প্রোডাক্টিভিটি বাড়ানোর জন্য কিছু জরুরি টিপস

প্রোডাক্টিভিটি বাড়ানোর জন্য কিছু জরুরি টিপস

আজকের ব্যস্ত পৃতিবীতে আমরা সবাই যে যে যার কাজে ব্যস্ত। দিনের শুরু থেকে রাতের শেষ অবধি কাজের লিস্ট যেন শেষই হয় না। বরং দিন শেষে যেন মনে হয় আরো কত কাজ বাকি রয়ে গেছে। আসলে আমাদের মধ্যে সকলেই কিন্তু প্রচুর কাজের চাপে থাকি। কিন্তু খেয়াল করে দেখবেন আমাদের মধ্যে কেউ কেউ আছেন যারা একদম সঠিক সময়ের মধ্যে তাদের সব ধরণ এর কাজ শেশ করে ফেলতে পারেন। অনেক সময় দেখা যায় এই সব কাজের মধ্যে তারা হয়ত নিজের জন্যও কিছুটা সময় বের করে নিতে পারেন। এই সব কিছুই সম্ভব হয় সঠিক প্রোডাক্টিভিটির দ্বারা। আমাদের মধ্যে আবার অনেকেই আছেন যারা হয়ত সারা দিন প্রচুর কাজ করেন। কিন্তু দিন শেষে দেখা যায় তাদের কাজ গুলো থেকে তেমন কোন ফল পাওয়া যাচ্ছে না। আবার কেউ কেউ অল্প কাজ করেই অনেক রেজাল্ট এনে দিতে পারেন। এটি হচ্ছে প্রোডাক্টিভিটি। আজ এই প্রোডাক্টিভিটি বাড়ানোর জন্যই আপনাদের কিছু টিপস শেয়ার করব।

১ম টিপস

আপনার কাজের প্রোডাক্টিভিটি বারানোর প্রথম ধাপটিই হচ্ছে কাজের একটা লিস্ট তৈরী করা। আপনি যে কোন ধরণ এর কাজই করুন না কেন, তার জন্য কাজের শুরুতে একটা কাজের লিস্ট রেডি করে নেয়াটা খুবই জরুরি। আপনি হাউজ ওয়াইফ হোন, ক্কিংবা চাকরিজীবী, অথবাআ ব্যবসায়ী, একটা টু ডু লিস্ট আপনার প্রোডাক্টিভিটি এক ধাপেই অনেক গুণে বাড়িয়ে দেবে। প্রথমত, একটা মানুষকে সারা দিনে প্রচুর কাজ করতে হয়। আপনি যখন মনে মনে আপনার কাজের লিস্ট তৈরী করেন তখন এক সাথে অনেক কিছু আপনাকে মাথায় রাখার দরকার হয়। সেই সাথে আপনাকে মনে মনে কাজের ধাপ গুলো প্লান করার দরকার হয়। এই কাজটাই যখন আপনি খাতায় কিংবা আপনার স্মার্ট ফোনের নোট বুকে লিখে রাখবেন, তখন আপনার মাথা থেকে অনেকখানি প্রেশার কমে যাবে। কাজের লিস্ট মাথায় থাকবে না। বরং খাতায় থাকবে। আর আপনি এক এক করে কাজ গুলো পর পর করে যেতে পারবেন কোন রকম টেনশন ছাড়াই।

২য় টিপস

২য় টিপস হচ্ছে আগের রাতেই কাজ গুছিয়ে নেয়া। শুনে মনে হতে পারে এক দিনের কাজই তো শেষ করে পারি না। আবার পরের দিনের কাজ কখন করব? কিন্তু এই কাজ গুছিয়ে নেয়ার জন্য কিন্তু আপনাকে অনেক সময় দিতে হবে না। এই অফিস থেকে বের হবার আগে দশ মিনিট সময় কিংবা ঘুমাতে যাবার আগে মিনিট পাঁচেক সময় কি খুব বেশি? মোটেও না। বরং এই সময়ে আপনি দিনের অন্য সময় থেকে অনেক বেশি রিলাক্সড থাকেন। এই কারণে খুব দ্রুত এই কাজ গুলো করে ফেলতে পারবেন। আর এই গুছিয়ে রাখার কাজ গুলো কিন্তু খুব বেশি না।

এই যেমন ধরুন, পরের দিন অফিসে যাবার জন্য যেই ড্রেসটি পরবেন সেটি আলাদা করে রাখুন। কিংবা আপনি যদি অফিসে যাবার আগে জিম করেন তাহলে আপনার পরিস্কার জিম ড্রেসটিও পাশে আলাদা করে রাখুন। এতে করে আপনাকে সকালে উঠে আলাদা করে ড্রেস খোজা কিংবা আয়রন করার ঝামেলায় যেতে হবে না। আবার আপনাকে পরের দিন কি কি কাজ করতে হবে তারও একটি লিস্ট বানিয়ে নিন। এই লিস্টের মধ্যে মাস্ট ডু মিটিং, কাজের ডেডলাইন, ক্লায়েন্ট মিটিং সব কিছু ঝটপট লিখে ফেলুন। এতে করে পরের দিন প্লান করে টূ ডু লিস্ট বানানো অনেক সহজ হয়ে যাবে। আর আপনিও ফ্রি মাইন্ড নিয়ে ঘুমাতে যেতে পারবেন।

৩য় টিপস

৩য় টিপসটি একটু ভিন্ন ধরণ এর। আমাদের সকলের হাতেই এমন কিছু কিছু কাজ থাকে যেটা আমাদের সহজে করতে ইচ্ছা করে না। আপনি স্বীকার করুন আর নাই বা করুন, আপনিও কিছু কিছু কাজের ক্ষেত্রে এমনটা ফিল করেছেন। এই যেমন ধরুন, আপনাকে এমন একটা ফোন কল করতে হবে যার সাথে আপনি একেবারেই কথা বলতে চান না। অথচ কাজের প্রয়োজনে তার সাথে কথা বলাটা অনেক বেশি জরুরি। আবার এমনো হতে পারে যে আপনাকে এমন কোন একটা প্রজেক্ট শেষ করতে হবে যেটা অনেক কঠিন এবং আপনি বুঝতেই পারছেন না যে প্রজেক্টটা কিভাবে শুরু করবেন। কাজ করতে না পারার ভয়ে এই কাজ গুলো দেখা যায় দিনের পর দিন পরেই থাকে। আর এই জরুরি কাজ গুলো শেষ করতে না পারার অপরাধ বোধ আপনার অন্যান্য সহজ কাজ গুলো করার ক্ষেত্রেও কিন্তু বেশ বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আপনার মাথার মধ্যে যখন একটা কঠিন কাজ করার চিন্তা সব সময় ঘরপাক খাবে তখন স্বাভাবিক ভাবেই আপনি অন্য কোন কাজে মনোযোগ দিতে পারবেন না।

তাই আপনার জন্য যেই কাজটা কঠিন অথচ কাজটি করতেই হবে, এমন কাজ গুলো পরে করার জন্য ফেলে রাখবেন না। বরং আজকে এবং এখনি সেই কাজটি শুরু করুন। এক বার যখন এই কঠিন কাজ গুলোর বোঝা আপনার মাথা থেকে নেমে যাবে তখন দেখবেন অন্যান্য কাজ গুলো আপনি স্বাভাবিক সময় থেকে দ্বিগুণ উদ্যমে করতে পারছেন। ফলে আপনার সময়ও বেচে যাবে। সেই সাথে বেড়ে যাবে আপনার প্রোডাক্টিভিটি। তবে আপনার দিনের শুরুতেই কিন্তু এই ধরণের কঠিন কাজ গুলো করবেন না। কারণেই ধরণের কাজের শেষে আপনার নিজেকে টাআয়ার্ড মনে হতে পারে। তাই একটি কিংবা দুটি সহজ কাজ শেষ করে যখন নিজেকে অনেক এনার্জেটিক মনে হবে তখনি এই ধরণের কঠিন কাজ গুলো শুরু করা উচিত।

৪র্থ টিপস

আপনার প্রডাক্টিভিটি নষ্ট করার জন্য যত গুলো কারণ আছে তার মধ্যে অন্যতম একটি কারণ হতে পারে ছোট ছোট ডিসট্রাকশন। সেতা হতে পারে প্রয়োজনীয় বা অপ্রয়োজনীয় ইমেইল, ছোট ছোট মেসেজ, ফোন কল, কিংবা দরজায় এসে পড়া কোন মেহমানের কলিং বেলের আওয়াজ। এাগ ছোট ছোট ব্যাপার গুলোই কিন্তু আপনার কাজ থেকে প্নার মনোযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেবে। আর কাজ থেকে মনোযোগ বিচ্ছিন হবার অপ্র নামই হচ্ছে প্রডাক্টিভিটির কমে যাওয়া।

টেকনোলজি আমাদের কাজকে অনেক সহজ করে দিয়েছে। আবার সাথে সাথে যোগ করেছে কাম টিপসজকে কঠিন করে তোলার অনেক মাধ্যম। কাজের সময় গেমিং, টিভি দেখা কিংবা গান শোনা আমাদের কাজের গতিকে শুধু কমিয়েই দেয়। আমাদের মনোযোগে বিঘ্ন ঘটায়। টেকনোলজির এই দৌরাত্ন আপনি বন্ধ করতে পারবেন না। কিন্তু একে আপনার নিজের মত করে কন্ট্রোল করার ক্ষমতা কিন্তু আপনার আছে। নিজেকে বুঝান যে এক পাশে টিভি ছেরে রেখে একই ঘ্রে বসে ল্যাপটপে কাজ করাটা কোন ভাবেই আপনাকে ভাল ফল এনে দেবে না। এতে করে শুধু আপনার কাজের সময়ই বেড়ে যাবে। যখন আপনার কোন জরুরি কাজ করার দরকার তখন সেরকম একটি পরিবেশ তৈরী করে নিন। সেই সময়ের জন্য ফোন, টীভী ইত্যাদি বন্ধ রাখুন। মনোযোগ দিয়ে সম্পূর্ণ কাজটি শেষ করার চেষ্টা করুন। দেখবেন অনেক দ্রুততার সাথে আপনার কাজ শেষ হয়ে যাচ্ছে।

৫ম টিপস

কাজের ফাকে ফাকে একটু হলেও ব্রেক নিন। আপনি যতই ব্যাস্ত হোন না কেন, অনাক সময় ধরে কাজ করার পর সামান্য তম সময়ের জন্য হলেও একটু সময় ব্রেক আপনাকে নিতেই হবে। আসলে আমরা যখন এক টানা অনেক সময় ধরে কাজ করতে থাকি, তখন স্বাভাবিক ভাবেই আমাদের প্রডাক্টিভিটি, এনার্জি কমে যেতে থাকে। এই জন্য এই সময়টাতে খুব অল্প সময়ের জন্য একটা ব্রেক নেয়াটা খুব দরকার। শুধু মাত্র আমাদের শরীরের জন্য নয়। আমাদের ব্রেনও যাতে ভাল করে কাজ করতে পারে তার জন্যও এই ব্রেক নেয়া উচিত,

কাজের ফাকে ব্রেক মানে এই নয় যে আপনি কাজের ক্ষতি করে অফিস থেকে বেড়িয়ে পরবেন। অনেক সময় কাজ করার পর দশ মিনিটের মত একটু সময় নিজেকে দিন। এক গ্লাস পানি খান। কিংবা এক কাপ চা বা কফি বানিয়ে নিন। নিজের জায়গা থেকে উঠে দুই এক পা অফিসের মধ্যেই হেটে আসুন। তারপর দেখুন নিজের ডেস্কে ফিরে এসে আপনার আগে থেকে কতটা রিল্যাক্সড লাগছে। তখন আপনি দিগুণ উদ্যমে আবারো কাজের মধ্যে ফিরে যেতে পারবেন। আর আপনার কাজের গতিও আগে থেকে বেশ খানিকটা বেড়ে যাবে।

৬ষ্ঠ টিপস

আপনার কাজ গুলোকে ভাগ করতে শিকুন। এবং একই ধরণ এর কাজ গুলোর জন্য এক একটি নির্দিস্ট টাইম ঠিক করুন। এই যেমন ধরুন, আপনাকে একই দিনে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ইমেইল এর উত্তর দিতে হয়। আবার কখনো কখনো দেখা যায় আপনাকে অনেক গুলো ফোন কলের উত্তর দিতে হবে। এরকম ক্ষেত্রে আপনার দিনের সময়কে টাস্ক অনুযায়ী ভাগ করে নিতে হবে। যেমন সকাল ১১টা থেকে ১২টা আপনি ইমেইল এর উত্তর দেবার জন্য রাখতে পারেন। আবার সকাল ১২টা থেকে ১টা আপনি রাখতে পারেন যাবতীয় ফোন কল করার জন্য। আবার আপনার দিনের একটা সময় নির্দিস্ট করে রেখে দিন সারা দিনের স্প্রেড শিট বানাবার জন্য এবং এক বারেই এই কাজটা সেরে ফেলুন। এতে করে এক এক ধরন এর কাজ এক বারে শেষ হয়ে যাবে। ঘরের কাজ করার ক্ষেত্রেও একই কথা খাটে। ঘর পরিস্কার করার কাজটা একই সময়ে সেরে ফেলতে শিখুন। কিংবা এক বারেই সারা দিনের বেশির ভাগ রান্না করে ফেলুন। বার বার একই কাজ করার জন্য সময় নষ্ট করলে আদতে আপনি কখনোই সময় বের করতে পারবেন না।

৭ম টিপস

এই টিপসটি সরাসরি আপনার কাজের সাথে যুক্ত নয়। কিন্তু আপনার কাজের প্রডাক্টিভিটি বাড়ানোর জন্য এই টিপসটির সরাসরি সংযোগ আছে। প্রতি দিন সকালে অবশ্যই একটি পরিপূর্ণ ও হেলদি ব্রেক ফাস্ট খেতে হবে। আমাদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা ঠিক মত ব্রেকফাস্ট না করেই সকালে কাজের জন্য বের হয়ে যান। কিন্তু সারা রাত উপোস থাকার পর ঠিক মত নাস্তা না করলে শরীর তার প্রয়োজনীয় এনার্জি পায় না। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই আমাদের প্রডাক্টিভিটি কমে যায়। তাই দিনের শুরুর খাবারটা অবশ্যই হেলদি হতে হবে। এবং পেট ভরে খেতে হবে।

৮ম টিপস

হেলদি মানুষেরা অন্য যে কারো থেকে অনেক বেশি প্রডাক্টিভ হয়ে থাকেন। আর হেলদি থাকার জন্য নিয়মিত ব্যায়াম করার কোন বিকলফতে পারে না। নিয়ম করে সকালে কিংবা বিকালে খালি পেটে ব্যায়া করুন। আপনাকে যে ঘন্টার পর ঘন্টা জিমে গিয়ে ঘাম ঝরাতে হবে আমি এমনটা বলছি না। কিন্তু রোজ সকালে কিংবা বিকেলে আধা ঘন্টা জোরে হাটাহাটি করা কিংবা জগিং করা আপনার শরীরকেই শুধু ঝরঝরে রাখবে না। এটি আপনার মনকেও ভাল রাখবে। সাথে আপনার কাজের প্রডাক্টিভিটিও বাড়িয়ে দেবে।

৯ম টিপস

অন্যদের মাঝে কাজ ভাগ করে দিতে শিখুন। অনেক সময় আমাদের মনে হয় যে অন্য কাউকে কাজ বোঝাতে যে সময় লাগবে তার থেকে কম সময়ে আমিই হয়ত কাজটা করে ফেলতে পারব। এই ভেবে ভেবে আমরা আমাদের মাথার উপর অনেক কাজের চাপ নিয়ে নিতে থাকি। ফলে আমাদের নিজের জন্য আর কোন সময় থাকে না। কিন্তু এটা ঠিক নয়। আপনার আশে পাশে ভাল করে তাকিয়ে দেখুন। দেখুন কে কে আছে যারা আপনার কাজের মধ্যে কনট্রিবিউট করতে পারবে কিংবা করতে ইচ্ছুক। তাদের মধ্যে কাজ ভাগ করে দিন। প্রথম দিকে একটু নজর রাখুন। তারপর দেখবেন তারা আস্তে আস্তে নিজেরাই কাজ গুলো ঠিক মত করতে পারছে।

১০ টিপস

না বলতে শিকুন। আমরা অনেক সময়ই অনুরোধের ঢেকি গিলে ফেলি। যার ফলে আমাদের নিজস্ব জরুরি কাজে দেরি হ্যে যায়। তাই অন্য কারো কাজ হাতে নেবার আগে ভেবে দেখুন এতে কর আপনার নিজের আদৌ কোন লাভ হবে কিনা। কিংবা এটি করতে গেলে আপনার নিজের কাজের ক্ষতি হবে কিনা। যদি এমন কোন সম্ভবাওনা থেকে থাকে তাহলে শুরুতেই না করে দিন। অযথা কাজের বোঝা না বাড়িয়ে শুধু সেই কাজ গুলোই করুন যেগুলো আপনাকে কোন ফলাফল এনে দেবে। অন্য কাউকে না।

মন্তব্যসমূহ

আমি সাদিয়া রিফাত ইসলাম। একজন মা , হোমমেকার এবং ব্লগার। ভালভাসি রান্না করতে, বই পড়তে এবং লেখালেখি করতে।

মন্তব্য করুন