কাঁচা আমের জেলি/জ্যাম

কাঁচা আমের জেলি ও জ্যাম রেসিপি

কাঁচা আম শরীরের জন্য খুব ভালো। কাঁচা আমের অনেক রকম স্বাস্থ্য উপকারিতা আছে। যা আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী। কাঁচা আম গ্রীষ্মের শুরুতেই পাওয়া যায়। এরপর আর কাঁচা আম খাবার কোনও সুযোগ নেই। কিন্তু কাঁচা আম সংরক্ষণ করা যায় বছর জুড়ে। সংরক্ষনের জন্য কাঁচা আম দিয়ে আচার, মোরব্বা করে রাখা যায়। কাঁচা আম জেলি বা জ্যাম দুইটাই বানানো যায়। সকালের নাস্তায় বা বাচ্চার টিফিনে পাউরুটির সাথে দারুন জমবে কাঁচা আমের জেলি/ জ্যাম।

এই কাঁচা আমের জেলি বানানোর সময় ঘন করার জন্য আর্টিফিশিয়াল কোন উপাদান যেমনঃ চায়না গ্রাস বা আগার আগার পাউডার  মিশানো হয় নি। একদম প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি।

আজকের রেসিপিতে কাঁচা আমের জেলি ও জ্যাম দুইটার রেসিপিই পাবেন একসাথে।  

কাঁচা আমের জেলি ও জ্যাম তৈরির জন্য মোটামুটি একই পরিমানের উপকরন প্রয়োজন পড়বে। তবে জ্যাম ও জেলি বানানোর প্রক্রিয়াটা ভিন্ন। আপনাদের কাছে মনে হয়ে পারে জ্যাম ও জেলি তো একই জিনিস। এরজন্য আবার আলাদা রেসিপির কী দরকার। আসলে তা না, জ্যাম ও জেলি দুইটাই আলাদা। জ্যাম ও জেলির মধ্যে পার্থক্য হল – জেলি ফলের রস দিয়ে তৈরি করা হয়। আর জ্যাম তৈরি হয় ফলের রস ও ফলের অংশ দিয়ে।   

কাঁচা আমের জেলি ও জ্যাম বানানোর উপকরন

কাঁচা আম (মাঝারি) – ৪/৫ টি

চিনি – প্রতি ১ কাপ আমের রসের জন্য ১ কাপ পরিমান

পানি – ১ – ১.৫ কাপ

ফুড কালার – সামান্য

লেবুর রস – ১ চা চামচ   

কাঁচা আমের জেলি বানানোর প্রণালী

প্রথম ধাপঃ কাঁচা আমের রস তৈরি

** প্রথমে কাঁচা আমগুলোকে ভালভাবে ধুয়ে নিন। এরপর খোসা ছাড়িয়ে নিন।
** এখন ছোট ছোট টুকরা করে কেটে নিন।  একটি প্যানে আমের কাটা টুকরা ও পানি দিয়ে চুলায় জ্বাল করুন।

** কাঁচা আম পুরোপুরি নরম না হওয়া পর্যন্ত জ্বাল করতে হবে।

** যখন আম একদম নরম হয়ে যাবে তখন চুলা থেকে নামিয়ে নিন। ছাকনির সাহায্যে আম থেকে পানি ছেঁকে নিন।

** এটাই কাঁচা আমের রস। এখন এই রস মেজারিং কাপ দিয়ে মেপে নিন।

** সিদ্ধ আম দিয়ে চাটনি বানিয়ে নিতে পারবেন।

দ্বিতীয় ধাপঃ জেলি জ্বাল করা

** কাঁচা আমের রস মাপা হলে তা একটি হাড়িতে নিয়ে নিন।

** যত কাপ কাঁচা আমের রস হবে তত কাপ চিনি মেপে নিতে হবে।

** চিনি ও কাঁচা আমের রস একসাথে একটি কাঠি বা নাড়ানি দিয়ে নেড়ে নিন। এবারে চুলায় হাড়ি বসিয়ে জ্বাল করুন।

** চুলার জ্বাল মিডিয়ামে রাখতে হবে। মাঝে মাঝেই নেড়েচেড়ে দিতে হবে। না হলে চিনি জমাট বেঁধে যেতে পারে।

** চিনি গলে গেলে চুলার আঁচ কমিয়ে মিডিয়াম থেকে সামান্য কমিয়ে নিতে হবে।

** চিনি গলে গেলে লেবুর রস দিতে হবে। এই লেবুর রস দেয়ার কারনে জেলি ঠাণ্ডা হবার পরে চিনি দানা দানা হবে না। সামান্য ফুড কালার ( হলুদ বা সবুজ) মিশিয়ে নিন।

** এভাবে প্রায় ১৫-২০ মিনিট আরও জ্বাল করলে কাঁচা আমের রসটা কমে ঘন হয়ে আসবে।

** কাঁচা আমের রস ঘন হয়ে এলে হাতের আঙ্গুলের সাহায্যে চেক করে নিতে হবে। হাতের দুই আঙ্গুলে নিলে যদি একটি তারের মত হয়, তবে বুঝতে হবে জেলি হয়ে গেছে।

** কাঁচা আমের জেলি নামিয়েই একটি পরিস্কার কাচের বয়ামে ঢেলে নিন।

** বয়ামের মুখ খোলা রেখেই ঠাণ্ডা করে নিন। বয়ামের মুখে একটি জালি বা ঝাঁঝরি দিয়ে ঢেকে রাখুন।

কাঁচা আমের জ্যাম বানানোর প্রক্রিয়া

** জেলি বানানোর জন্য কাঁচা আমের ছোট টুকরা করে নিতে হবে। আর জ্যাম বানানোর জন্য করতে হবে আমের ঝুরি বা গ্রেট।

** এবারে একই পদ্ধতিতে গ্রেট করা কাঁচা আম পানি দিয়ে চুলায় চাপাতে হবে।

** আম একটু নরম হয়ে এলে এরমধ্যেই চিনি দিয়ে দিতে হবে। জ্যাম বানানোর জন্য জেলির থেকে একটু বেশি চিনি দেয়া যেতে পারে। জ্যাম বানাতে সিদ্ধ আম ছাঁকতে হবে না।

** লেবুর রস ও ফুড কালার মিশিয়ে নিন।

** মাঝে মাঝে নেড়ে নিতে হবে। আম ও চিনি যখন একসাথে মিশে ঘন থকথকে হয়ে আসবে তখন নামিয়ে বয়ামে ভরে নিন।   

** হয়ে গেল মজাদার কাঁচা আমের জ্যাম।

বয়াম পরিস্কারের টিপস

আচার বা জেলি জাতীয় জিনিস বানানোর আগেই কাঁচের বয়াম পরিস্কার ও জীবাণুমুক্ত করে রাখতে হবে। ডিশওয়াসার দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। এরপর একটি বড় হাড়িতে পানি নিয়ে তাতে বয়াম রেখে চুলায় ১৫-২০মিনিট ফুটিয়ে নিতে হবে। এই সময় কাঁচের বয়াম যেন পানিতে পুরোপুরি ডুবে থাকে সেটা খেয়াল রাখতে হবে। ফুটানোর পরে বয়াম ঠাণ্ডা হবার আগে সাবধানে নাড়াচাড়া করতে হবে। নাহলে ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

মন্তব্যসমূহ

নিজের পরিচয় দিতে গেলে সবার আগে বলব, আমি একজন মা। তার সাথে একজন হোমমেকার, শিক্ষক ও ব্লগার। লিখতে ভালবাসি। তার চাইতে ভালবাসি পড়তে, জানতে। এইতো! ছোট এক জীবনে অনেক কিছু, আলহামদুলিল্লাহ!!

মন্তব্য করুন