গরমে ও এই রোজায় শুষ্ক ত্বকের জন্য জরুরি একটি ফেস প্যাক

গরমে ও এই রোজায় শুষ্ক ত্বকের জন্য জরুরি একটি ফেস প্যাক

গরমের সময় এমনিতেই আমাদের ত্বক অনেক বেশি নির্জীব আর প্রাণহীন হয়ে পরে। তার উপর এখন এই ভরা গরম এর মধ্যে রোজা শুরু হয়ে গেছে। রোজার সময় এমনিতেই আমাদের শরীরে পানির অভাব দেখা দেয়। তার উপরে তীব্র গরম এর মধ্যে রোজা হবার কারনে শোরীরে পানির অভাব বোধ যেন দ্বিগুণ হারে বেরে গেছে। আর এর সব থেকে ভয়াবহ ফল দেখা যাচ্ছে আমাদের স্কিনের উপর। ত্বক তার প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা পাচ্ছে না। ফলে ত্বক থেকে উজ্জ্বলতা হারিয়ে ত্বক হয়ে পড়ছে শুষ্ক ও রুক্ষ। আর এই ডিহাইড্রেশনের সব থেকে বড় প্রভাব পরছে শুষ্ক ত্বকের অধিকারী নারীদের উপর। শুষ্ক ত্বকে এমনিতেই স্বাভাবিক ভাবেই হাইড্রেশনের অভাব থেকেই যায়। তার উপর এই বাড়তি ডিহাইড্রেশন এর কারনে এই সময়ে শুষ্ক ত্বক যেন প্রাণ হারিয়ে একেবারেই নিষ্প্রাণ হয়ে ওথে। এই সময়ে তাই শুষ্ক ত্বক এর জন্য চাই আর একটু বাড়তি যত্ন। আজ আমি এই বাড়তি যত্ন নেবার জন্য একটা ফেস প্যাক নিয়ে কথা বলতে চলে এসেছি।

আজ আমি যেই ফেস প্যাক নিয়ে আপনাদের সাথে কথা বলতে এসেছি সেটি বানাবার জন্য কিন্তু খুব বেশি উপকরণ এর দরকার আপনাদের হবে না। এই ফেস প্যাকটি বানাবার জন্য মাত্র তিনটি উপকরণ এর দরকার হবে। আর এই তিনটি উপকরণই শুষ্ক ত্বক এর জন্য আশির্বাদ স্বরূপ। আসলে শুষ্ক ত্বক মাত্রই একটু বাড়তি যত্নের প্রয়োজন হয়। কারণ আমাদের ত্বককে ভাল রাখার জন্য এবং সুস্থ রাখার জন্য ত্বকে প্রচুর পরিমাণে আর্দ্রতা থাকা প্রয়োজন। কিন্তু শুষ্ক ত্বকে স্বাভাবিক নিয়মেই আর্দ্রতা অনেক কম থাকে। গরম কালে এই আর্দ্রতার অভাবটা অত বেশি ফিল করা যায় না। কিন্তু এই গরমের সময়ও যদি আপনার ত্বকে সঠিক পরিমাণে আর্দ্রতা না থাকে তাহলে তা আপনার ত্বককে নিষ্প্রাণ করে দেবার জন্য যথেষ্ঠ। আর রোজার কারণে এমনিতেই পানি কম খাওয়া হয়। তাই ভিতর থেকে এমনিতেই আর্দ্রতার যোগান কমে যায়। ফলে এই সময়ে আমাদের যদি ত্বক সুস্থ রাখতে হয় তাহলে ফেস প্যাকের মাধ্যমে বাইরে থেকে আর্দ্রতা যোগাতে হবে। আজ আমি সেই উপায়ই বলে দেব।

শুষ্ক ত্বক এর ফেস প্যাক বানাতে যে যে উপকরণ দরকার হবে

আগেই বলে নিয়েছি এই ফেস প্যাকটি বানাবার জন্য মাত্র তিনটি উপকরণ আমাদের দরকার হবে। আর এই তিনটি উপকরণ কিন্তু খুব বেশি দূর্লভ কোন কিছু নয়। খুবই সাধারণ তিনটি উপকরণ ব্যবহার করে এই ফেস প্যাকটি বানাতে হবে। আসুন কথা না বাড়িয়ে কি কি উপকরণ ব্যবহার করে শুষ্ক ত্বক এর জন্য অত্যন্ত উপকারি ও জরুরি এই ফেস প্যাক বানানো যায় তা জেনে নেয়া যাক। সেই সাথে এই উপকরণ গুলি ঠিক কত টুকু পরিমাণে ব্যবহার করতে হবে তাও জেনে নেই চলুন।

পাকা পেপে ১ টুকরা

মধু ১/২ চা চামচ

কাঁচা দুধ ১ চা চামচ

শুষ্ক ত্বক এর জন্য এই ফেস প্যাক যে পদ্ধতিতে বানাতে হবে

এই ফেস প্যাক বানাবার জন্য একদম পাকা পেপে ব্যবহার করতে হবে। প্রথমেই পাকা পেপের টুকরা নিয়ে সেটি খুব ভাল করে চামচ কিংবা হাতের সাহায্যে ম্যাশ করে নিতে হবে। শুধু মুখ আর গলার ত্বকে ব্যবহার করার জন্য আমাদের যত টুকু ফেস প্যাক লাগবে তা বানাবার জন্য আমাদের প্রায় এক চা চামচ মত পাকা পেপে ম্যাশ করা লাগতে পারে। মোটামুটি এক ইঞ্চি একটা পাকা পেপে কিউব হাত দিয়ে ম্যাশ করে নিলেই এই পরিমাণে ম্যাশড পাকা পেপে পাওয়া যাবে।

এই বার এই ম্যাশ করে নেয়া পাকা পেপের সাথে মধু আর কাঁচা দুধ মিশিয়ে নিতে হবে। খুব ভাল করে একতা কাটা চামচ দিয়ে ফেতে নিতে হবে। যাতে করে এই তিনটি উপকরণ একে অন্যের সাথে খুব ভাল করে মিশে যেতে পারে। এবং একটা ব্যাপার মাথায় রাখতে হবে। কারণ পাকা পেপে হাতে ম্যাশ করে নেয়া হয়েছে। তাই এই ফেস প্যাক বানাবার সময় হালকা লাম্পস বেধে যাবার সম্ভাবনা থেকেই যায়। সেক্ষেত্রে ফেস প্যাক মুখে লাগাবার সময় ঠিক মত মুখে বসবে না। এবং ত্বক এর থেকে সঠিক ভাবে পুষ্টিও নিতে পারবে না। তাই পাকা পেপে দিয়ে এই ফেস প্যাকটি বানাবার সময় এটি যেন একদম স্মুথ একটি পেস্ট তৈরী হয় সেদিকে খুব ভাল করে লক্ষ্য রাখতে হবে।

আর একটি বিষয় এই ফেস প্যাক বানাবার সময় ও ব্যবহার করার সময় খুব খেয়াল রাখতে হবে। সেটি হচ্ছে, এই ফেস প্যাক বানাবার জন্য পাকা পেপে ও কাচা দুধ এর মত দ্রুত পচনশীল খাদ্য দ্রব্য ব্যবহার করা হয়েছে। এই কারনে এই ফেস প্যাওটি বানাবার পর খুব বেশি সময় অপেক্ষা করা যাবে না। তা না হলে এই ফেস প্যাক নষ্ট হয়ে যাবার একটা সম্ভাবনা থেকেই যায়। এই কারনে এই ফেস প্যাক বানাবার প্রায় সাথে সাথেই এটি ব্যবহার করে নেয়াটা খুবই জরুরী।

শুষ্ক ত্বকে এই ফেস প্যাক যে পদ্ধতিতে ব্যবহার করতে হবে

শুষ্ক ত্বকে এই ফেস প্যাকটি ব্যবহার করার আগে ত্বক অবশ্যই খুব ভাল করে পরিস্কার করে নিতে হবে। শুধু পানি দিয়ে পরিস্কার করলে হবে না। এর জন্য অবশ্যই কোন ভাল ফেস ওয়াশ ব্যবহার করতে হবে। যেহেতু আপনার শুষ্ক ত্বক তাই কোন ধরণ এর হার্শ ফেস ওয়াশ কিংবা সাবান ত্বকে ব্যবহার করা যাবে না। অবশ্যই কোন ভাল ব্রান্ডের শুষ্ক ত্বক এর উপযোগী লাইট ফেশ ওয়াশ ব্যবহার করে ত্বক পরিস্কার করে নিতে হবে। এর পরে একটা পরিস্কার তোয়ালে দিয়ে হালকা করে চেপে চেপে মুখ ও গলা থেকে পানি শুকিয়ে নিতে হবে।

এই বার এই পরিস্কার ও শুকনা ত্বক এর উপর পেপে দিয়ে বানানো ফেস প্যাকটি সমান ভাবে লাগিয়ে নিতে হবে। এই অবস্থায় ১৫ মিনিট থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। এই ফেস প্যাক লাগানো অবস্থায় কোন ভাবেই কতা বলা কিংবা মুখ নাড়ানো যাবে না। তাহলে পরবর্তি সময়ে মুখে ভাজ পরে যাবার সম্ভাবনা বেড়ে যেতে পারে।

১৫ মিনিট থেকে ২০ মিনিট সময় এর মধ্যেই এই ফস প্যাকটি সম্পূর্ণ শুকিয়ে যাবার কথা। যদি এই সময় এর মধ্যে ফেস প্যাকটি পুরোপুরী না শুকায় তবে আরো পাঁচ মিনিট থেকে দশ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। ততক্ষণে এই ফেস প্যাক মুখ ও গলার উপর সম্পূর্ণ শুকিয়ে যাবে।

এই বার হাতে অল্প করে পানি নিয়ে প্রথমে মুখ ও গলার ফেস প্যাক হালকা করে ভিজিয়ে নিতে হবে। তার পর হালকা হাতে দুই মিনিট থেকে তিন মিনিট এটি ত্বকের উপর ম্যাসাজ করে নিতে হবে। এর পরে ঠান্দা পানি দিয়ে খুব ভাল করে এই ফেস প্যাক ত্বক থেকে পরিস্কার করে নিতে হবে সম্পূর্ণ ভাবে। তার পরে একটা পরিস্কার ও শুকনা তোয়ালে দিয়ে চেপে চেপে মুখ ও গলা শুকিয়ে নিতে হবে।খুব বেশি ঘষে ঘষে মোছা যাবে না। এতে করে ত্বকের ক্ষতি হয়ে যাবার সম্ভাবনা থেকে যায়। এই বার শুকনা মুখে একটু হাত দিয়ে দেখুন। নিজেই বুঝতে পারবেন আপনাত ত্বক কততা সফট আর কোমল হয়ে উঠেছে। ভাল ফল পাবার জন্য এই ফেস প্যাকটি সপ্তাহে দুই দিন থেকে তিন দিন ব্যবহার করতে হবে।

শুষ্ক ত্বক এর জন্য এই ফেস প্যাক এর উপকারিতা সমূহ

পাকা পেপের উপকারিতা

পাকা পেপে মূলত ত্বকে আর্দ্রতা যোগানোর জন্য ব্যবহ্রর‍্যত হয়। তাচারা পাকা পেপের মধ্যে আছে প্রচুর পরিমাণে এন্টি এজিং প্রপার্টিজ। তাই নিয়ম করে পাকা পেপে মুখে মাখলে সহজে মুখে কোন রকম বলিরেখা পড়তে পারে না। আর শুষ্ক ত্বকে এমনিতেই আগে আগে বলিরেখা পরার সম্ভাবনা থাকে। তাই তোইলাক্ত ত্বক এর নারীদের থেকে শুষ্ক ত্বক এর নারীদের বেশি কর এন্টি এজিং প্রপার্টিজ সম্পন্ন উপকরণ সমৃদ্ধ ফেস প্যাক ব্যবহার করা উচিত। আর সেই ক্ষেত্রে এই পাকা পেপে দিয়ে আনানো ফেস প্যাকটি একদম পারফেক্ট একটি ফেস প্যাক চয়েস হতে পারে। এটি যেমন ত্বককে নরম ও কোমল করবে। সেই সাথে ত্বকের বুড়িয়ে যাবার প্রবণতাও কমিয়ে আনতে সাহায্য করবে।

মধুর উপকারিতা

মধুকে বলা হয়ে থাকে প্রকৃতির আশির্বাদ। পৃথিবীতে সব থেকে বেশি প্রচলিত প্রাকৃতিক ময়শ্চারাইজার হচ্ছে মধু। এই উপকরণটি ত্বকে র গভিরে প্রবেশ করে ত্বককে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা প্রদান করে থাকে। সেই সাথে মধুর মধ্যে আছে এন্টি ব্যাকটেরিয়াল প্রপার্টিজ। তাই মধু ত্বকে ব্যবহার করলে খুব সহজে ত্বকে জীবানূ আক্রমণ করতে পারে না। ফলে ত্বক কোন ধরন এর ব্রণ কিংবা একনে সমস্যা দেখা যায় না। আর আগে থেকে এই সমস্যা গুলো থেকে থাকলেও তা আস্তে আস্তে দূর হয়ে যেতে শুরু করে।

কাঁচা দুধের উপকারিতা

কাচা দুধও ত্বকে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি আর আর্দ্রতা যোগায়। সেই সাথে ত্বক থেকে দাগ কিংবা সান ট্যান দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়াও কাচা দুধ একটি প্রাকৃতিক ব্লিচ। তাই এটি অন্য যে কোন কেমিকেল ব্লিচের মতই ত্বক এর রঙ আস্তে আস্তে হালকা করে দিতে সাহায্য করে। ফলে ধীরে ধীরে আমাদের ত্বক কোম্ল হবার সাথে সাথে ফর্সাও হয়ে উঠতে শুরু করে।

মন্তব্যসমূহ

আমি সাদিয়া রিফাত ইসলাম। একজন মা , হোমমেকার এবং ব্লগার। ভালভাসি রান্না করতে, বই পড়তে এবং লেখালেখি করতে।

মন্তব্য করুন