ইলিশের মাথা ও লেজের ২ ঘরোয়া রেসিপি

ইলিশের মাথা ও লেজের ২ ঘরোয়া রেসিপি

এখন সময়টা ইলিশের। অন্য সব মাছ থেকে ইলিশ মাছের স্বাদ ও গন্ধ অতুলনীয়। ইলিশ মাছ যে কতভাবে খাওয়া যায়, সেটা এক গবেষণার বিষয়। ইলিশ ভাজা, ইলিশ পাতুরি, ইলিশ পোলাও ,সর্ষে ইলিশ ইত্যাদি নানা ভাবেই মাছের রাজাকে আমরা খেয়ে থাকি। তবে এই রান্না গুলোতে ইলিশের মাথা ও লেজ সাধারণত রান্না করা হয় না। আবার অনেকে ইলিশের মাথা ও লেজ খেতে পছন্দ করেন না, কারন এতে কাঁটা বেশি থাকে। এরফলে ইলিশের মাথা ও লেজের জায়গা হয় ফ্রিজেই। আপনারা জানেন কি? এই ইলিশের লেজ ও মাথা দিয়ে অনেক রকম মজার রান্না করা যায়। ইউটিউবের কল্যানে এখন অনেকেই ইলিশের লেজ ও মাথার ভর্তা করতে জানেন। তবে এর বাইরেও অনেক রকম দাদি- নানির হাতের ইলিশের মাথা ও লেজের ঘরোয়া রান্না রয়েছে। এখনো আমাদের গ্রামের দিকের মানুষ ইলিশ মাছের লেজ ও মাথা দিয়ে নানা রকম মজার রান্না করে থাকে। সেইসব রান্না খুব সাধারণ কিন্তু স্বাদে অমৃত। 

 আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করবো এই বেচে যাওয়া ইলিশের মাথা ও লেজ দিয়ে কিভাবে মজাদার রান্না করা যায়। তবে চলুন দেখি নিই, রেসিপিগুলো।  

ইলিশের মাথা ও লেজের ২ ঘরোয়া রেসিপি

১. পুঁই শাক দিয়ে ইলিশের মাথা ও লেজ রেসিপি

 উপকরন

পুঁই শাক – ২ কাপ

পুঁই শাকের ডাঁটা – ১/২ কাপ  

ইলিশ মাছের মাথা – ১টি

ইলিশ মাছের লেজ – ১ টি

তেল – ২ টেবিল চামচ 

পেঁয়াজ কুচি – ১/৪ কাপ 

পেঁয়াজ বাটা – ২ চা চামচ 

রসুন কুচি/ বাটা – সামান্য (ঐচ্ছিক) 

লবন – স্বাদমত 

কাঁচামরিচ – ৪/৫ টি 

হলুদ গুঁড়া – ১/২ চা চামচ 

 প্রনালী

 ** প্রথমে ইলিশ মাছের মাথা খুব ভালভাবে পরিস্কার করে নিন। এরপর ছোট টুকরা করে কেটে নিন। ইলিশের লেজটাকেও ছোট টুকরা বা মাঝখান থেকে দুই ভাগ করে নিন।

** পুঁই শাক ও ডাঁটা আলাদা পাত্রে কেটে রাখুন। ভাল করে শাক ধুয়ে, ঝাঝরিতে পানি ঝরিয়ে নিন।

** এবারে রান্না করার পালা, একটা প্যানে তেল গরম করে নিন। 

** তেল গরম হয়ে এলে তাতে, পেঁয়াজ  দিন।

* পেঁয়াজ তেলে মজে এলে, পেঁয়াজ বাটা, রসুন বাটা ও সামান্য লবন দিয়ে ভালকরে কষিয়ে নিন। মসলা কাঁচা থাকলে খেতে ভাল লাগবে না। 

** পেঁয়াজ কসানো হলে সামান্য পানি দিয়ে হলুদ গুঁড়া দিন। 

** এখন এতে পুঁই শাকের ডাঁটা দিয়ে নেড়ে নিন। একটু ঢেকে রান্না করুন মিনিট পাঁচেক। ডাটা সিদ্ধ হতে সময় লাগে তাই ডাটা আগে দিতে হবে। 

** মিনিট পাঁচেক পরে ইলিশের লেজ ও মাথা দিয়ে একটু নেড়ে নিন। আর মিনিট ২-৩ রান্না করুন। 

** এখন এতে পুঁই শাক দিয়ে দিন, এখন আর ঢাকনা দেয়ার দরকার নাই। এতে শাকের সবুজ রংটা নস্ট হয়ে যাবে। 

** শাক একটু নরম হয়ে পানি বের হবার পরে লবন চেখে দেখে স্বাদমত লবন দিয়ে দিন। 

** নেড়েচেড়ে শাক সিদ্ধ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। 

** এখন পুঁই শাক সিদ্ধ হয়ে এলে কাঁচামরিচ দিয়ে মিনিট খানেক ঢেকে রেখে, চুলা বন্ধ করে দিন। 

** গরম ভাতের সাথে পরিবেশন করুন মজাদার এই ঘরোয়া পুঁই শাক দিয়ে ইলিশের মাথা ও লেজ রেসিপি। 

২.  ইলিশের মাথা ও লেজ  দিয়ে শাপলা রেসিপি 

উপকরন 

ইলিশের মাথা – ১টি

লেজ – ১টি 

শাপলার ডাটা – ২ আঁটি 

পেঁয়াজ কুচি – ১/৪ কাপ

রসুন কুচি – ১ চা চামচ 

পেঁয়াজ বাটা – ৩ টেবিল চামচ   

মরিচ গুঁড়া – ১/২ চা চামচ

হলুদ গুঁড়া – ১ চা চামচ 

ধনে ও জিরা গুঁড়া – ১/২ চা চামচ করে 

তেল – ৩ টেবিল চামচ 

লবন – স্বাদমত 

কাঁচামরিচ ফালি – ৮/১০ টি  

 প্রণালী 

** প্রথমে শাপলার ডাঁটা ছিলে নিতে হবে। এরপর ছোট টুকরা করে নিতে হবে। 

** এখন শাপলার ডাঁটা হালকা সিদ্ধ করে নিতে হবে। একটা পাত্রে পানি গরম করে নিন। পানি ফুটে উঠলে তাতে ১/২ চা চামচ বেকিং/ খাবার সোডা দিয়ে মিশিয়ে নিন। এই সময় শাপলার ডাঁটা দিয়ে মিনিট ২ এর মতো ফুটিয়ে নিন।পানি ঝরিয়ে নিন। শাপলার ডাঁটাতে কষ থাকে।এইভাবে সিদ্ধ করলে এই কষ চলে যায় ফলে রান্নার পরে শাপলার ডাঁটা কালো রঙ্গের হয়ে যায় না।

** এখন একটা প্যানে তেল গরম করে, পেঁয়াজ কুচি দিয়ে ভেজে নিন। 

** পেঁয়াজ একটু নরম হয়ে রসুন কুচি দিয়েও ভেজে নিন। এরপর পেঁয়াজ বাটা দিয়ে ভাল করে কষিয়ে নিন। অল্প লবন দিন। 

** এবারে গুঁড়া মশলা দেয়ার সময়। একে একে মরিচ, হলুদ, ধনে ও জিরা গুঁড়া দিয়ে নেড়ে সামান্য পানি দিয়ে দিন। ভালভাবে কষিয়ে নিন।   

** মশলা কষানো হলে ইলিশের লেজ ও মাথা দিয়ে কষিয়ে নিন। মাছের মাথা ও লেজ কষানো হলে কাঁচামরিচ দিয়ে ঢেকে দিন। 

** মাছ ভাল করে কষিয়ে সিদ্ধ হলে ঢাকনা খুলে সিদ্ধ করা শাপলা দিয়ে নেড়ে নিন। এইসময় ঢাকনা দেয়ার আর দরকার নেই। চুলার আঁচ বাড়িয়ে রান্না করুন ১২-১৫ মিনিট। আলাদা করে পানি দেয়ার দরকার নেই, শাপলা থেকে পানি বের হবে। এতেই শাপলা সিদ্ধ হয়ে যাবে। অল্প ঝোল থাকতে নামিয়ে নিন। 

** গরম ভাতের সাথে এই  ইলিশের মাথা ও লেজ দিয়ে শাপলা স্বাদে অসাধারন।    

মন্তব্যসমূহ

নিজের পরিচয় দিতে গেলে সবার আগে বলব, আমি একজন মা। তার সাথে একজন হোমমেকার, শিক্ষক ও ব্লগার। লিখতে ভালবাসি। তার চাইতে ভালবাসি পড়তে, জানতে। এইতো! ছোট এক জীবনে অনেক কিছু, আলহামদুলিল্লাহ!!

মন্তব্য করুন