে এই কাজ গুলো ভাগ ভাগ কপ্রে নিলে আপনার ঘর বাড়ি ঠিক ঠাক মত পরিস্কার করে রাখতে পারবেন। আবার আপনার উপর তেমন কোন চাপও পরবে না।

৫ম টিপস

এখন আমি যেই টিপসটি দিব সেটি একজন হোম মেকার এর জন্য সব থেকে জরুরি টিপস। এই টিপসটি হচ্ছে প্রাকটিকাল বাজেট তৈরী করা। একটি সংসার কতটা সফল ভাবে চলবে তা অনেকাংশেই এর বাজেটিং এর উপর নির্ভর করে থাকে। এই কারণে মাসের শুরুতে সারা মাসের জন্য একটি বাজেট রেডি ক্রে ফেলাটা খুবই জরুরি। এর জন্য আপনাকে আগে সারা মাসের খরচের একটা হিসাব করে নিতে হবে। সেই সাথে আপনার দ্বারা কত টুকু সঞ্চয় করা সম্ভব তারও একটা হিসাব করে নিতে হবে। সেই অনুযায়ী সারা মাস ধরে আপনার বেতন থেকে খরচ করতে হবে। এবং চেষ্টা করতে হবে যত টুকু সম্ভব সঞ্চয় করার। বাসার অন্যান্য সদস্যদেরকেও এই বাজেট অনুসরণ করার জন্য অনুপ্রেরণা দিতে হবে।

৬ষ্ঠ টিপস

আপনার ঘরে নিশ্চই প্রতি দিন ময়লা কাপড় চোপড়ের একটি অংশ তোইরী হয়। আর দিনের পর দিন যদি এই কাপড় চোপড় জমতে থাকে তাহলে সেটি আসলেই মাথা ব্যাথা সহ কোমড় ব্যাথারও কারণ হয়ে দাড়াতে পারে। এর থেকে বাচার জন্য একটি লন্ড্রি রুটিন তৈরী করে ফেলুন যেটি আপনার সংসারের জন্য কার্যকরি হবে। কেউ কেউ দিনের কাপড় দিনে পরিস্কার করে ফেলতে পছন্দ করেন। কেউ কেউ আবার সপ্তহে এক দিনে পুরো সপ্তাহের কাপড় এক বারে পরিস্কার করার চেষ্টা করেন। আপনাকে বুঝতে হবে যে আপনার জন্য আসলে কোন ধরণের লন্ড্রি রুটিন বেশি কর্যকর। সেই ভাবে একটি রুটিন বানিয়ে নিতে হবে। আর চেষ্টা করবেন দিনের শুরুতেই কাপড় কাচার কাজটি সেরে ফেলতে। তাহলে সারা দিনের মধ্যে কাপড় শুকিয়ে যাবে। এবং আপনি একই দিনে কাপড় আয়রন করে আপনার লন্ড্রি রুটিন ফিনিশ করে ফেলতে পারবেন।

৭ম টিপস

সপ্তাহের শুরুতেই সারা সপ্তাহের একটি মিল প্লান বানিয়ে নিন। এতে করে আপনি এক বারে সারা সপ্তাহের বাজার সেরে রাখতে পারবেন। তাছাড়া হটাত করে রান্না করতে গয়ে কোন উপকরণের অভাবও পড়বে না। এই কারণে একটা মিল প্লান করে নেয়াটা খুব জরুরি। এই মিল প্লান করার সময় অবশ্যই পরিবারের অন্য সদস্যদের পছন্দ আর অপছন্দ খেয়াল রাখতে হবে। সেই সাথে আপনার নিজের পছন্দকেও একটু গুরুত্ব দিতে হবে। গৃহিণীরা সাধারণত শুধু পরিবারের অন্য সদস্যদের পছন্দ আর অপছন্দকেই গুরুত্ব দেন। কিন্তু অন্যদের সাথে সাথে আপনার নিজের পছন্দকেও গুরুত্ব দেয়াটা অনেক জরুরি। এতে করে আপনি নিজেও যেমন ভাল থাকবেন। তেমনি পরিবারের অন্য সদস্যদেরকেও ভাল রাখতে পারবেন।

৮ম টিপস

নতুন নতুন জিনিস শিখার চেষ্টা করুন। এখন ইন্টারনেটের যুগে যে কোন কিছু শেখা অনেক সহজ হয়ে গেছে। ইউটিউব খুললেই সকল কিছুর ব্যাপারে টিউটোরিয়াল পাওয়া যাবে। সময় পেলে নতুন নতুন পদ্ধতির রান্না ট্রাই করে দেখতে পারেন। কিংবা নতুন কোন ক্রাফটিং শিখে নিতে পারেন। যে কোন নতুন শখই আপনাকে খুশি রাখবে। আর আপনি নিজে খুশি থাকলে আপনার পরিবারকেও খুশি রাহতে পারবেন।

৯ম টিপস

আপনার ডেইলি কাজ গুলোকে একটা রুটিনের মধ্যে নিয়ে আসুন। রোজ সকালে সারা দিনের কাজের একটা তালিকা তৈরী করে দিনের শুরু করুন। আর একটা একতা কাজ হয়ে গেলে সেগুলো টিক দিয়ে দিন। দেখবেন দিন শেষে এই লিস্টের দিকে তাকালে আপনার মনটা এমনিতেই ভাল হয়ে যাবে। আপনার কোন কাজটা করতে কত টুকু সময় লাগছে তারও একতা সষ্ট ধারণা আপনি পেয়ে যাবেন। এতে করে পরের দিনের কাজের রুটিন করাটা আর সহজ হয়ে যাবে। আর আপনি খুব অর্গানাইজড ভাবে আপনার ঘর সামলাতে পারবেন।

১০ম টিপস

নিজের জন্য সময় রাখতে শিখুন। গুড হোমমেকিং এর জন্য শুধু নয় আপনার নিজের জন্যও এটি খুবই জরুরি। দিনের অন্তত আধা ঘন্টা সময় একান্ত নিজের জন্য রাখুন। এই সময়টাতে এক কাপ চা হাতে একটা প্রিয় বই এর পাতা উল্টাতে পারেন। কিংবা একটু রূপচর্চার জন্য সময় দিতে পারেন। কিন্তু ২৪ ঘন্টার মধ্যে এই আধা ঘন্টার ভাগ কাউকে দেবেন না। এটি হবে শুধুই আপনার নিজস্ব সময়। এই সামান্য সময়ের একান্ত নিজস্বতা আপনাকে সারা দিনের কাজের জন্য এনার্জি দেবে। আপনাকে রাখবে প্রফুল্ল, সতেজ, প্রানবন্ত আর ভীষণ রকম প্রোডাক্টিভ।

মন্তব্যসমূহ

আমি সাদিয়া রিফাত ইসলাম। একজন মা , হোমমেকার এবং ব্লগার। ভালভাসি রান্না করতে, বই পড়তে এবং লেখালেখি করতে।

মন্তব্য করুন