কাঁচা-আমের-স্বাস্থ্য-উপকারিতা-জানুন

কাঁচা আমের স্বাস্থ্য উপকারিতা জানুন

ফলের রাজা আম। স্বাদে, পুস্টিতে ভরপুর আম যুগে যুগে মানুষের তৃপ্তি মিটিয়ে এসেছে। ছোট- বড় সবার খুব প্রিয় রসাল আম। আমের স্বাদ যে একবার পেয়েছে তাকে আর আম থেকে দূরে রাখা যায় নি। আমে রয়েছে মনমাতানো সুগন্ধযুক্ত স্বাদ, যা আমাদের শরীর ও মনকে চাঙ্গা করে তোলে খুব সহজেই। আম কাঁচা বা পাকা দুইভাবেই আমাদের ভোজন বিলাসে সাহায্য করে থাকে।

গ্রীষ্মকাল মানেই নানা রকম স্বাদ ও গন্ধের ফল-ফলাদির সমাহার। গরম থেকে বাঁচতে বিভিন্ন রকমের রসাল ও পানিযুক্ত ফলের আবাদ হয়। এ যেন সৃষ্টিকর্তার এক আশীর্বাদ। তরমুজ, বাঙ্গি, লিচু, কাঁঠাল, আম, জামরুল ইত্যাদি ফলে বাজার সয়লাব। এই সব ফলই গ্রীষ্মকালের গরমের দাবদাহে আমাদের জন্য স্বস্তিদায়ক।  

তবে গরমকালের শুরুতেই সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর ফল হল কাঁচা আম। আম পাকা বা কাঁচা দুই অবস্থায়ই খুব মজাদার। কাঁচা আমের টক স্বাদ যেমন আমাদের শরীরকে রিফ্রেশ করে তেমন পাকা আমের মিস্টি স্বাদও আমাদের মনকে ভরিয়ে দেয়। অনবদ্য স্বাদের পাশাপাশি আমের কিছু পুস্টিমান আছে। যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী। আজকে আমরা জানব কাঁচা আমের স্বাস্থ্য উপকারিতা।

পাকা আমের চেয়ে কাঁচা আম অনেক বেশি উপকারী, যারা ক্যালরি কমাতে চান তাদের জন্য। প্রায় ৬০০০ বছর ধরে আমের চাষ হয়ে আসছে। প্রায় ৫০টির মত জাতের আম পৃথিবীতে পাওয়া যায়। আমের মধ্যে সবুজ, হলুদ বা কমলা – হলুদ রঙই বেশি আকর্ষণীয়। দক্ষিন – পূর্ব এশিয়াতেই আমের সবচেয়ে বেশি ফলন হয়ে থাকে।

কাঁচা আমের ভিটামিন ‘এ’ ও ‘সি’, ক্যালসিয়াম, আয়রন এবং ৮২% ম্যাগনেসিয়াম  আমাদের শরীরের বর্জ্য সংগ্রহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও কাঁচা আমের রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে কারণ তারা বিভিন্ন ভিটামিন সমৃদ্ধ।

কাঁচা আমের আরও স্বাস্থ্য উপকারিতা জানুন। এই তীব্র – দাবদাহে কাঁচা আম, কাঁচা আমের জুস বা কাঁচা আমের ভর্তা খেয়ে গরমকে হারিয়ে দিন।

কাঁচা আমের স্বাস্থ্য উপকারিতা

১. ওজন কমায়

যারা ওজন কমাতে চান তাদের জন্য কাঁচা আম খুব ভালো।পাকা আমে প্রচুর পরিমানে ক্যালরি থাকে, যা খেলে মোটা হবার সম্ভাবনা থাকে। অন্যদিকে, টক স্বাদের কাঁচা আম শরীরের অতিরিক্ত ক্যালরি কমাতে সাহায্য করে।

২. স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধে

ভিটামিন ‘সি’ এর অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়। কাঁচা আমে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন ‘সি’ আছে। তাই কাঁচা আম খেলে স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধ করা যায়।  

৩. যকৃতের রোগ

যকৃত বা কিডনি রোগের জন্য খুব উপকারী কাঁচা আম। সবুজ আম চিবুলে শরীরের এসিড বৃদ্ধি পায়। এতে শরীরে থাকা খারাপ ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ দূর হয়ে অন্ত্র পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।

৪. কোষ্ঠকাঠিন্য

মানুষের কোষ্ঠকাঠিন্য হয় যখন শরীর থেকে পেকটিন কমে যায় তখন। কাঁচা আমে অনেক পেকটিন আছে যা, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। পাইলসের সমস্যার জন্যও কাঁচা উপকারী।

৫. অতিরিক্ত ঘামের জন্য

গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত ঘামের জন্য শরীরের সোডিয়াম ক্লোরাইড ও লোহা কমে যায়। কাঁচা আম বা কাঁচা আমের রস খেলে সোডিয়াম ক্লোরাইড ও লোহার ঘাটতি দূর হয়ে যায়।  

৬. ডায়াবেটিকসের জন্য ভাল

ডায়াবেটিকসের রোগীরা অনেক ফলই খেতে পারেন না, কারন ফলের অনেক পরিমানে সুগার বা চিনই থাকে। তবে এই কাঁচা আম ডায়াবেটিকসের রোগীদের জন্য এক স্বাস্থ্যকর ফল। কাঁচা আম খেলে বরং সুগারের মাত্রা কমে যায়।   

৭. পাকতন্ত্রের জন্য উপকারী

কাঁচা আমের অন্যতম স্বাস্থ্য সুবিধা হল এটি পরিপাকতন্ত্রকে ভালো রাখে। কাঁচা আম চিবুনোর ফলে আমাদের পরিপাকতন্ত্রের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।    

৮. রক্তের জন্য ভাল

খাদ্য সবুজ আঙ্গুর তার ভিটামিন সিয়ের কারণে রক্তের রোগের চিকিৎসায় উপকারী। এতে কাঁচা আম, রক্তের পাত্রগুলির স্থিতিস্থাপকতা বাড়ায় এবং নতুন রক্তের কোষ গঠনে সহায়তা করে।

৯.  খনিজের ঘাটতি প্রতিরোধ করে

কাঁচা আমে নানারকম খনিজ পদার্থ যেমনঃ মিনারেল, লোহা, আয়রন আছে। এই আম খেলে শরীরের খনিজের ঘাটতি কমে যায়।

১০. দাঁতের যত্ন নেয়

কাঁচা আমে থাকা প্রচুর পরিমানের ভিটামিন ‘সি’ আমাদের দাঁতের জন্য অতীব প্রয়োজনীয়। এটি দাঁতের ক্ষয়রোধ করে, দাঁতকে মজবুত করে।   

১১. ঘামাচি প্রতিরোধ করে

কাঁচা আম শুধু শরীরের ঘামাচি প্রতিরোধ করে তা না, এটি গ্রীষ্মকালীন হিট স্ট্রোক থেকেও বাঁচাতে সাহায্য করে।

১২. এনার্জি দেয়

কাঁচা আম আপনাকে অনেক এনার্জি দিবে। দুপুরের খাবারের পর কাঁচা আম খেলে ঘুম ঘুম ভাব কমে যাবে। যারা কর্মজীবী তাদের জন্য তো এটা একটি অনেক ভাল খবর তাই না?

১৩. প্রাতঃকালীন অসুস্থতা দূর করতে সাহায্য করে

প্রেগন্যান্সি বা গর্ভকালীন সময়ে মর্নিংসিকনেস বা প্রাতঃকালীন অসুস্থতা খুব সাধারন ব্যাপার। এই সময়ে কাঁচা আম খাওয়া গেলে প্রাতঃকালীন অসুস্থতা কাটানো যায়। এছাড়াও এই সময় ভিটামিন ‘সি’ গর্ভবতীর জন্য অনেক দরকারী।

১৪. রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থাপনা

কাঁচা আম আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে থাকে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি হলে মানুষ অসুস্থ কম হয় ফলে স্বাস্থ্য ঠিক থাকে।   

১৫. পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা করে

লবণ, মরিচ দিয়ে মেখে কাঁচা আম বা আমের ভর্তা খেতে গরমকালে খুব ভাল লাগে। কিন্তু জানেন কী, এই জিভে জল আনা খাবারটার কত স্বাস্থ্য সুবিধা? এভাবে কাঁচা আম খেলে আমাদের শরীরের পানিশূন্যতাদূর করতে সাহায্য করে। অথবা কাঁচা আমের শরবত খেলেও আমাদের শরীরের সোডিয়াম ক্লোরাইডের মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে।  

মন্তব্যসমূহ

নিজের পরিচয় দিতে গেলে সবার আগে বলব, আমি একজন মা। তার সাথে একজন হোমমেকার, শিক্ষক ও ব্লগার। লিখতে ভালবাসি। তার চাইতে ভালবাসি পড়তে, জানতে। এইতো! ছোট এক জীবনে অনেক কিছু, আলহামদুলিল্লাহ!!

১ টি মন্তব্য
  1. Reply কাঁচা আমের জেলি ও জ্যাম রেসিপি | চটপট - এসো নিজে করি মে ৩১, ২০১৯ তারিখে ১১:২৭ পূর্বাহ্ন

    […] কাঁচা আম শরীরের জন্য খুব ভালো। কাঁচা আমের অনেক রকম স্বাস্থ্য উপকারিতা আছে। যা আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী। কাঁচা আম গ্রীষ্মের শুরুতেই পাওয়া যায়। এরপর আর কাঁচা আম খাবার কোনও সুযোগ নেই। কিন্তু কাঁচা আম সংরক্ষণ করা যায় বছর জুড়ে। সংরক্ষনের জন্য কাঁচা আম দিয়ে আচার, মোরব্বা করে রাখা যায়। কাঁচা আম জেলি বা জ্যাম দুইটাই বানানো যায়। সকালের নাস্তায় বা বাচ্চার টিফিনে পাউরুটির সাথে দারুন জমবে কাঁচা আমের জেলি/ জ্যাম। […]

মন্তব্য করুন