ছাত্রজীবনই হোক দক্ষতা অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময়

ছাত্রজীবনই হোক দক্ষতা অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময়

বর্তমান সময়ে শুধুমাত্র একাডেমিক পড়াশুনা কোন ব্যাক্তির মেধা যাচাইয়ের একমাত্র মাধ্যম না। একাডেমিক পড়াশুনার পাশাপাশি কোন একটা দিকে যদি আপনার বিশেষ স্কিল বা দক্ষতা থাকে, তবে মেধার দিক ও পেশাগত দুইদিকেই আপনি নিঃসন্দেহে অন্যদের থেকে এগিয়ে থাকবেন। বর্তমানযুগ হল প্রযুক্তির যুগ। এই সময়ে প্রায় অফিসে বা নিজের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটারের উপর বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন লোকের চাহিদা বেশি। অফিসিয়াল কাজের জন্য মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, এক্সেল তো জানা একান্ত জরুরি, তার পাশাপাশি গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, আর্টিকেল রাইটিং  ইত্যাদি জানাটাও এখন সময়ের দাবী।

অনেকেই মনে করেন পড়াশুনা শেষ করে তবে বাড়তি দক্ষতা অর্জন করা যাবে। এটা যে কত বড় ভুল সেটা শুধুমাত্র যে অপ্রয়োজনে সময় নষ্ট করে সেই একমাত্র বুঝে।

গ্রাফিক্স ডিজাইন

এখন আপনার প্রশ্ন হতে পারে কেন আপনি গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখবেন? গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখে ছবি এডিটিং, পোস্টার ডিজাইন, বিজনেস কার্ড ডিজাইন, বুককভার ইত্যাদি ডিজাইন করতে সক্ষম হবেন।

এইসব কাজের জন্যই এখন অনেক প্রতিষ্ঠান কাজ করে থাকে, সেইসব প্রতিষ্ঠানে আপনি চাকরি করতে পারবেন বা নিজেই এমন কোন প্রতিষ্ঠান দিতে পারবেন। অথবা ফ্রিলাঞ্চিং করতে পারবেন কোন মার্কেটপ্লেসে, তাও স্বাধীনভাবে।

গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে কাজ করাটা অনেক বেশি সম্মানের। গ্রাফিক্স ডিজাইনাররা সবসময় ক্রিয়েটিভ চিন্তায় মগ্ন থাকে। তারা নেতিবাচক ভাবনার সময় পায় না, ফলে সমাজ ও দেশের অনেক উন্নতি হবার সম্ভাবনা বেশি।

ওয়েব ডিজাইন

বর্তমান বিশ্বে এখন ওয়েব সাইটের জয় জয়কার। প্রতিদিন নতুন নতুন সাইট হচ্ছে। এইসব সাইটের পিছনে সবচেয়ে যার অবদান বেশী তিনি হলেন ওয়েব ডিজাইনার। একটি ওয়েব সাইট দেখতে কেমন হবে তা নির্ভর করে ওয়েব ডিজাইনারের উপর।

এই কাজটি ঠিকঠাক মত শিখতে পারলে কাজের তেমন অভাব হবে না। এই ওয়েব ডিজাইন কাজটা গ্রাফিক্স ডিজাইনের চেয়ে তুলনামূলক শেখা কঠিন। তবে ধৈর্য নিয়ে কাজ করলে এই সেক্টরে সফলতার হার বেশী। বর্তমানে যে পরিমান ভালো ওয়েব ডিজাইনারের চাহিদা সেই পরিমান ওয়েব ডিজাইনার তৈরি হচ্ছে না। বর্তমানে যারা ছাত্রজীবনে আছেন তারা পড়াশুনার ফাঁকে এই ওয়েব ডিজাইনারের কাজটা আয়ত্তে করে নিতে পারলে,পরবর্তীতে চাকুরীর জন্য হন্যে হতে হবে না।

মাইক্রোসফট অফিস

অফিস বা শিক্ষা প্রতিস্টানে অফিসিয়াল কাজের জন্য মাইক্রোসফট অফিস প্যাকেজ জানাটা অপরিহার্য। মাইক্রোসফট অফিসের মধ্যে ওয়ার্ড, এক্সেল, পাওয়ার পয়েন্ট ইত্যাদি অন্যতম। পড়াশুনার জন্য নোট বা আ্যসাইনমেন্ট করার জন্যও এই অফিস প্যাকেজ জানাটা দরকারী। এছাড়াও ইন্টারনেটের ব্যাসিক কাজ জানা থাকলে চাকুরী বা ব্যবসায় উভয় ক্ষেত্রেই অনেক সুবিধা।  

আর্টিকেল রাইটিং

আপনার যদি লিখতে ভালোলাগে তবে এই আর্টিকেল রাইটিংকে পেশা হিসেবে নিতে পারবেন সহজেই। আবার চাকুরী বা অন্য কোন পেশার পাশাপাশিও লেখালেখি চালিয়ে নিতে পারবেন। আজকাল বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ভালো লেখালেখির সুযোগ আছে।

ভাষা শিক্ষা

মাতৃভাষার পাশাপাশি অন্য যেকোন একটি বা পারলে দুইটি বিদেশী ভাষা শিখে নেয়া যেতে পারে। এতে অনেক অনেক সুবিধা আছে। বিশ্বব্যাপী ইংরেজি ভাসায় চাহিদা তো আছেই, সাথে ফ্রেঞ্চ, কোরিয়ান ভাষারও অনেক চাহিদা। বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে তো এইসব ভাষা যেনে গেলে অনেক বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়। এছাড়াও দেশে থেকেও দোভাষীর কাজ করা যেতে পারে ভাষা শিক্ষার মাধ্যমে।

বিসিএস প্রস্তুতি

বিসিএস বা যেকোন সরকারি বা ব্যাংকের চাকুরি পেতে চাইলে অবশ্যই অনার্স এর শুরু থেকেই পড়াশুনা শুরু করতে হবে। অনেকেই ভাবে অনার্স পাশ করে তারপর চাকুরীর জন্য পড়াশুনা করব। যা মোটেই ঠিক না। কারন পড়াশুনা শেষ করার পরে চাকুরীর পড়া পরে তারপর চাকুরীর জন্য চেস্টা করাটা খুব বোকামি। তাই সময় থাকতেই এইসব প্রতিযোগিতামূলক চাকুরীর জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। এরফলে পড়াশুনা শেষ করার পরপর বা কিছু সময় পরেই কাঙ্ক্ষিত ক্যারিয়ার শুরু করা যায়।

ডাটা এন্ট্রি

যাদের একটু সহজ কাজ পছন্দ তারা ডাটা এন্ট্রির কাজ শিখে নিতে পারেন। এই কাজ করার জন্য মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, এক্সেলের কাজ খুব ভালোভাবে জানতে হবে।

 

পড়ালেখার পাশাপাশি ভালোমানের কোন প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, বা মাইক্রোসফট অফিস এর উপর একটা কোর্স করে ফেলুন। অনেক প্রতিষ্ঠানে কোর্স শেষ করার পরে ইন্টার্নীর সুযোগ রয়েছে। এতে করে কোর্সের শেখা বিষয়বস্তু হাতে-কলমে কাজ করার সুযোগ হয়। আর কোর্ফস করা সম্ভব না হলেও চিন্তার কিছু নেই। ইউটিউব বা গুগল তো আছেই সবসময়ের জন্য সাহায্য করার জন্য। শুধু প্রয়োজন নিজের হাতটা বাড়িয়ে দেয়া। নিজেই নিজের শিক্ষক হয়ে যান। নিজের অনুশীলনটাও হয়ে যাবে একদম পাকাপোক্তভাবে।

এখানে গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, ডাটা এন্ট্রি বা আর্টিকেল রাইটিং এই মত কাজগুলো শেখার জন্য পরামর্শ দেয়া হল সেইসব কাজ শিখে একদিকে যেমন চাকুরী করা যাবে। আবার বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসেও স্বাধীমভাবে কাজ করা যাবে।       

আপনার ছাত্রজীবনের অবসর সময়টুকু কাজে লাগান কোন সৃস্টিশীল কাজে, যা পরবর্তীতে আপনার সম্পদ হয়ে উঠবে।       
   

মন্তব্যসমূহ

নিজের পরিচয় দিতে গেলে সবার আগে বলব, আমি একজন মা। তার সাথে একজন হোমমেকার, শিক্ষক ও ব্লগার। লিখতে ভালবাসি। তার চাইতে ভালবাসি পড়তে, জানতে। এইতো! ছোট এক জীবনে অনেক কিছু, আলহামদুলিল্লাহ!!

মন্তব্য করুন